• সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লোডশেডিংকে পুঁজি করে বাড়তি অর্থ হাতাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা

বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা

  মোস্তাকিম আল রাব্বি সাকিব, মনিরামপুর (যশোর)

০৭ জুন ২০২৩, ১৬:৩৫
লোডশেডিংকে পুঁজি করে বাড়তি অর্থ হাতাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা

ভীষণ গরমে নাভিশ্বাসের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে গরম থেকে জীবন বাঁচানো যেন হয়ে উঠেছে দুঃসাধ্য। দিনে রাতে দফায় দফায় থাকছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফলে গরমে দম বন্ধ অবস্থার মধ্যে পড়ছেন মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে গরম থেকে জীবন বাঁচতে চার্জার ফ্যান, ব্যাটারি কিনছেন বহু মানুষ। ইলেকট্রনিক্স দোকানে তাই ভিড় বেড়েছে। চাহিদা বাড়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ বুধবার যশোরের মনিরামপুর পৌর শহরের ইলেকট্রনিক্স পণ্য সামগ্রীর দোকানগুলোতে চার্জার ফ্যানও ক্রেতাদের ভিড় করতে দেখা গেছে। বুধবার মনিরামপুর পৌর শহরের বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক দোকান ঘুরে দেখে গেছে যে পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে চার্জার ফ্যান, ব্যাটারির চাহিদা ঠিক তার উল্লো পথে হাঁটছেন ব্যবসায়ীরা, মনিরামপুর পৌর শহরের বিশিষ্ট কিছু ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী; যেমন- নিক্কন ইলেকট্রনিক্স,এমজি ইলেকট্রিক, পার্থ ইলেকট্রিক, বৈশাখী ইলেকট্রিক, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বেশকিছু ইলেকট্রিক দোকানে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে-পড়া ভিড়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, এমনি সময় যে চার্জার ফ্যান ২০০০ থেকে ২৫০০ এর মধ্যে পাওয়া যেত যা বিক্রয় হচ্ছে ৫৫০০ থেকে ৬০০০ এর উপরে, ব্যাটারির ও একই অবস্থা যে ব্যাটারির আগে ৬০০ টাকাতে পাওয়া যেত হঠাৎ করে কিছুদিনের মধ্যে তা উঠেছে হাজার টাকাতে। মনিরামপুর পৌর শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ নামক দোকানে গেলে দেখা যায় প্রতিটা চার্জার, ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক সব পণ্যেও দাম দিচ্ছে তিনগুণ বেশি করে যদি কোনো ক্রেতা দাম কমানোর জন্য আবেদন করছেন তাদেও সাথে করছেন খারাপ ব্যবহার।

মনিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকা থেকে মাহবুব আসেন বিদ্যুৎ সংযোগ নামক দোকানে একটি ব্যাটারি চালিত চার্জার ফ্যান কিনতে এসে তিনি দেখেন যে চার্জার ফ্যান তিনি গত সপ্তাতে ৪০০শত টাকা দিয়ে কিনেছেন; এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১২০০শত টাকা তিনি দাম কমানোর আবেদন করলে বিদ্যুৎ সংযোগের এক কর্মচারী তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে বলেন, নিলে নেন না নিলে চলে জাইগা ফাকা করেন বেচার বহুত জাইগা আছে।

মাহবুব মন খারাপ করে পুঁজি কম থকায় চার্জার না কিনেই চলে যান তার বাড়ি। এ বিষয় বিদ্যুৎ সংযোগের স্বত্বাধিকারী মোমিনুর রহমান জানান, হঠাৎ করে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চাপ পড়েছে চার্জার ও ব্যাটারির উপর যার কারণে কোম্পানি তাদের মালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন এতে তো আমাদের কিছু করার নাই, যে দামে কিনবো সে দামেই তো বেচতে হবে।

মনিরামপুর বাজারের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শরিফুল বলেন, কিছুদিন আগেও চুপচাপ বসে থাকতাম কাজ ছিল না, কিন্তু হঠাৎ করে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে কাজের চাপ এখন দিনে যতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি তাতেই শতাধিক চার্জার ফ্যান ও লাইট ঠিক করতেছি।

মনিরামপুর বাজারের আইপিএসএর মিস্ত্রি মেহেদী হাসান বলেন, এতদিন আমাদের দিনের ১টি ও আইপিএস বিক্রি হয় নাই এমন দিন গেছে, কিন্তু হঠাৎ সপ্তাহ খানিক লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনে ৩০/৪০টা আইপিএস এর অর্ডার পাচ্ছি।

মনিরামপুরে ইলেকট্রিক পণ্যেও দাম বৃদ্ধি ও বাজার তদারকির বিষয় জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান জানান, যেহেতু হঠাৎ করেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এতে করে ভোক্তা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই অসুবিধার মধ্যে পড়েছে তবে কেউ যদি অনিয়মিত করে ভোক্তা অধিকার আইনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড