• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাষিদের ডিম ফোটানোর কুয়া দিচ্ছে না আইডিএফ

  আবুল মনছুর, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

০৮ মে ২০২৩, ১২:২৪
চাষিদের ডিম ফোটানোর কুয়া দিচ্ছে না আইডিএফ

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে চলছে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম। বজ্রসহ বৃষ্টি আর উজানের পানি নামলেই ডিম ছাড়বে মা মাছ।

ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রাউজান ও হাটহাজারীর শত শত ডিম সংগ্রহকারী। কেউ নিজস্ব নৌকা কেউবা ভাড়া নৌকাসহ ডিম ধরার সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে কখন বৃষ্টি হবে আর কখন ডিম সংগ্রহ করবে। একই সাথে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি হ্যাচারিগুলো। সরকারি হ্যাচারির পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আইডিএফ ও হ্যাচারি প্রস্তুত রেখেছে।

যদিও আইডিএফের হ্যাচারির শুরু থেকেই থাকা আব্দুল কাদের নামে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের এক ডিম সংগ্রহকারীকে এবার ডিম ফোটানোর জন্য কুয়া না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসের ৩ তারিখ এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ করেন কাদের।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ৩২ বছর ধরে হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে আসতেছেন তিনি। বর্তমানে ১০ একর জায়গায় ৭ টি পুকুরে ডিম সংগ্রহের পর পোনা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পোনা সরবরাহ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে এনজিও সংস্থা আইডি এফ হালদা পাড়ে একটি হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ওই হ্যাচারিতে ডিম সংগ্রহ করে পোনা উৎপাদন করে আসতেছেন তিনি।

গত ২৯ এপ্রিল কুয়ার জন্য ম্যানেজার শাহ আলমের কাছে আবেদন করলে তাকে অপমানজনকভবে জানায় কুয়া দেয়া যাবে না। ওই হ্যাচারিতে যারা ডিম ফোটাবে ডিমগুলো তাদের কাছে বিক্রি করতে হবে। বাহিরের কাউকে বিক্রি এমনকি নিজ পুকুরেও পোনা নেয়া যাবেনা বলে জানান ম্যানেজার।

গণমাধ্যমকে কাদের বলেন, আমি ডিম সংগ্রহ ডিম ফোটানো তথা ব্যবসার উদ্দেশ্য ২০/২৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। নৌকা ভাড়ায় নিয়েছি। এখন হঠাৎ সিদ্ধান্তে কুয়া না দিলে আমি কিভাবে আমার ৩২ বছরের ব্যবসা টিকিয়ে রাখব।

আইডিএফকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাদের কাজ আমাদের সহযোগিতা করা এখন তারাই লোভে পড়ে ব্যবসায় নেমেছে। অন্যান্য হ্যাচারিতে কুয়ার জন্য চেষ্টা করলেও এখনো নিশ্চিত হয়নি।

এ দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে এন.জি.ও সংস্থা আইডি এফ'র ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, কাদের লিখিত আবেদন না করায় তাকে কুয়া দেয়া হয়নি। যারা আগে আবেদন করেছেন তাদের দেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ডিম ফোটানো ব্যক্তির কি অগ্রাধিকার নেই প্রশ্নে তিনি বলেন, আবেদন না করলে কিভাবে পাবে। এছাড়া কুয়া বরাদ্দের দিন অশোভন আচরণ করেছেন কাদের। গত মৌসুমে হ্যাচারির সার্ভিস চার্জও দিয়েছেন তিন মাস পরে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাদের বলেন, বর্তমানে আইডিএফ কর্তৃপক্ষ ডিম সংগ্রহকারীদের নিয়ে আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ করেন। তাদের কথামত চলতে পারলেই ভাল। হালদার নাম দিয়ে তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠু তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে।

লিখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম বলেন, অভিযোগকারী চাইলে সরকারি হ্যাচারিতে আবেদন করতে পারবেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড