• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পটুয়াখালীর ৮ উপজেলায় ১ জন ডেন্টাল সার্জন, ঝুঁকিতে প্রান্তিক রোগিরা

  রিপন দাস, পটুয়াখালী:

২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৬:৫৭
ডেন্টাল সার্জন

পটুয়াখালীর উপজেলাগুলোতে সরকারিভাবে মুখ ও দাতের চিকিৎসা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দীর্ঘদিন যাবৎ নেই ডেন্টাল সার্জন। এমনকি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেকনিশিয়ান দিয়েই চলছে দাত ও মাড়ির মতো সংবেদনশীল রোগের চিকিৎসা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পটুয়াখালী ৮ টি উপজেলার ৭ টিতেই নেই কোন ডেন্টাল সার্জন। এ ছাড়া উপজেলায় পোস্টিং পাওয়া ডেন্টাল সার্জনরা চলে যান ডেপুটেশনে। এ সুযোগে তথাকথিত হাতুড়ে ডাক্তাররা চেম্বার খুলে মনগড়া চিকিৎসা দিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জটিল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে প্রান্তিক সাধারণ মানুষকে।জানা গেছে প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে ডেন্টাল সার্জন থাকার কথা থাকলেও পদ শূন্য রয়েছে বছরের পর বছর।এছাড়া মির্জাগঞ্জ উপজেলার ডেন্টাল সার্জন ডেপুটেশনে ডিউটি করছেন দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

এ দিকে গ্রামের মানুষ মুখ ও দাতের চিকিৎসায় সরকারি সেবা না পেয়ে হাতুড়ে দাতের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, মফস্বলে দাঁতের চিকিৎসায় হাতুড়ে ডাক্তাররা সঠিক জ্ঞানের অভাবে বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নেন। হাতুড়ে ডাক্তাররা ফিলিং ও নকল দাঁত তৈরিতে সাধারণত ব্যবহার করেন সেল্ফ কিউর রেজিন নামে এক ধরনের উপাদান যা মূলত এক ধরনের প্ল্যাস্টিক আইটেম। সুবিধা হচ্ছে, এই উপকরণটি দিয়ে তারা অল্প সময়ে নকল দাঁত তৈরি বা ফিলিং করে দিতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এটা দীর্ঘ সময় ধরে মুখে থাকার কারণে এর থেকে ক্যান্সার হওযার আশঙ্কা থাকে।’

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ‘তারা দাঁতের গোড়া অবশ করতে ইথাইল ক্লোরাইড অথবা ফরমাল ডিহাইড নামের কেমিক্যাল ব্যবহার করেন, যা মুখের টিস্যুগুলোকে বার্ন করে দেয়। এর থেকে প্রথমে ঘা হয়, পরে সেখানে ক্যান্সার হয়।’

বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বুলবুল জানান, একেকটি উপজেলায় বসবাসরত জনসংখ্যার জন্য মাত্র একজন ডেন্টাল সার্জন এটা খুবই অপ্রতুল। সে পদটিও থাকে বছরের পর বছর শুন্য। সেই সুযোগে কোয়াক ডাক্তাররা চেম্বার খুলে দাত ও মারির মতো সংবেদনশীল চিকিৎসা প্রদান করে থাকে। ফলে কৃত্রিম দাঁত প্রতিস্থাপন, স্কিলিং, ফিলিং, দাঁত ও মাড়ির রোগের চিকিৎসায় এসব হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। আর এই ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে।

এছাড়া গ্রামের ডায়াবেটিকস রোগীদের পেরিডেন্টাল ডিজিসের ঝুঁকি খুব বেশি। তাদের দাঁতের গোড়া বা মাঁড়িতে নানা সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই ধরনের রোগী যখন গ্রামে চিকিৎসা না পেয়ে শহরে আসে ততদিনে অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়।

এ বিষয়ে সরকারকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহবান জানান অধ্যাপক ডা: হুমায়ুন কবির বুলবুল। পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা: এস এম কবির হাসান জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই মুহুর্তে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজেও কোনো ডেন্টাল সার্জন নেই। জেলার ৮ টি উপজেলায় মাত্র একজন ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। প্রান্তিক সাধারণ মানুষকে সরকারি ভাবে এই সেবা দিতে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। শিঘ্রই নতুন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলায়ই বিডিএস ডাক্তার পাবো বলে আাশা ব্যক্ত করেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড