• রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এমপিওভুক্ত করণের দাবি

কাপ্তাইয়ের দুর্গম বিদ্যালয়টিতে বিনা বেতনে ছাত্রদের পড়ান শিক্ষকরা

  মো. কবির হোসেন, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি)

০৯ জুন ২০২৩, ১৪:৫৩
কাপ্তাইয়ের দুর্গম বিদ্যালয়টিতে বিনা বেতনে ছাত্রদের পড়ান শিক্ষকরা
হরিনছড়া উচ্চ বিদ্যালয় (ছবি : অধিকার)

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম হরিণছড়া অসহায় গ্রাম-পাড়ারবাসীর অর্থ দিয়ে বিনা বেতনে চলে উচ্চ বিদ্যালয়। কাপ্তাই ৪ নম্বর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডে বেচারাম কার্বারী পাড়ায় অবস্থিত হরিণছড়া উচ্চ বিদ্যালয়।

স্থানীয় পাহাড়ি পল্লীর গ্রামবাসীর আয়োজনে ২০২২ সালে টিনের ছাদ ও বেড়া দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। দুর্গম হরিণছড়া এলাকায় প্রাইমারি স্কুল থাকলেও নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ঐ এলাকা হতে কাপ্তাই আসার দূরত্ব প্রায় ১৫ কি. মি.। আসতে হয় উঁচু-নিচু পাহাড় ডিঙ্গিয়ে নদীতে পথে।

প্রাইমারি পাশ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়া লেখা করার সদিচ্ছা থাকলেও দূরত্ব কারণে তা হয়ে উঠে না। অনেকে প্রাইমারি পাশ করার পর ঝড়ে পড়ে। ২৯ জন শিক্ষার্থী এবং ছয়জন শিক্ষক একজন অফিস সহায়ক দিয়ে শুরু হয় স্কুলের পাঠদান। চলতি বছর ২০২৩ সালের জানুয়ারি হতে ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়।

হরিণছড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিশির কান্তি তনচঞ্চ্যা জানান, স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয় নাই, তাই আমরা এলাকার শিক্ষা বিস্তারের কথা চিন্তা করে বিনা বেতনে এখানে শিক্ষকতা করছি। এখানকার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী গরীব তাই মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা যত সামান্য যা বেতন দেয়, তা দিয়ে আমরা চেয়ার টেবিল এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য খরচাদি বহন করি। স্কুলটি এমপিওভুক্ত করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বসন্ত কুমার কার্বারী জানান, দুর্গম এ জনপদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে কোনো মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তাই এই এলাকার ছেলে মেয়েরা ৫ম শ্রেণির পর অনেক দূরে গিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বা হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করে আসছেন। আবার আর্থিক অনটনের কারণে অনেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আর পড়ালেখা করেন না। তাই আমরা এলাকার শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ স্থানীয় উদ্যোগে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করি। যেখানে এখনো পর্যন্ত শিক্ষকদের কোনো বেতন আমরা দিতে পারি নাই।

তিনি আরও জানান, হরিনছড়া মুখ, ভাঙামুড়া, পাংখোয়া পাড়া, বেচারাম কার্বারী পাড়া, নবীন মেম্বার পাড়া হতে প্রায় ৪-৫ কি. মি. পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসেন পড়তে। তাই সরকারি সাহায্য ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই।

৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, এখানে সরকারি দুইটা প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখানে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় ছিলোনা। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আমরা অনেক দিন ধরে চেষ্টার ফলে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখানে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু করেছি। দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে এই বিদ্যালয়টি এমপিও করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে জানান, অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় এই প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী দুর্গম এলাকায় যাতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও প্রসারিত হতে পারে সেই বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক। তাই কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে যাতে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হতে পারে সেই জন্য সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড