• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |  
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ডাস্টে হুমকির মুখে জনজীবন

  মো. আকাশ, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

০৮ মে ২০২৩, ১৫:১৩
সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ডাস্টে হুমকির মুখে জনজীবন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আবাসিক এলাকায় রেডিমিক্স কারখানা ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ডাস্টের কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এখানকার বসবাসরত বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ৬নং ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া আবাসিক এলাকায় ১টি সিমেন্ট ও ২টি রেডিমিক্স কারখানা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে আসছে সাতঘোড়া, ক্রাউন ও শাহ্ সিমেন্ট নামক রেডিমিক্স ও সিমেন্ট কারখানার কাজ। এসব কারখানাগুলো অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা করারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এরিয়াটি বেশ ঘনবসতিপূর্ণ। সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যকার ৬ নং ওয়ার্ডটিতে কর্মব্যস্ত মানুষের বসবাস বেশি। কেননা এ এলাকার অধীনে রয়েছে দেশের অন্যতম শিল্প রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আদমজী ইপিজেড।

জানা যায়, সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার ১০০'শ জনসংখ্যার বসবাস এ আবাসিক এলাকাটিতে। তবে ভোটারদের তালিকা বাদেও স্থায়ী ও অস্থায়ী সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস রয়েছে এখানে।

এসব ফ্যাক্টরির ডাস্টের কারণে দূষিত হচ্ছে বাতাস। যার ফলে কমে যাচ্ছে বাতাসের অক্সিজেনের মাত্রা। যতদিন যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। এ দিকে শুধু রোগই নন হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।

এক দিকে রাস্তাঘাটের ধুলোবালি অন্য দিকে ফ্যাক্টরির ডাস্টের দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। প্রতিদিনই ধুলোর দূষণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় রাস্তায় চলাচলকারী ও কর্মরত শ্রমিকরা। পাশাপাশি মানুষের আবাসস্থলও বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সিমেন্ট ও রেডিমিক্স সিমেন্ট কারখানাগুলো খুব বেশি পাশাপাশি হওয়ায় আশপাশের গাছপালা ও বাড়িঘর ধুলোয় ঢেকে যেতে দেখা গেছেন।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ক্রাউন, শাহ সিমেন্ট ও সাতঘোড়া রেডিমিক্স সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকাবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কখনো চালানো হয় না অভিযান, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। আবাসিক এলাকায় ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তাদের টিকি স্পর্শ করার সামর্থ্য নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের।

ক্রাউন রেডিমিক্স কারখানার ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের কারখানাটি যেহেতু আবাসিক এলাকায় পড়েছে সেক্ষেত্রে ডাস্টের কারণে মানুষজনের সমস্যা কিছুটা হয়, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে আমরা ডাস্ট যাতে না উড়ে তার জন্যে উপরে তেরপাল দিয়ে ঢেকে রাখি।

মূলত ডাস্ট কালেক্টর থাকে উপরের দিকে, হাওয়া উপরের দিকেই ছড়ায়। কিন্তু আমাদের কারখানাটি আবাসিক এলাকায় থাকায় ডাস্ট যাতে উপড়ে না উড়ে তার জন্যে খালের দিকে মুভ করে দেওয়া হয়েছে। ক্লিংকার থেকে নির্গত ডাস্টের জন্যে অনেকটা নিচুতে অর্থাৎ নদীর দিকে ঝুঁকিয়ে দেই। তাহলে ডাস্ট উড়ার পরিমাণটা কমে যায়। আবার আমরা বস্তা দিয়ে যেসব স্থানে বেশি ডাস্ট বের হয় সেইসব স্থানগুলোকে ডেকে রাখি।

যার ফলে সমস্যাটা কম হয়। পাশাপাশি আমাদের ফ্যাক্টরির ডাস্ট এবং সড়কের ধুলোবালি থেকে যেন এলাকাবাসী রক্ষা পান তাই প্রতিদিন আমাদের একটি ভ্যান গাড়ি বরাদ্দ থাকে সড়কে শুধু পানি ছিটানোর জন্যে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদিত কিনা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, আমাদের এটি অনুমোদিত। আমি দেড় বছর ধরে এখানে কর্মরত রয়েছে। দুএকবার পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কর্মকর্তা এসেছে শুনেছি। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষজনের যাতে ক্ষতি না হয়।

এ বিষয়ে সাতঘোড়া সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. আমির হোসেন বলেছেন, আমাদের ফ্যাক্টরির ডাস্ট যাতে না উড়ে তার জন্য আমরা যথেষ্ট কাজ করে যাই। ইতিমধ্যে আমরা ডাস্ট না উড়ার জন্যে দুটি মেশিন ক্রয় করার পরিকল্পনা করছি। তবে দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসীর ক্ষতি এড়াতে ফ্যাক্টরির যেসব স্থান দিয়ে ডাস্ট উড়ে সেসব স্থানে ছালার বস্তা দিয়ে ডেকে রাখা হয়। এ ফ্যাক্টরি তো বহুদিন যাবত চলছে তাই জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীরা সমস্যাকে মেনে নিয়েছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিদর্শনে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এটা যেহেতু পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদিত সে ক্ষেত্রে প্রতিবছর দুবার তারা এসে পরিদর্শন করে যান। এলাকাবাসীর সমস্যা যাতে না হন তার জন্য আমরা সর্বক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যাই।

এ বিষয়ে শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গেলে উক্ত ফ্যাক্টরির সিকিউরিটিরা জানান, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেউ কেউ মসজিদে গেছেন আবার কেউ কেউ অফিসে নেই।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলার উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমার জানামতে ঐ এলাকায় সাতঘোড়া নামক একটি সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। তবে বাকি দুটির সম্পর্কে জানা নেই। এসব ফ্যাক্টরি নিয়ে যদি এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকেন, তাহলে আমাদের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেক। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড