• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রোদ পোহাতে গিয়ে বয়লার বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও:

০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:৫৮
বয়লার বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দাসপাড়ায় হাস্কিং মিলের বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শিশু ও এক মহিলা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়েনের পল্লী বিদ্যুৎ বাজারের পশ্চিমে দাসপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ।

নিহতরা হলেন- দাস পাড়া গ্রামের সাগর দাসের স্ত্রী দীপ্তি দাস (৪০) ও মেয়ে পুজা (১১), উমাকান্ত দাসের ছেলে পলক দাস (১২) । এছাড়াও এ ঘটনায় পলকের বাবা উমাকান্ত দাস গুরুত্বর আহত হন। তাকে ঠাকুরগাঁও জেনারলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালবেলা বাড়ির পাশে নিহতরা রোদ পোহাচ্ছিলেন। এসময় রাস্তার অপরদিকে অবস্থিত হাস্কিং মিলের বয়লার বিস্ফোরণ হয়। এতে বয়লারের ট্যাংকি উড়ে গিয়ে তাদের উপরে পরে এবং প্রায় দেড়’শ গজ দুরে তাদেরসহ ট্যাংকিটি একটি মন্দিরের চালায় গিয়ে ছিটকে পরে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান ও একজন আহত হন এবং মন্দিরটির চালা ভেঙ্গে পরে। খরব পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের দল।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা, র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের টিম পরিশর্দন করেছেন। এছাড়াও ঘটনাস্থলে অনেক দূরদুরান্ত থেকে ছুটে এসে ভিড় করছেন অনেক মানুষ।

নিহতের স্বজন ধৈর্য্য, শিখা রাণীসহ প্রতিবেশীরা অভিযোগ করে বলেন, মিলটি অনেক পুরানো হওয়ায় দীর্ঘ দিন থেকে মিল মালিক সাইদুর রহমানকে মিল মেরামত করার কথা জানালেও তিনি মেরামত করেননি। সেই কারণে আজকে এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা এঘটনার বিচার দাবি করে অতিসত্তোর মিলটিকে মহাসড়কের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে নিতে অথবা মিলটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান। নয় পরবর্তীতে আবারও কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ঘটনাস্থলে আসা অন্যান্য হাস্কিং মিলের অভিজ্ঞ মিস্ত্রী জমসেদ আলী, অসচেতনতার জন্য এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, বয়লারে আগুন দেওয়ার সময় গ্যাস ভাল্ব গুলো চেক করে নেওয়া উচিত। এখানকার শ্রমিক বা মিস্ত্রী হয়তো ভাল্ব গুলো চেক করেনি। হয়তো দুইট ভাল্ববেই বন্ধ ছিল তাই বয়লারে অতিরিক্ত গ্যাস জমা হয়ে বিস্ফোরণ হয়েছে। একটি ভাল্ব খোলা থাকলে এমনটা হতো না।

এছাড়াও ইসমাইল হোসেন বলেন, এখানকার শ্রমিকরা বলে বয়লার চালু করে দিয়ে পাশের দোকানে চা খেতে থেকে চলে যায়। আর এইদিকে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপে বয়লার বিস্ফোরণ হয়। এতে মালিকের কোন দোষ নেই এটি শ্রমিকদের ভুলের কারণে হতে পারে।

এঘটনায় খোঁজ নিয়েও মিল মালিক বা কোন শ্রমিকে পাওয়া যায়নি সেখানে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। তদন্তে কোন ব্যতয় উঠে আসলে সে অনুযায়ী আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়াও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড