• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মানচিত্র থেকে ইউনিয়নটিকে রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গণস্বাক্ষর

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

১৭ মে ২০২৩, ১০:৫০
মানচিত্র থেকে ইউনিয়নটিকে রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গণস্বাক্ষর

মানচিত্র থেকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়নকে রক্ষা ও জিয়ারপাড়া বালু মহলের বাইরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গণস্বাক্ষর করে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন কাওয়াকোলাবাসী।

লিখিত অভিযোগটি প্রধানমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রীসহ পানি সম্পদ সচিব বরাবর অনুলিপিও প্রেরণ করা হয়েছে।

গত রবিবার (১৪ মে) তারিখে ১৫০ জন গণস্বাক্ষরকৃত আবেদনটি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট কাওয়াকোলা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে ছরোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, ফারুক ভূঁইয়া, শাহাদত হোসেন, ইসমাইল হোসেন আবেদনপত্রটি জমা দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কর্তৃক আবেদনকৃত দরপত্রের মাধ্যমে জিয়ারপাড়া বালুমহল ইজারা প্রদান করেন, যা যমুনা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ পৌরসভা সীমানায় অবস্থিত। অথচ কিছু চিহ্নিত অসাধু বালু ব্যবসায়ী বদরুল আলম, গোলাম মোস্তফা সোহাগ, তৌহিদুল ইসলাম তাপস, তোফাজ্জল হোসেন, শফিকুল ইসলাম বাবু জিয়াপাড়া বালু মহলের বাইরে যমুনানদীর পূর্বপাড়ে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের কাওয়াকোলা গ্রামের পূর্ব সীমানা ও দোগাছি গ্রামের পশ্চিম সীমানায় বালু উত্তোলন করে আসছে। যাহা নিয়ম বহির্ভূত ও আইন পরিপন্থি।

অভিযোগে আরও জানা যায়, অবহেলিত ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন যার জন্য কাওয়াকোলাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী স্ব-কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যে এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদী না থাকে অথচ এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ফসলী জমি, বসত বাড়িঘর, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, মুজিবকেল্লা ভূমিহীনদের আবাসন ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে।

এভাবে বালু উত্তোলন চলমান থাকলে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার মানচিত্র হতে ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়ন বিলীন হয়ে যাবে। জিয়ারপাড়া বালু মহলের বাইরে বালু উত্তোলনে আমরা ইউনিয়নবাসী বালু খেকোদের বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও বালু খেকোরা কর্ণপাত না করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এভাবে চলমান থাকলে আমরা কাওয়াকোলা বাসী সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসিব।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলার ইউনিয়নে ৩টি-কৈগাড়ী দোরতা, চান্ডাল বয়ড়া ও জিয়ারপাড়া বালু মহল রয়েছে। সরকার ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডার আহবান করেছে। টেন্ডার অনুযায়ী ইজারার মূল্য সরকারের রাজস্বখাতে জমা দিয়ে বালু মহল থেকে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু জিয়ারপাড়া বালু মহলের ইজারাদার মৃত ফয়সাল ওয়াহিদ বাবু এর উত্তরসূরি বদরুল আলম দুলাল গং বাইরে থেকে কাওয়াকোলা ও দোগাছী মৌজা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। জিয়ারপাড়া মৌজার আয়তন ১১.৪৪ একর (৩৫ বিঘা)।

জিয়ারপাড়া বালুমহলের পশ্চিমে কুড়িপাড়া-চিথুলিয়া গ্রাম-সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, উত্তরে হাটবয়ড়া, পূর্বে কাওয়াকোলা ও দোগাছি মৌজা, দক্ষিণ বাঙ্গালপাড়া ও চান্ডালপাড়া গ্রাম রয়েছে। বর্তমানে জিয়ারপাড়া বালু মহলের পশ্চিমে কুড়িপাড়া-চিথুলিয়া সম্পূর্ণ যমুনা নদীতে। উত্তরে হাটবয়ড়া সম্পূর্ণ যমুনা নদীতে, পূর্বে কাওয়াকোলার অর্ধেক যমুনা নদীতে, বাকি অর্ধেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি রয়েছে এবং দোগাছিতে বাড়িঘর ও ফসলি জমি রয়েছে। দক্ষিণে বাঙ্গালপাড়া ও চান্ডাল বয়ড়া সম্পূর্ণ যমুনা নদীতে।

জিয়ারপাড়া বালুমহলের ইজারাদার জিয়ারপাড়া মৌজার ১১.৪৪ একর জায়গায় ড্রেজার না লাগিয়ে কাওয়াকোলা ও দোগাছী গ্রামে বাড়িঘর, ফসলি জমির নদী তীরবর্তী স্থানে ২০ টি ড্রেজার বালু উত্তোলন করে প্রতি বলগেটের মূল্য ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ভূয়াপুরের গোবিন্দদাসী হাট থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের বালু ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে আসছে।

উল্লেখ্য, জিয়ারপাড়া বালু মহলে বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে (৭ মে ২০২৩) সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট পুরাতন জেলখানা ঘাটে ও (১০ মে ২০২৩) তারিখে বালু উত্তোলনের স্থানে নদী তীরবর্তী স্থানে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের নারী-পুরুষেরা মানববন্ধন করে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড