• মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাহাব উদ্দিনের গভীর নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি 

  আব্দুর রউফ রুবেল, গাজীপুর

০৮ মে ২০২৩, ১১:৪১
সাহাব উদ্দিনের গভীর নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি 
গভীর নলকূপ থেকে গরম পানি বের হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী (গিলারচালা) এলাকার বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন নিরাপদ পানির আশায় গভীর নলকূপ স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ওই নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি। শুরুর দিকে ঠাণ্ডা পানি বরে হলেও গত তিন বছর যাবত পানি বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই গরম পানির রহস্য বা অজানা কারণ জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানান।

ওই বাড়িতে সরেজমিনে দেখা যায় গভীর নলকূপ থেকে গরম পানি বের হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আশপাশের বাসিন্দারা ওই বাড়িতে এসে পানি নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাহাব উদ্দিনের নলকূপের পানি অনেকটা গরম পানির মতো। বাড়ির ভাড়াটিয়ারা পানি ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা আগে পানি সংরক্ষণ করে পাত্রে রেখে দেয়। পরে পানি ঠাণ্ডা হলে ওই পানি তারা ব্যবহার করে। তবে সাবানের পানির মতো এই পানি অনেকটা পিচ্ছিল। এটার গন্ধটাও একটু অন্যরকম।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল জানান, ২৬০ ফুট গভীর নলকূপ দিয়ে গরম পানি বের হচ্ছে। তবে কেন এবং কী কারণে নলকূপ থেকে গরম পানি বের হচ্ছে, এর কারণ কেউ বলতে পারছে না।

শাহাব উদ্দিনের ছেলে কাউসার জানান, প্রায় ১৫/১৬ বছর আগে বসত ঘরের সামনে আমার বাবা গভীর নলকূপ স্থাপন করে। পরে ওই নলকূপ থেকে নিয়মিত গরম পানি বের হতে থাকে। পরে সুপেয় ও নিরাপদ ঠাণ্ডা পানির আশায় মটর উঠিয়ে পাঁচ/ছয় হাত দূরে বাড়ির পাশেই প্রায় ৮ বছর আগে আবার গভীর নলকূপ স্থাপন করে। তখন ওই নলকূপ থেকে ঠাণ্ডা পানি বরে হলেও গত তিন বছর যাবত পানিতে গরম অনুভূত হচ্ছে। ঠাণ্ডা পানির বদলে গরম পানি বের হচ্ছে। তাৎক্ষনিক ওই নলকূপ থেকে বের হওয়া পানি কোন কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সাহাব উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোসাম্মৎ নাসিমা আক্তার মিমি জানান, তিনি গত পাঁচ বছর যাবত এ বাড়িতে ভাড়া থাকেন। আগে পানি ভালো ছিল। গত তিন বছর যাবত গরম পানি বের হওয়ায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ পানি দিয়ে গোসল করা যায় না। পানি ব্যবহার করলে শরীর চুলকায়, মাথার চুল পড়ে যায়। হাত-মুখ ধুয়ে স্বস্তি পাওয়া যায় না। ফ্রিজে পানি সংরক্ষণ করে ঠাণ্ডা হলে তারপর ব্যবহার করতে হয়। তাছাড়া ফ্রিজের পানি দিয়ে গোসল করালেও ঠাণ্ডা লেগে যায়।

সাহাব উদ্দিন বলেন, প্রথমে বসত ঘরের সামনে ২২০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ করে নলকূপের পানির অস্বাভাবিক রং ধরা পড়ে এবং হালকা গরম পানি বরে হতে থাকে। পরে এই নলকূপের ৫ হাত দূরত্বে ২৬০ ফুট গভীরতা করে আরেকটি নলকূপ স্থাপন করি। নতুন নলকূপ থেকে প্রথম কয়েকদিন ঠাণ্ডা পানি বের হয়েছিল। এই নলকূপে তিন বছর আগে থেকে গরম পানি আসা শুরু করে। বছর তিন যাবত নলকূপের পানি কুসুম কুসুম গরম। সংরক্ষণ করে ঠাণ্ডা হওয়ার পর এই পানিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। পানি গরম হওয়ায় আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া আসে না। যারা ভাড়া আছে তারাও চলে যাওয়ার জন্য বাসা খুঁজছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে নতুন করে নলকূপ বসানো হলেও পানির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ির পাশেই প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ডাইং প্ল্যান্টের স্থাপন করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করলে তাদের নির্ধারিত প্রকোৗশলী এসে বিষয়টি দেখে সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু দেখি দেখি বলে তিন বছর পার করে দিলেও কোনো সমাধান দিচ্ছেন না।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, গরম পানি বের হওয়ার খবরে আমি নিজ উদ্যোগে ওই নলকূপের পানি সংগ্রহ করে বেসরকারি কয়েকটি দপ্তরে পাঠিয়েছি। কেন গরম পানি বরে হচ্ছে তা পরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সহকারী প্রকৌশলী ফয়সাল খান জানান, গভীর নলকূপ থেকে গরম পানি বের হওয়ার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি বিষয়টি দেখবেন। তবে এখানে পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা আর্সেনিক পরীক্ষা করতে পারব। বাড়ির মালিক সাহাব উদ্দিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটা ল্যাবে পরীক্ষা করতে হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড