• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নেত্রকোনার ৫৭ নদী ফসলের মাঠ

  বিশেষ প্রতিবেদক

০২ মার্চ ২০২৪, ১৮:৫৩
নেত্রকোনার ৫৭ নদী ফসলের মাঠ
পাহাড়ি ঢলে দেখা দিয়েছে নাব্যতা সঙ্কট অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নদীগুলো নদীতে হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ চাষাবাদ হয় লাউ-কুমড়াসহ নানান জাতের ফসল
সোমেশ্বরী, আত্রাখালিসহ জেলার সবকটি নদী খননের জন্য সমীক্ষা প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে নদীগুলোর খনন করা হবে। সারওয়ার জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড (নেত্রকোনা)

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নেত্রকোনার কংস, ধনু, মগড়া, সোমেশ্বরীসহ ছোটবড় ৫৭টি নদী। নদীর নাব্যতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে ফসলের মাঠে। কোনো কোনো নদী ধুধু বালুচর। নিয়মিত খননের অভাবে এসব নদীতে জেগে উঠেছে চর। নদীর নব্যতা হারানোতে জেলেরা হারাচ্ছে কর্মসংস্থান অন্য দিকে নদীতে পানি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশও পড়েছে হুমকির মুখে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার সবকটি নদী খননের জন্য সমীক্ষা প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে নদীগুলোর খনন করা হবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড।

১৮৯৭ সালে ১২ জুন সোমবার এক ভূমিকম্পের পর জেলার বড় বড় কয়েকটি নদী বিলুপ্তির পথ ধরে বর্তমানে নেত্রকোনার ছোটবড় ৫৭টি নদী অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা বালি ও পলিতে ভরাট হওয়া নদীগুলো এখন প্রায় মৃত। খননের অভাবে জেলার কংস, সোমেশ্বরী, মগড়া, ধনুসহ প্রায় সবকটা নদীতে চলছে ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজির আবাদ। এক সময়ের খরস্রোতা নদী এখন পরিণত হয়েছে ফসলের মাঠে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় প্রতি বছর আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ফসল। এ ছাড়াও কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

বারহাট্টা উপজেলার চল্লিশকাহনীয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ফকির জানান, কংস মগড়া ধনু নদীতে আজকাল পানি নেই বললেই চলে। যেভাবে নদীগুলো ভরে যাচ্ছে তাতে আগামী এক দশকে অস্তিত্ব বিলীন হবে সবকটা নদীর। জেলার প্রতিটি নদী খনন করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার কুমারপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন, নওয়াপাড়ার খালটি এখন স্থানীয়রা দখল করে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করছে। কেউ দেখছে না। এ কারণে বিলের পানি সময়মত নামছে না। বোরো মৌসুমে সঠিক সময়ে ধান রোপণ করা যায় না। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

নেত্রকোনা সদর লক্ষীগঞ্জ এলাকার ডা. মো. মানিক মিয়া বলেন, লক্ষ্মীপুর এলাকার মগড়া নদীর বুকে এখন বোরোর চাষাবাদ হয়। বাদাম, লাউ কুমড়াসহ নানান জাতের শাকসবজিও হচ্ছে। এখন আর একে কেউ নদী বলবে না। ফসলের মাঠ হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার বোবাহালা গ্রামের আ. রাজ্জাক বলেন, আমার বয়স ৫০ বছর। আমি ছোটকালে দেখছি দুর্গাপুর থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী নদী দিয়ে ধান ও পাটের বড় বড় নৌকা ও কার্গো এক কথায় নদী পথে বিভিন্ন হাট বাজার ও বন্দর পর্যন্ত যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম ছিল। এখন খেলার মাঠ হয়ে গেছে।

কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সেওড়াগঞ্জ গ্রামের রমজান আলী জানান, দুর্গাপুরের খরস্রোতা সোমেশ্বরী ও আত্রাখালি নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এমনকি বিখ্যাত সুস্বাদু মহাশোল মাছ পাওয়া যেত। প্রবহমান কংস, সোমেশ্বরী ও আত্রাখালি নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষক নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে হাজার হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ করতো।

তিনি আরও জানান, এ নদ-নদী বালি ও পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী নাব্যতা হারিয়েছে, মাছের অবাধ বিচরণ বন্ধ হয়ে গেছে, সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে, নদী ভরাট হবার কারণে অকালে বন্যায় ফসল বিনষ্টসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

পাহাড়ি ঢলে নদীর নাব্যতা হারিয়েছে স্বীকার করে সোমেশ্বরী, আত্রাখালিসহ জেলার সবক’টি নদী খননের জন্য সমীক্ষা প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে নদীগুলোর খনন করা হবে বলে জানান নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড