• শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সরকারি হাসপাতালে শিশুকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও:

২৬ মার্চ ২০২৩, ১৬:৪৭
মেয়াদোত্তীর্ণ

টাইফয়েড এ আক্রান্ত জ্বিলানী (১১) নামে এক শিশুকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা নিয়ে গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ শিশুর বাবা আকতার হোসেন তার নিজস্ব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এদিকে এ বিষয়ে গত শনিবার আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা একটি প্রতিবাদ লিপি দিয়েছেন।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন ভুল করে রোগীর কাছে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নার্স সেটি দেখার পর রোগীর শরীরে প্রয়োগ করেনি দাবি করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) মিঠুন দেবনাথ।

এমন খবর পেয়ে সরেজমিনে শনিবার (২৫ মার্চ) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় টাইফয়েডে আক্রান্ত অসুস্থ শিশু ও তার মা,বাবার সাথে। অসুস্থ জ্বিলানীর বাড়ি উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গীবাজার এলাকায়।

এ সময় অসুস্থ জ্বিলানীর মা বলেন, তার ছেলে গত ৬ দিন ধরে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ৪ দিন আগে দুইদিন ইনজেকশনসহ অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়ার পর তার ছেলে হঠাৎ শরীর খুব অসুস্থ হয়ে যায়। পরে গত গত ৩ দিন আগে আবার একজন নার্স ইনজেকশন দিতে আসলে। সব রেডি করে শুধু পুশ করা বাকি এমন সময় তিনি দেখেন যে এটা অন্য ইনজেকশন এবং ৫ মাস হলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার। এর আগে যে ইনজেকশন দেওয়া হয় সেটিও ভুল ইনজেকশন ছিল বলে সন্দেহ করছেন তিনি। এরপর তৎক্ষণাৎ তিনি এ ঘটনা তার স্বামীকে জানান।

অসুস্থ জ্বিলানীর বাবা আকতার হোসেন বলেন, আমি স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রæত ছেলের কাছে চলে আসি। এসে দেখি এটি আলাদা ইনজেকশন তাও আবার মেয়াদোত্তীর্ণ। হয়ত এই ইনজেকশনটি পুশ করলে কোন ঘটনা ঘটে যেত। এমন ঘটনা যেন না ঘটে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

অসুস্থ শিশু জ্বিলানী বলেন, সেদিন এমন শরীর খারাপ হয়েছিল সহ্য করার মত না। তবে আজকে একটু ভাল লেগেছে। শরীরটা এখনও খারাপ লাগছে।

বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) মিঠুন দেবনাথ বলেন, প্রথমে যেগুলো ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মেয়াদ ছিল। আর পরে যেটি ইনজেকশন দিতে গেছিল সেটি আসলে নার্স দেখার পরে পুশ করেনি। এখনও সেই ভায়ালগুলো রোগীর স্বজনের কাছে আছে। আসলে এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার দায়িত্বে থাকা নার্স কুলসুম বলেন, যে কোন রোগীকে চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শপত্র অনুযায়ী হাসপাতালে থাকা ইনজেকশন প্রয়োগ করে থাকি। তবে প্রয়োগের আগে সেগুলোর মেয়াদ রয়েছে কি না সেটা অবশ্যই যাচাই করি। তবে জিলানীর কী হয়েছে এ বিষয়ে জানি না।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম আলমাস জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীর কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। রোগীর স্বজনদের করা অভিযোগ তদন্তত করে দেখা হবে। এ ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী সময়ে না ঘটে এর জন্য যা যা প্রয়োজন করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড