• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তিন হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

  মো. আবুবকর মিল্টন, বাউফল (পটুয়াখালী)

১৯ মার্চ ২০২৩, ১৬:০৭
তিন হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি (ছবি : অধিকার)

সুমিষ্ট রসালো ফল তরমুজ, পটুয়াখালীর বাউফলে চলতি মৌসুমে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে চাষিরা তরমুজ বিক্রি করতে শুরু করেছেন। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে ক্ষেত থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন, বিগ ফ্যামিলি, এশিয়ান-২, জাম্মু, পাকিজা, ব্ল্যাক ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ। রৌদ্রের প্রচণ্ড তাপদাহের কষ্টে ছাপ ভুলে এখন তাদের চোখে শুধুই স্বপ্ন আর স্বপ্ন।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বাউফলে সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন বেলে মাটি ও বেশি পরিমাণের মিঠা পানির প্রয়োজন হয় এ ফলের ফলন ভাল করতে। নদী তীরবর্তী এ উপজেলায় চরের সংখ্যাও বেশি। যার ফলে চরগুলোর পাশে নদী থাকায় পানি সেচ ব্যবস্থা খুব সহজ।

চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। গত বছর বছর প্রায় ১৫শ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

গত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষক। তাই অপার সম্ভাবনাময় এই ফল চাষে কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। জেলার স্থায়ী কৃষক ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা যেমন- ভোলা, বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ অন্যান্য জেলার চাষিরাও তরমুজ চষের জন্য বাউফলের চর গুলোকেই বেঁছে নিয়েছেন।

চলতি বছর তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার বর্ষার শেষেই প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরমুজ চাষের উদ্দেশ্য বাসা বেঁধে তরমুজ চাষ শুরু করছে অনেক কৃষক। বর্ষার সময় তলিয়ে থাকা চরগুলোতেই বেড়ি বাদ করে হাজার হাজার একর জমি চাষ করা হচ্ছে তরমুজ।

পটুয়াখালী গলাচিপা পানপর্টি ইউনিয়ন থেকে আসা কৃষক ইউনুস মোল্লা সাথে এসেছেন নতুন পুরান চারজন কৃষক।

তিনি বলেন, আমি এ চরে মাটির উর্বরতা বুঝতে পারিনাই। কীটনাশক সমপরিমাণ দিছি কিন্তু জমির উর্বরতা বেশি থাকার কারণে আমার তরমুজ গাছ একটু বেশি বড় ঘন হয়ে গেছে। এ জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে কিন্তু তারপরেও আশা করি ভালো ফলন ও দাম পাবো ইনশাআল্লাহ।

গলাচিপা থেকে আসা যুব কৃষক মোশারেফ হাং (২৩) ও রাঙ্গাবালী থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী পারভেজ (২৩) বলেন, আমি অনেক বছর ধরে বড় দের লগে এই ফলের চাষ করে আসছি, আলহামদুলিল্লাহ বেশ লাভবান ও হয়েছি। আগে তো আমি আমাগো ইউনিয়নের পুরাতন কৃষক যারা ছিল তাদের লগে তরমুজ খেতে কাজ করতাম। এখন আমরা পাঁচজন ১৭ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করতেছি। আমার পাশের একটি প্রজেক্ট ছয় লক্ষ টাকা বিক্রি করছে। আশা করি আমদেরও ভালো কিছু হবে।

এ দিকে ভিনদেশিদের এমন সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এ উপজেলার চাষিরাও। ঝুঁকছেন উপজেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি। ভাল ফলনের কারণে প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে তরমুজ। আশা করছি এ বছরও ভাল ফলন হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড