• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিজিবির মুখে একাধিক আসামির নাম থাকলেও নেই মামলা

চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ চোরাচালান : গডফাদাররা পর্দার আড়ালে 

দুই দিনের রিমান্ডে চোরাকারবারি রবিউল

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

১৯ মে ২০২৩, ১১:২০
চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ চোরাচালান : গডফাদাররা পর্দার আড়ালে 
গ্রেফতারকৃত আসামি (ছবি : অধিকার)

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সীমান্তে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যমানের স্বর্ণসহ চোরাকারবারি রবিউল ইসলামের গ্রেফতারের ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এর মূলহোতাকে শনাক্ত করতে পারেনি। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ি থানর অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সারোয়ার হোসেন এ মামলার একমাত্র আসামি রবিউল ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক মো. মজনু মিয়া দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হলেও তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে রিমান্ডে নেয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা কর্মকর্তা প্রদীপ রায়।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত নিয়ে পুলিশের গড়িমসি এবং ঢিলেঢালা কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ হতাশ। বিজ্ঞজনের অভিমত বিলম্বের সুযোগে স্বর্ণ চোরাকারবারি চক্রের মূলহোতারা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে আত্মগোপনে চলে যাবে।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোফাজ্জাল হোসেন আকন্দ ১৪টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গত শুক্রবার (১২ মে) বিকালে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসামি স্বীকার করেছেন এ স্বর্ণ চোরাচালানের মূলহোতা ফুলবাড়ির ব্যবসায়ী সুধীর চন্দ্র সরকার ভানু।

এছাড়া দেশের আরও কয়েকজন সহযোগী ছাড়াও ভারতের তিনজন রয়েছে। এর মধ্যে ভারতে আছেন তার মামা মাহমুদুর রহমান। এই মাহমুদুর রহমান ও একরা নামে দুজনের কাছে ইতিপূর্বে রবিউল স্বর্ণের একটি চালান পাঠিয়েছেন। এতো তথ্য উপাত্ত থাকার পরও মামলায় রহস্যজনক কারণে শুধুমাত্র রবিউলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে এ মামলার বাদী ফুলবাড়ি কাশিপুর বিজিবি বিওপি ক্যাম্পের সুবেদার আশরাফ হোসেন বলেন, ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোফাজ্জাল হোসেন আকন্দ স্যার এসব বলেছেন সত্য। কিন্তু আমার উপর নির্দেশনা যা ছিল সে মোতাবেক মামলার এজাহার দিয়েছি। এজাহারের বাইরে আমার কোন কথা নেই।

ঘটনাস্থলে ৪৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হলেও সিজার লিস্টে ১৪টি উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি (সুবেদার মামলার বাদী) কোনো কথা বলবো না। যা জানার স্যারের কাছ থেকে জেনে নিন বলেই ফোন কেটে দেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে এ রিপোর্ট লেখা সময় পর্যন্ত লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোফাজ্জাল হোসেন আকন্দের সরকারি নম্বরে অনেকবার ফোন দিলেও তা রিসিভ হয়নি।

এ ব্যাপারে সুধীর চন্দ্র সরকার ভানু তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কে-কি বলেছেন তা আমার জানা নেই। আমি একজন ব্যবসায়ী মানুষ। ঠিকাদারি, সার, টিসিবি এবং মজুদদারী ব্যবসা করি। আমার স্বর্ণের ব্যবসাও নেই। আমি পাচারকারীও নই।

একটি গোয়েদা বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলামের সাথে অন্যতম সহযোগী ফুলবাড়ির আবুল কালাম আজাদ, আবু তালেব, সোহেল মিয়া ও খবির উদ্দিন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে স্বর্ণ চোরাচালানসহ অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা করে আসছে ফুলবাড়ি সীমান্তে।

এছাড়া সীমান্তবর্তী একটি সূত্রের দাবি মতে, সীমান্তে রবিউলকে আটকের সময় স্বর্ণের বার ছিল ৪৪টি পরে তা চৌদ্দতে নেমে আসে।

কুড়িগ্রাম জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি খাইরুল আনম জানান, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বিভাগের সদস্যদের উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণে ফুলবাড়ি সীমানা স্বর্ণ, অস্ত্র এবং মাদক পাচারের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি অস্ত্র ও স্বর্ণের চালান ধরা পড়লেও সিন্ডিকেটের মূলহোতারা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অথচ স্বর্ণ চোরাকারবারি হিসাবে সুধীর চন্দ্র সরকার ভানুসহ অনেকের নাম সাধারণ মানুষের মুখেমুখে।

পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ঢিলেঢালা গতিতে তদন্ত চলার কারণে মানুষের মনে নানা সন্দেহ দানা বাধছে।

উল্লেখ্য, ১৪টি স্বর্ণের বারসহ রবিউল ইসলাম (৩২) নামে এক স্বর্ণ পাচারকারী যুবককে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি’র) টহলরত দল শুক্রবার (১২/০৫/২৩) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর সীমান্ত দিয়ে পাচারের সময় মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে আটক করে।

এ অঞ্চলে দায়িত্বরত লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোফাজ্জাল হোসেন আকন্দ ১৪টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঐদিন বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ধর্মপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ৯৪২এর সাব পিলার ৮ এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় টহলরত বিজিবি জওয়ানদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করে।

এ সময় তার কাছে সংরক্ষিত ১৪টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। আটক রবিউল ইসলাম ওই এলাকার ধর্মপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। পরে তার বিরুদ্ধে ফুলবাড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সুবেদার আশরাফ হোসেন।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলুর রহমান জানান, মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সারোয়ার হোসেন। তদন্ত চলছে। গড ফাদারদের সনাক্ত করতে আসামী রবিউল ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করায় কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. মজনু মিয়ার কোর্টে। বিজ্ঞ বিচারক দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শীঘ্রই রিমান্ডে নেয়া হবে আসামিকে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড