• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |  
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিক্ষকদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে শিক্ষার মান বিপন্ন

  কাজী শাহরিয়ার রুবেল, আমতলী (বরগুনা)

২৭ মে ২০২৩, ১৫:১৬
বকুলনেছা মহিলা কলেজ

বরগুনার আমতলী উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠ বকুলনেছা মহিলা কলেজ। শিক্ষকদের স্বার্থের জন্য এই কলেজের শিক্ষার মান অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছে। অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি একে অপরের প্রতি সাংঘার্ষিক আচরণ করছেন। এতে শিক্ষার মান বিপন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় শিক্ষার মান থেকে পিছিয়ে পড়ছে উপজেলার স্বনাধন্য এই কলেজ। তাছাড়া অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সমস্যা জড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। তাদের দলাদলিতে ঠিকমত পাঠদান না হলেও মামলা হয়েছে ৯টি। ভবিষ্যতে তাদের সমস্যা গড়াতে পারে বড় ধরনের সংঘাতে।

জানা গেছে, ম্যানেজিং কমিটি ছাড়াও কলেজে শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে দুটি প্যানেল। এতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৭ মাস ধরে বেতন তুলতে পারছেন না কোন শিক্ষক-কর্মচারী। শুধু আদালত নয় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে এই বিরোধ। বকুলনেছা মহিলা কলেজের শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান ২০১৬ সালে অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়ার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি করছেন অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন। অবশ্য মামলাটি আমলে নেয়নি আদালত। আদালতের কাছে মামলাটি ভিত্তিহীন মনে হওয়ায় বাদী মো. মুজবুর রহমানের কাছে ব্যাখা চায়।

সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকুকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এডহক সভাপতি নিয়োগ করেন। সভাপতি নিয়োগের পরে অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়াকে পরিবর্তন করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ভাইয়ের স্ত্রী মোসা. ফেরদৌসি আক্তারকে অধ্যক্ষ দাবি করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একটি মোডিফিকেশন আবেদন দাখিল করেন। কিন্তু মোডিফিকেশন আবেদনটি বাতিল করেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। এতে মো. ফোরকান মিয়াই কলেজের বৈধ অধ্যক্ষ বলে দাবি করেন তার পক্ষের শিক্ষকরা।

পরবর্তীতে সভাপতি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন শীটে স্বাক্ষর না করায় অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়া হাইকোর্টে রিট করেন। মহামান্য হাইকোর্ট রিট শুনানি শেষে সভাপতি গোলাম সরোয়ার টুকুকে শিক্ষক-কর্মচারী বেতন শীটে স্বাক্ষর করার নির্দেশ দেন। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সভাপতি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন শীটে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকেন। এতে প্রায় সাত মাস ধরে বেতন থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

গত ২৪ মে ২০২৩ইং তারিখে অধ্যক্ষ অপসারণ ও বেতন ভাতার দাবিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক-কর্মচারীসহ কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করেন। কিন্তু এ মানববন্ধন সম্পর্কে অধ্যক্ষের কোন অনুমতি বা সম্মতি না থাকায় অধ্যক্ষ প্যানেলের শিক্ষকরা বাধা প্রদান করেন। তখন দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের তিন জন শিক্ষক গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনা স্থল থেকে বহিরাগত হিসাবে মো. মেহেদী হাসান নামে একজনকে গ্রেফতার করেন।

ঘটনা নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়া অভিযোগ করেন, সভাপতি তার ভাইয়ের স্ত্রীকে অধ্যক্ষ করতে নানান অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি কলেজের শিক্ষার মানের দিকে লক্ষ না রেখে ভাইয়ের স্ত্রীকে অধ্যক্ষ করতে তৎপর বেশী ছিলেন। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া তিনি ব্যাক্তিগত আক্রোশ মেটাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন শীটে স্বাক্ষর করছেন না। ফলে এসব শিক্ষক-কর্মচারী অত্যন্ত কষ্টে জীবন-যাপন করছেন। সব থেকে বড় কথা কলেজের সুনাম তো নষ্ট করছেনই বরং কলেজের মধ্যে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজর সহ-অধ্যাপক মো. বাছির উদ্দিন (হিসাব বিজ্ঞান), সিনিয়র প্রভাষক মো. কবির হোসেন (ব্যবস্থাপনা বিভাগ), সিনিয়র প্রভাষক মো. মাকসুদুর রহমান (হিসাব বিজ্ঞান), প্রভাষক মো. আব্দুল জলিল (রসায়ন), প্রভাষক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফোরকান (ইসলাম শিক্ষা), প্রভাষক মো. নজরুল ইসলাম (সমাজকর্ম), প্রভাষক মো. নুরুল আমিন তালুকদার (ভূগোল), প্রভাষক আহসান হাবিব (উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন), প্রভাষক মো. আবুল হোসাইন (আরবি), নৈশ প্রহরী মো. বাবুল মিয়া, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী মো. সোহরাব হোসেন ও মোসাম্মৎ রেজিয়া প্রমুখ।

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, জাল সনদের জন্য মো. ফোরকান মিয়াকে অপসারণ করেছে পরিচালনা পরিষদ। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে মোসা. ফেরদৌসি আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জোড়পূর্বক কেউ যদি কলেজ পরিচালনা করতে চায় সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, মানবন্ধনে হামলার ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। মো. মেহেদি হাসান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড