• মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুরবানির জন্য প্রস্তুত সাভারের ৪০ হাজার গবাদিপশু

  মো. শাকিল শেখ, আশুলিয়া (ঢাকা)

০৮ জুন ২০২৩, ১৫:২৬
কুরবানির জন্য প্রস্তুত সাভারের ৪০ হাজার গবাদিপশু
কুরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদিপশু (ছবি : অধিকার)

পবিত্র কুরবানির ইদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজা করণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাভার ও আশুলিয়ায় খামারিরা। প্রান্তিকসহ অধিকাংশ বড় খামারের পশুগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে বাজারে তোলার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে অনেকে তাদের পশু বাজারে তুলেছেনও। এবার পশুর দাম বেশি হওয়ায় লাভের পরিমাণ কম হবে। তবে শেষ মুহূর্তে ভারতীয় গরু না ঢুকলে বেচাকেনা ভালোই হবে বলে জানান খামারিরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সকালে সরজমিনে দেখা যায়, আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন দক্ষিণ গাজিরচট দুদু মার্কেট এলাকার আবুল হোসাইন পরিচালিত আয়েশা এগ্রো ফার্মে গবাদি পশু কেনা-বেচার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। হাটের ঝামেলা এড়িয়ে সুস্থ সবল উন্নত জাতের গরুর কারণে ইতোমধ্যে এই ফার্ম দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও এ ফার্মের গরুগুলো ক্ষতিকারক ক্যামিকেল মুক্ত ও কোনো প্রকার ইনজেকশন প্রদান না করে দেশীয় খাবার খরকুটা, ভুষি, কুরা ও ঘাস খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়ে থাকে। এই কারণে কুরবানির ইদে এ ফার্মের গরুগুলোর চাহিদা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি।

জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও আশুলিয়ায় কুরবানির ইদকে কেন্দ্র করে অর্গানিক পদ্ধতিতে আবুল হোসাইন পরিচালিত আয়েশা এগ্রো ফার্মে তোলা হয়েছে সঠিক ওজনের নিশ্চয়তা, দামে সাশ্রয়ী, ঝামেলা মুক্ত পরিবেশে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের উন্নতমানের দেশি-বিদেশি জাতের পাকিস্তানি শাহীওয়াল, হলস্টেইন ফিজিয়ানসহ প্রস্তুত করেছেন ৫০টি গরু।

দুই লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকার অধিক দামের গরু পাওয়া যাবে এই ফার্মে। এ বছর আয়েশা এগ্রো ফার্মে খামারি আবুল হোসাইন নতুন সংযোজন করেছে মহিষের খামার। নিজের তৈরি করা মহিষের খামারে তৈরি করেছেন মহিষের গোসলের জন্য পুকুর। যারা জায়গার অভাবে পশু কেনার পর ইদ পর্যন্ত লালন-পালন করতে পারবে না তাদের জন্য এই ফার্মে লালন-পালনের সুযোগ সুবিধাও রয়েছে।

খামারে কর্মরত শ্রমিকরা জানান- খড়, ভুষিও ঘাস খাওয়াইয়ে এক বছর লালন-পালনের পর গরুগুলোকে কোরবানির ঈদে বিক্রি করেন তারা। তাই এ ফার্মে কুরবানির ইদে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের উপচে-পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

আয়েশা এগ্রো ফার্মের এক কর্মচারী বলেন, আমি ১৬ বছর ধরে এই খামারে কাজ করে আসছি। এখান থেকে অনেকের বেকার সমস্যা লাঘব হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে কাজ করি। এখান থেকে যে টাকা পাই তা দিয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে দিন যাপন করে আসছি। আমরা গরুগুলোকে সঠিক সময় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়াই ও দেখাশোনা করে থাকি। যাতে কুরবানির ইদে গরুগুলোকে ভালো মূল্যে বিক্রি করা যায়। এছাড়াও এ ফার্মের গরুগুলোর কোনো সমস্যা দেখা দিলে উপজেলার চিকিৎসকের দ্বারা আমরা চিকিৎসা দিয়ে থাকি।

আয়েশা এগ্রো ফার্মে গরু কিনতে আসা ক্রেতা আজিজ বলেন, আমি ও আমার পরিচিত জনেরা নিয়মিত এ ফার্ম থেকে কুরবানির পশু কিনতেছি তাই এবারও আগে ভাগেই কিনতে চলে আসলাম। কারণ এখানে স্বাস্থ্যসম্মত উন্নত জাতের মোটাতাজা গরু পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছরই এ ফার্মের গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাট থেকে গরু কিনতে গেলেই ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরুগুলোকে মোটাতাজা করণ ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে কি না এটা গরু দেখেই বুঝার উপায় নেই। কোরবানির প্রথম শর্ত হলো সুস্থ সবল গরু কুরবানি দেয়া। এছাড়া গত বছর যেহেতু এ ফার্ম থেকে গরু কিনে মাংস ভালোই পেয়েছি। তাই এবারও কিনতে এসেছি।

এ ব্যাপারে আয়েশা এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসাইন বলেন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে খামার মনিটরিং করে থাকি। কোনো গুরু অসুস্থ হলে সাথে সাথেই পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেই। আমাদের ফার্মে কাস্টমারদের কথা বিবেচনা করে কোরবানির জন্য গরু লালনপালন করেছি। ক্রেতার তার সাধ্য অনুযায়ী এই খামারে ছোট থেকে বড় সাইজের গুরু আছে। যা তারা খুব সহজে ক্রয় করতে পারবে। খামারে গরু বেশি দামেরও আছে, কম দামেরও আছে এবং কি মাঝারি দামেরও আছে। এবছর অনেক গুলো গরু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গরু বিক্রিও করেছি।

তিনি আরও বলেন, ন্যাচারাল খাবারের মাধ্যমে গরুগুলোকে মোটাতাজা করা হয়েছে। আয়েশা এগ্রো ফার্ম সবার জন্যই উন্মুক্ত যে আসে সেই দেখতে পারে কি খাওয়াচ্ছি, কিভাবে লালনপালন করে থাকি। আসলে আমাদের বাড়িতে ১টা গরু যেভাবে পালন করা হতো ঠিক ঐ পদ্ধতিতেই গরু পালন করা হয়।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম শিপলু মুঠোফোনে জানান, আসন্ন ইদুল আযহা আমাদের দুয়ার কাড়া নাড়ছে। এবছর সাভার উপজেলায় প্রায়ই সাড়ে তিন হাজার খামারে ৪০ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এসব গরু পালনে তাদের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে খামারিদের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা খামারিদের নিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক করেছেন। ইদে নিরাপদ মাংস যাতে মানুষ পায়, সে জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড