• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হরিরামপুরে প্রকাশ্যেই চলছে জাটকা আহরণ-ক্রয়-বিক্রয়

  শুভংকর পোদ্দার, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ):

৩০ মার্চ ২০২৩, ১৫:১৪
জাটকা

একদিন পরেই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৩, এছাড়াও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর ২০২২ থেকে আগামী ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত আট মাস জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এ আইন উপেক্ষা করেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মানদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাটকা নিধনের মহা উৎসব চলছে।

সরজমিনে দেখা যায় উপজেলার কাঞ্চনপুর, গোপীনাথপুর, আন্ধারমানিক খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার চরের পেছনে, ধুলশুড়া পদ্মানদীর মাঝে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে দিনে এবং রাতের আধারে অবাধে জাটকা নিধন করছে জেলেরা। আর এই সব জাটকা আহরণ করে উপজেলার বিভিন্ন আড়ৎ,হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রয়ও করছে তারা। এছাড়া আন্ধারমানিক আড়ৎ এবং বাহাদুরপুর ঘাটের আড়তে এনে ডাকে(নিলামে) তুলে বিক্রিও করছেন এইসব জাটকা। এসব জাটকা পাইকারি দরে বেপারিরা কিনে এনে উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় হাট বাজারে বিক্রিও করছেন প্রকাশ্যেই। এসব দেখেও প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সরকারের ইলিশের উৎপাদনের উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার আন্ধারমানিক,বাহাদুরপুর ঘাটে ট্রলারঘাটে থাকা বেশ কিছু জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে রকম কঠোরভাবে পালন করা হয়, জাটকা অভিযানে সে রকম কঠোরতা নেই। তাই তারা নির্বিঘ্নে জাটকা নিধন করছেন। জাটকা ধরা নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাবের কারণে এই সুযোগে যে যার মতো জাটকা ধরছেন এবং বিক্রি করছেন।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর গ্রামের জাটকা আহরণ করার সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, আমরা গরীব মানুষ, বৈধ-অবৈধ হিসাব করিনা। যখন তারা অভিযান দিবে, তখন আমরা ঘন্টাখানেক আগেই জানি। আমগো লোক আছে, তারা আমগো আগেই কইয়া দেয়। জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকা সত্তেও কেন আহরণ করছেন কেন? এ কথা বলায় তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মানিকগঞ্জ থেকে পাইকারি দামে মাছ কিনতে আসা রতন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, "বাজারে জাটকা বিক্রিতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তারপরও নদী থেকে জেলেরা ধরেন বিধায় আমরা কিনে আনি। আপনারা এতো জ্বালাইলে এই আড়তে আর মাছ কিনতে আসুম না।" ভাওয়ারডাঙ্গী পদ্মাপাড়ের হোটেল ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম শাওন বলেন- আমরা পদ্মাপাড়ের মানুষ, এমনিতেই ইলিশ মাছ পাইনা। তারপরেও প্রকাশ্যেই জাটকা নিধন,ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। কেউ কিছু বলেনা।

আন্ধামানিক ট্রলারঘাটের নোকার মাঝি- মো. হাসেম জানান, পদ্মানদী থেকে প্রকাশ্যে কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা মেরে আন্ধারমানিক আড়তে প্রকাশ্যে, নিয়মিত বিক্রি করছে জেলেরা। দেখেও দেখে না কেউ। এগুলো বন্ধ করা দরকার বলেও জানান তিনি।

ভোরবেলা ডাকে (নিলামে) নাম প্রকাশ না করা শর্তে, জাটকা বিক্রয়কারী এক আড়ৎদার জানান, জাটকা ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মৎস্য বিভাগ জাটকা সংরক্ষণে নদীতে অভিযানের কিছু সময় পূর্বেই জেলেরা টের পেয়ে সটকে পড়ে। যা একপ্রকার চোর-পুলিশ খেলার মতোই। এগুলো না করে নদীতে ভালোভাবে অভিযান দিলেই জাটকা ধরা বন্ধ হবে। অন্যথায় সরকারের এ উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না।

হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফরমান আলী জানান, আমি এই দপ্তরে নতুন যোগদান করেছি। উপজেলার সব জায়গা চিনিনা। জাটকা নিধণকারী জেলেদের বিরুদ্ধে এবং কারেন্টজালের বিরুদ্ধে খুব দ্রতই নিয়মিত অভিযান দেয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড