• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৭ মাসেও দেখা নেই কাজের

কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে এলজিইডির ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

  তুষার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ

২০ মার্চ ২০২৩, ১৭:১৮
কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে এলজিইডির ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

গ্রীষ্মের শুরুতেই আকাশে ঘনঘন মেঘ উঁকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই এ বছর বৃষ্টির দেখা মিলেছে তিনবার। এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ফতুল্লার নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত লোকজনের কপালে। গত প্রায় দু’দশক ধরে এমন দুঃশ্চিন্তা আর জলাবদ্ধতার সীমাহীন ভোগান্তি নিয়েই দিনাতিপাত করছেন ফতুল্লার লালপুর ও ইসদাইরসহ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ।

এই ভোগান্তি লাঘবের জন্য প্রায় ১৩শ’ কোটি টাকার ডিএনডি প্রকল্পের কাজ চলছে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় আসেনি ফতুল্লার বেশকিছু জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকা।

২০২১ সালে পানিবন্দি মানুষের ক্ষোভ বিগরে যাওয়ার পর সদর উপজেলার জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলোর দুর্দশা লাঘবের জন্য এলজিইডির ১৫০ কোটি টাকার এক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

তিনি বলেছিলেন, এই প্রকল্প পাশ হলে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে। পরবর্তীকালে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকে পাশ হয় ১৫০ কোটি টাকার ওই জিওবি প্রকল্প। যদিও এ প্রকল্প পাশের দীর্ঘ প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও কাজের দেখা মিলেনি!

তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন বলেছেন, আগামী জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কয়েকটি কাজ এগোবে।

সচেতন মহল বলছেন- জুন-জুলাই থেকে মূলত ভরা বর্ষার মৌসুম থাকে। এই সময়টাতেই জলমগ্ন থাকে ফতুল্লার নিম্নাঞ্চলগুলো। ওই সময়ে এই প্রকল্পের কাজে হাত দিলে আদৌ তা শুরু করা যাবে কি-না; তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

অনেকের মতে, বিগত শীত মৌসুমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা গেলে আসন্ন বর্ষাতেই এর সুফল পাওয়া যেত।

যদিও কাজের সময় বিলম্ব হওয়ার সঙ্গত কারণ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন বলেন, ৪টি কাজের স্টিমিট করে প্রকল্পের পিডি সাহেবের কাছে পাঠানোর পক্রিয়া চলছে। গত দুই সপ্তাহ আগে আমি নিজেও পরিদর্শন করেছি। এখন ৪টি কাজের স্টিমিট পাঠানো হবে। অনুমতি পেলে আমরা টেন্ডার আহবান করবো। আরো আগেই কাজ ধরা যেত।

তার মতে, তবে জিওবি প্রকল্পের ক্ষেত্রে খরচটা একটু নিয়ন্ত্রিত। সেই কারণেই আমরা এক সাথে কাজ এগোতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করছি যে, আগামী জুনের মধ্যে এই নতুন প্রকল্পের ৭-৮টি কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সদর উপজেলার মধ্যে আমাদের ৪টি ইউনিয়নে এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হবে। যেখানে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়, সেখানে তা দূর করার করা জন্য আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেম কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় ফেলা যায়, তার উপর জোর দেয়া হবে।

জানা গেছে, ডিএনডির মেগা প্রজেক্টের আওতায় না আসেনি ফতুল্লার লালপুর ও ইসদাইর এলাকা। তাই বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। এমনকি বৃষ্টি না হলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ে জলাবদ্ধতা থাকে লালপুর পৌষার পুকুরপাড় এলাকায়।

ডিএনডির মেগা প্রজেক্টের কাজ চললেও প্রকল্পের আওতায় না আসায় দুঃসহ ভোগান্তির চিত্রের পরিবর্তন হয়নি সেখানে। যদিও মানবতার দিক বিবেচনায় প্রকল্পের বাইরে গিয়েও লালপুর ও ইসদাইরের জলাবদ্ধতা দূর করণে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল ডিএনডি প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

লালপুর পাম্প হাউজে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একাধিক পাম্প প্রদান এবং ইসদাইরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া একটি দখলকৃত খাল উদ্ধার ও খননও করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীকে। তবে, লালপুর, ইসদাইর এবং ফতুল্লার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের অভ্যান্তরীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভঙ্গুর হওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রাথমিক প্রচেষ্টাতেও খুব একটা সুফল মেলেনি সেখানে। ডিএনডি প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ভাষ্য, খাল দখলমুক্ত হলেও অভ্যান্তরীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভঙ্গুর হওয়ায় খাল পর্যন্ত পানি আসছে না।

তাছাড়া এসব এলাকার সড়কগুলোও পরিকল্পনা মাফিক উন্নয়ন হয়নি। তাই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না স্থানীয়দের। ১৩শ’ কোটি কোটি টাকার ডিএনডি প্রকল্পেও যেখানে স্থায়ী সমাধান মেলেনি, সেখানে ১৫০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পে মিলবে তো সমাধান? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামীতেই।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড