• বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ১৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভৈরবে ১ বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৭১ জনের মৃত্যু

  নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

২১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৪:৫৭
ট্রেনে কাটা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন ও থানাধীন এলাকায় গেল এক বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী পুরুষ ও শিশুসহ ৭১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ, ১৭ জন নারী ও ৫ জন শিশু। নিহতদের অধিকাংশই অজ্ঞাত। এসকল মৃত্যুর ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় ৭১টি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে বলে জানায় রেলওয়ে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পৃথক পৃথক ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশু সহ মোট ৭১ জন রেলে কাটা পড়ে মারা যায়। নিহতদের অধিকাংশই অজ্ঞাত। ভৈরব-টঙ্গী, ভৈরব-সরারচর রেল পথের বিভিন্ন এলাকায় গত ১২ মাসে অসতর্কতার কারণে উল্লেখিতরা ট্রেনে কাটা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বরণ করেন। নিহতদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ভৈরব রেলওয়ে থানাধীন ভৈরব-টঙ্গী ৭০ কিলোমিটার ও ভৈরব-সরারচর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার রেলপথ। ভৈরব রেলওয়ে থানা সীমানায় রয়েছে মোট ১৯টি রেলওয়ে স্টেশন। এ পর্যন্ত যারা মারা গেছে তারা চলন্ত ট্রেনে উঠানামা, রেলপথ পারপার, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণরত যাত্রী, দুই বগীর সংযোগ স্থলে বসে যাতায়াত কিংবা ট্রেনের দরজার হাতলে ঝুলন্ত অবস্থায় যাতায়াতকালে অসাবধানতা বশত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এ সকল মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করলেও এইসব স্টেশন থেকে বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী ট্রেনের বগী স্বল্পতার কারনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করায় এসকল মৃত্যু হয়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইউছুফ আলী মোল্লা জানান, ট্রেন আসার আগ মুহুর্তে অপেক্ষমান যাত্রীদের উদ্দেশ্যে স্টেশনে মাইকিং করে জানানো হয় যাত্রীরা যেন রেলাইন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। রেল লাইন পারাপারের সময় ওভারব্রীজ ব্যবহার করে। চলন্ত অবস্থায় ট্রেন থেকে নামতে গিয়েও অনেকেই ট্রেনে কাটা পড়েন। এছাড়াও বিরতিহীন ট্রেন থেকে ধীরগতী অবস্থায় যাত্রীদের অনেকেই এ স্টেশনে উঠানামা করতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনে উঠা নামা মোটেই উচিৎ নয়। রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ সব সময়ই যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সতর্কতা মূলক প্রচারণা করে থাকে।

ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ইন্সপেক্টর এস এম তাজবীর জানায়, রেল ভ্রমণে যাত্রীরা যেন ট্রেনের ছাদে, ইঞ্জিনে, কিংবা দুই বগীর সংযোগস্থলে বসে যাতায়াত না করে সেজন্য আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকি। দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন আসার আগ মুহুর্তে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাইরেন বাজিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে থাকে। অসতর্কতাবস্থায় যাত্রীদের রেল লাইন পারাপার কিংবা ট্রেনে উঠানামা করতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলীম সিকদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রেল ভ্রমণের দায়ে রেলওয়ে পুলিশ আর্থিক জরিমানা করে আদালতে সোপর্দ করলেও পরবর্তীতে তারা বেরিয়ে এসে পুনরায় ওই পথই বেছে নেয়। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা ত্যাগ এবং স্টেশনে স্টপিজ নেই এমন ট্রেনে ভ্রমণ না করাসহ ওভারব্রীজ ব্যবহার করা হলে ওই সকল অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। ট্রেনের বগীর ভিতরে বসে যাতায়াত ব্যতিত ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ অনেকটা রোধ করা গেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর অপমৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে। ২০২৩ সালে ৭১টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসকল অপমৃত্যুর ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় ৭১টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড