• বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ১৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাজশাহী-রংপুরে আন্দোলনে রিডাররা, ভূতুরে বিলের শংকায় ১২ লাখ গ্রাহক

  কাজী কামাল হোসেন, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী

৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৪৬
ভূতুরে বিল

চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় আন্দোলন করছেন নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী -নেসকোর পিচরেট কর্মচারীরা। এতে চলতি মাসে প্রায় ১২ লাখ বিদ্যুৎ গ্রহকের মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ ও বিল বিতরণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিল প্রস্তুত না হওয়ায় সংকট ও ভূতুরে বিলের শংকা তৈরী হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আছে ৫৫ টি অফিস। এসব অফিসের অধীনে পিচরেট কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত’শ। এক দফা দাবিতে তারা পিচরেট ঐক্য পরিষদের ব্যানারে স্ব-স্ব অফিসের সামনে কর্মবিরতির আন্দোলন শুরু করেন ১৫ জানুয়ারি থেকে। এখনও তাদের দাবির বিষয়ে কোন সদুত্তর মিলেনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার নওগাঁর আরজি এলাকায় নেসকোর প্রধান বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান কর্মসূচীতে যোগ দেন পার্শবর্তী বগুড়া, জয়পুরহাট, নাটোরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় নওগাঁ উত্তর অফিসের অধীন কর্মরত মিটার রিডার মতলুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর যাবত তিনি বিদ্যুতের মিটার রিডার ও বিল বিতরণের কাজ করে আসছেন। শুরুতে পিডিবি ও পরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নেসকোতে শ্রম দিচ্ছেন। ইতোপূর্বে উপড় মহল থেকে চাকুরী স্থায়ীকরণের একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কর্তৃপক্ষ তাকে নিযোগ প্রদান করেনি।

তিনি জানান, পিচরেট কর্মচারীরা কাজের বিনিময়ে মজুরি পান। গ্রাহকের রিডিং সংগ্রহের জন্য জেলা পর্যায়ে প্রতি মিটারের জন্য ৫ টাকা ৭০ পয়সা ও বিল বিতরনের জন্য সাড়ে ৩ টাকা হারে প্রদান করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে মিটার প্রতি ৬ টাকা ৫০ পয়সা ও বিল বিতরনের জন্য দেয়া হয় ৪ টাকা।

পিচরেট কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। ইতোপূর্বে নেসকোর পিচরেট তালিকা অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিয়োগ দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম আবারো তাদের চাকুরি স্থায়ী করনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন- ইতেমধ্যেই বগুড়াসহ বেশ কয়েক জেলায় নেসকো প্রায় ৩শ পিচরেট কর্মর্মিকে চাকুরীচ্যুত করেছে। এখন তারা বেকার হয়ে পরেছেন। ফলে তাদের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। চাকুরী হারানোর ভয়ে আছেন বাঁকিরা। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন- রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় নেসকোর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক পর্যায়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১২ লাখ গ্রহক আগের মিটার ব্যবহার করছেন। কর্মবিরতির ফলে চলতি মাসে এসব মিটারের রিডিং সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ আছে। বিল প্রস্তুত হয়নি। ফলে আগামী মাসে এসব গ্রাহকের কাছে ভূতুরে বিল দেয়ার শংকা তৈরী হয়েছে। এতে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হবেন।

তিনি বলেন, আমাদেরও একদফার দাবি নিয়ে গতকাল রোববার রাজশাহীতে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলামের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। তাই আমরা আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রেখে আনোদলন চালিয়ে যাচ্ছি।

মাঠ পর্যায়ে বিল প্রস্তুত করণের বিষয়ে জানতে চাইলে নেসকোর নওগাঁ দক্ষিণ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিলন মাহমুদ ও নওগাঁ উত্তর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিমুল হক বলেন- প্রতি মাসের ২০ তারিখ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে রিডাররা তথ্য সরবরাহ করে থাকেন। সে অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু রিডাররা কর্মবিরতিতে থাকায় চলতি মাসে সেই কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী মাসের বিল প্রস্তুত ও বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে। তবে, তারা বলেন, এখনো রিডিং দেখার সময় যায়নি। আমরা আশা করছি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে জানতে আজ সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীরা আমাদের (নেসকোর) কর্মচারীরা না। তারা মিটার দেখে বিল করে দেয় এর জন্য তারা টাকা পায়। এক্ষেত্রে তাদের চাকরী দেয়ার কোন সুযোগ নাই। এটা আমার ক্ষমতার বাইরে। গত ৩০ বছর ধরে এভাইে চলে আসছে। আমার বোর্ডেও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না তাদের চাকরী দেওয়ার ক্ষেত্রে। গতকাল রোববার আন্দোলকারীরা রাজশাহীতে এসেছিলেন। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি যে, আউট সোর্সিংয়ের ঠিকাদারের মাধ্যমে কিছু কিছু চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করি। সে ক্ষেত্রে কিছু লোককে চাকরি দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, আন্দোলকারীরা যে দাবী করছে তা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হলে ভিন্ন কথা, কিন্তু নেসকো বা নেসকো বোর্ডের পক্ষে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব না।

এ মাসে মিটার রিডিং না দেখে বিল করলে ভৌতিক বিলের সম্ভাবনা আছে এ ধরনের প্রশ্ন করা হলে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, সবাই তো আর আন্দোলন করছে না। তারা মিটার দেখছে। এছাড়া, আমরা আমাদের নিজস্ব তত্বাবধানে মিটার রিডিং করার চেষ্ঠা করছি। এক্ষেত্রে ভৌতিক বিল আসার কোন সম্ভাবনা নাই। আর আমার সাথে গতকাল যেভাবে কথা হয়েছে তাতে তারা আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে যোগদান করবে বলে আমার বিশ^াস। কারন আমি তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে তাদের এই দাবি বাস্তবায়ন করা আমার বা নেসকো বোর্ডের পক্ষে সম্ভব নয়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড