• সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের অপেক্ষায় নরসিংদীবাসী

  মনিরুজ্জামান মনির, নরসিংদী

০২ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০৬
প্রয়াত লোকমান
প্রয়াত মেয়র লোকমান। ছবি- সংগৃহীত

গতকাল (১ নভেম্বর) নরসিংদীর জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেনের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল । মেয়র লোকমান ছিলেন এ যাবৎকালের নরসিংদী পৌরসভার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল মেয়র। পাশাপাশি তৎকালীন নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র লোকমান ছিলেন একজন জননন্দিত সফল রাজনৈতিক ব্যক্তি। জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ছিলেন নরসিংদী পৌরবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক। তাই তাকে সাধারণ মানুষ ভালোবেসে জনবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। আধুনিক নরসিংদীর রূপকার এবং নরসিংদীবাসীর আস্থার কেন্দ্রস্থল মেয়র লোকমান হোসেনের জনপ্রিয়তাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।

২০১১ সালের ১ নভেম্বর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন মেয়র লোকমান। নরসিংদীর এই স্বপ্নদ্রষ্টার মৃত্যুর খবরে থমকে যায় গোটা নরসিংদী। দীর্ঘ ১২ বছর অতিবাহিত হলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচারকার্য থমকে আছে এক অদৃশ্য ছোঁয়ায়। আসামিদের সবাই জামিনে মুক্ত রয়েছে।

মেয়র লোকমান হত্যাকান্ডের পর তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান কামরুল বাদী হয়ে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু’র ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েক করেন। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের বিচার কাজ এখনো থমকে আছে।

লোকমান হত্যার ১২ বছর পর নরসিংদীবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন বার বার উকি দিচ্ছে মেয়র লোকমান হত্যাকান্ডের বিচার কি আদৌ হবে?

মেয়র লোকমান হত্যা পর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল। প্রায় আট মাস তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৪ জুন প্রধান আসামী সালাহউদ্দিন বাচ্চুসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী কামরুজ্জামান। আদালত ওই বছরের ২৫ জুলাই নারাজি আবেদন খারিজ করে অভিযোগপত্র বহাল রাখেন। এরপর একই বছর ২৮ আগস্ট নারাজি খারিজের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী। পরে ২ সেপ্টেম্বর আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে ৪ নভেম্বর শুনানি শেষে আবার নারাজি আবেদন খারিজ করেন। এরপর উচ্চ আদালতে যান বাদী। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে রিট পিটিশন করেন বাদী। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পাওয়া আসামিরা সুপ্রিম কোটের আপিল বিভাগে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।

এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শুনানির অপেক্ষায় থাকার পর আদালত ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আসামিদের করা রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে বাদীর নারাজি আবেদন গ্রহণ করতে এবং বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।

২০১৯ সালের ২৫ জুন দুপুরে নরসিংদী জজ আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রকিবুল ইসলাম শুধু বাদী কামরুলের জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্ত শেষ করে দেন। পরে বাদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে আদালতের কার্যক্রমে আসে স্থবিরতা । দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে বাদীর নারাজি ও রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের জুডিশিয়াল তদন্ত ও পুনরায় সাক্ষী গনের সাক্ষ্য গ্রহণ চলমান রাখেন।

ইতোমধ্যে মেয়র লোকমান হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আবদুল মতিন সরকার মারা গেছেন।

এ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আসাদ আলী বলেন, ‘উচ্চ আদালতের এক আদেশে আসামিদের করা রিট পিটিশন নিষ্পত্তি করে বাদীর দায়ের করা নারাজি আবেদন গ্রহণ করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মো. কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি সঠিক ছিল না। সেখানে অভিযুক্ত ১৪ আসামির মধ্যে ১১ আসামির নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। যত দিন পর্যন্ত এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় না আনা হবে, ততদিন আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’ সত্যের জয় একদিন হবেই ইনশাআল্লাহ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড