• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং এখন সময়ের দাবি

লঞ্চ টার্মিনালটি ঘাট যেন খেলার মাঠ!

  এম. কামাল উদ্দিন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার (রাঙামাটি)

০৪ জুন ২০২৩, ১৪:৩৪
লঞ্চ টার্মিনালটি ঘাট যেন খেলার মাঠ!
রাঙামাটি লঞ্চ টার্মিনাল (ছবি : অধিকার)

রাঙামাটির নৌ চলাচল লঞ্চ টার্মিনাল ঘাট এখন ফুটবল খেলার মাঠ! এ বছর আগাম কাপ্তাই হ্রদের তীব্র নব্যতা বেড়ে যাওয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে জেলার ৬ উপজেলার সাথে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জন দুর্ভোগ। যাত্রীবাহী ও মালবাহী লঞ্চ বন্ধ থাকায় দুঃখের সীমা নাই এই ৬ উপজেলার মানুষদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে লঞ্চ থাকে সেখানে চলছে ফুটবল খেলা। নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিনতিপাত করছে বাঘাইছড়ি, লংগদু, নানিয়ারচর, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়িবাসী। এই ৬ উপজেলার মানুষ যোগাযোগ খ্যাতে এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছে। এখন জনগণের সময়ের দাবি দ্রুত এ ৬ উপজেলার সাথে যুক্ত কাপ্তাই হ্রদ খনন করা।

জানিয়ে রাখা ভালো- প্রতি বছর এই মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে নৌ যান চলাচলে পর্যাপ্ত পানি থাকে। কিন্তু এ বছর হ্রদে পানির অকাল দেখা দিয়েছে। তাই হ্রদ বেষ্টিত মানুষগুলোর জীবনযাপনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

এ দিকে গত মার্চ মাস হতে জুন চলছে হ্রদে পানি না থাকায় ৩-৪ মাস ধরে লঞ্চ বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে জেলার ৬টি উপজেলার সাথে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বলেন, আমরা যারা দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করি আমাদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যাতায়াতের জন্য নেই লঞ্চ, নেই সড়ক যোগাযোগ। তাই প্রতিনিয়ত বিপদে পড়তে হচ্ছে আমাদের। জেলা সদরের সাথে আমাদের দূরত্ব একশ’ থেকে একশ’ ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

জরুরি কাজ সারতে জেলা সদরে যেতে হলে সময় লাগে ৭-৮ ঘণ্টা। এতে এক দিকে যেমন সময় নষ্ট অপর দিকে অর্থ নষ্ট হয়। বিশিষ্টজনদের মতামত, কাপ্তাই হ্রদের উপর প্রতিনিয়ত অন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে। যার ফলে অতি তাড়াতাড়ি নব্যতা দেখা দিয়েছে।

অপর দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে নিধন করা হচ্ছে পাহাড় পর্বত। ঝুম চাষের নামে পাহাড়ে প্রতি বছর দেওয়া হয় আগুন। এ কারণে ঝুম চাষে পাহাড়ের মাটি প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে সরে গিয়ে কাপ্তাই হ্রদে পড়ে। এতে দ্রুত হ্রদ ভরে যায়। অপর দিকে সকল ময়লা আবর্জনা হ্রদে ফেলে অসচেতন মানুষগুলো।

লঞ্চ স্টাফ স্বপন বাবু বলেন, গত ৩-৪ মাস ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। মানবেতর জীবনযাপন করছি আমরা। লঞ্চ চললে আমাদের পকেটে পয়সা আসে এবং জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমরা গত এক যুগ ধরে কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং করার দাবি জানিয়ে আসছি।

রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটের শ্রমিকেরা বলেন, গত তিন মাস ধরে রাঙামাটি লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ নাই। তাই আমাদেরও কাজ কর্ম নাই। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং করা হউক। অন্যথায় প্রতি বছর এই সময়ে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। লঞ্চ আসা যাওয়ার উপর আমাদের রুটি রুজি নির্ভর করে।

লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, গত বছর এ মৌসুমে হ্রদে লঞ্চ চলছিল। কিন্তু এ বছর তিন মাস আগেই লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হলে প্রচুর লোকসান গুনতে হয় আমাদের। হ্রদের নব্যতা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে লেখা লেখি করেও কোনো লাভ হয়নি। তবে শুনেছি এবার নাকি হ্রদ ড্রেজিং করা হবে। বর্তমানে ৬ উপজেলার সাথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে নৌ পথের যাত্রীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় কাপ্তাই হ্রদ খননের উদ্যোগে গ্রহণ করছে। তারা প্রকল্প নিয়েছে। ডিডিপির কাজ চলছে। একনেকে গেলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তবে হ্রদে পানি না থাকায় মাছের ক্ষতি হচ্ছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড