• রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অনুকূল পরিবেশ না থাকায় হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অপেক্ষা বাড়ছে

  আবুল মনসুর

০২ মে ২০২৩, ১১:৪৩
হালদা

হালদা নদী দেশে স্বাদু পানির কার্পজাতীয় মাছের প্রধান প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে হালদা নদী চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে। এই হালদা নদীতে কার্প-জাতীয় মা মাছ রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ ডিম ছাড়তে থাকে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চলমান উচ্চ তাপমাত্রা ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে মা মাছদের ডিম ছাড়ার অপেক্ষার দিন ক্রমেই বেড়ে চলছে। ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম বলেন, হালদা নদী আমাদের কাছে মায়ের মতো। এ নদীতে প্রতি বছর এপ্রিলের শেষের দিকে এবং মে মাসে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এ সময়টা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আগ্রহ আর উদ্দীপনার শেষ থাকে না কখন মা মাছ ডিম ছাড়বে। নদীকে রক্ষা করতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকি। তবে এবার দেশে উচ্চ তাপমাত্রা বয়ে চলছে। ফলে ডিম ছাড়ার এ মৌসুমে হালদা নদীর মা মাছ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। কারণ কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন আচরণ পানির তাপমাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এরপরও আশাকরছি বৃষ্টি হলে এবার আমরা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি ডিম সংগ্রহ করতে পারবো। এ বিষয়ে হালদা গবেষক ডক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্তমান উচ্চ তাপমাত্রার পরস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব হালদার মা মাছের ওপর অবশ্যই পড়বে। ডিম ছাড়ার বিষয়ে এ গবেষক বলেন, বর্তমানে হালদা নদীর বিভিন্ন স্পনিং পয়েন্টে মা মাছের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। যদি বজ্রপাতসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ি ঢল নেমে পানিতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি করে এবং পানির তাপমাত্রা কমে (২৭-২৯) ডিগ্রি সে. হয় তখনই হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং মা মাছ ডিম ছাড়বে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী পূর্ণিমার জোতে অর্থাৎ মে মাসে মা মাছের ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিদুল আলম বলেন, প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে মা-মাছ শিকারিরা তৎপর। তাই আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। প্রতিদিন আমাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, হালদা থেকে কার্পজাতীয় (রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ) মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। হাটহাজারী-রাউজান-ফটিকছড়ি উপজেলা সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদীতে প্রতি বছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। হ্যাচারি পোনার চেয়ে হালদার পোনা দ্রুত বর্ধনশীল বলে এ পোনার কদর সারাদেশে। ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ করে তা থেকে রেণু ফুটিয়ে বিক্রি করেন। রেণুর আয় দিয়ে পুরো বছর জীবিকা নির্বাহ করেন তারা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড