• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাওয়ায় দুলছে আমের সোনালী মুকুল

লাভের স্বপ্ন বুনছেন আমচাষিরা

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও

১৮ মার্চ ২০২৩, ১৩:৩৪
হাওয়ায় দুলছে আমের সোনালী মুকুল
আমের সোনালী মুকুলে ছেয়ে গেছে গোটা অঞ্চল (ছবি : অধিকার)

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের মনমাতানো মিষ্টি ঘ্রাণ। জেলার বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙ্গিনা, বাগানে ও মাঠে ঘাটে গাছের ডালে থোকায় থোকায় সাদা হলুদ ও সোনালী বর্ণে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুলের মন মুগ্ধকর দৃশ্য। আর এসব মুকুলে মধু সংগ্রহে দেখা মিলছে মৌ-মাছিদের।

গত বছরের তুলনায় এবছর ঠাকুরগাঁও জেলার আম গাছ গুলোতে ব্যাপক মুকুল আসায় গত বারের তুলনায় এবার বেশি আম হতে পারে। গত বার শিলাবৃষ্টিসহ আবহাওয়ার কারণে আম চাষে কিছুটা ক্ষতি হলেও এবার গাছে ব্যাপক মুকুল আসায় খুশি বাগান মালিকরা। তবে ঝড়বৃষ্টি না হলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা তাদের। এছাড়াও সরকারিভাবে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে আরও বেশি লাভবান হবেন বলে জানান আম চাষিরা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, আমরো পালি, সূর্যপূরী, বান্দিগড়সহ বিদেশি কিং চাকাপাত, নাম দোকমাই, চিয়াংমাই, আলফান শো, রেডপার্লমারসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছের মুকুল ও ফল ধরে রাখতে এবং গাছের পরিচর্যা ও পোকা দমনে বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক স্প্রে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষি ও বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় এবার পাঁচটি উপজেলায় মোট এক হাজার ৮৪৪টি আম বাগানেই ধরেছে মুকুল। যার আয়তন প্রায় তিন হাজার ২৩৬ হেক্টর জমি। এছাড়াও বসত বাড়িসহ মোট পাঁচ হাজার ৮২ হেক্টর জমির আম গাছে মুকুল হয়েছে। এসব গাছ থেকে এবার জেলায় মোট ৪৯ হাজার ১৮৫ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার থেকেও বেশি আম উৎপাদন হতে পারে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক।

পীরগঞ্জ উপজেলার আম চাষি আহসান হাবিব (ডিপজল) বলেন, ২০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম গাছের বাগান করেছেন। তার বাগানে প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করে আয় করছেন। বাগানের প্রতিটি গাছেই ভাল মুকুল এসেছে। গত বছর তিন দফায় শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আমার আম বাগানে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আল্লাহর রহমতে গতবছরের থেকেও এবার গাছ গুলোতে ভালো ও বেশি মুকুল এসেছে। আশা করি তেমন ঝড়বৃষ্টি না হলে ভালো আম হবে ও আগের বার যা ক্ষতি হয়েছিল তা পুষিয়ে নিতে পারবো।

আজিজ, খলিল ও রবিউল ইসলামসহ অনেকে বলেন, আমাদের এ দিকে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা আম উৎপাদন করে তেমন লাভবান হতে পারিনা। সরকার যদি আমাদের এসব উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানি ও এলাকায় আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমরা আরও লাভবান হতে পারতাম এবং আম চাষে কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হতো। কারণ আগের তুলনায় এখন এই দিকে ব্যাপক আম চাষ হচ্ছে কিন্তু সবার বাগান বা গাছের আম প্রায় একই সময় পরিপক্ব হয়। ফলে সকল গাছের আম একসাথে বাজারে উঠে। যার কারণে একসাথে এতো আমের ক্রেতা পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, তাই যদি সরকার আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করে রাখতে পারতাম ও ভালো মূল্যে বিক্রিও করতে পারতাম। তাই জেলায় সরকারিভাবে আম রপ্তানি ও সংরক্ষণের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠন গড়ার দাবির কথা জানান তারা।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার যে হারে আমের মুকুল এসেছে সেগুলো ধরে রাখতে পারলে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কৃষি বিভাগ থেকে গাছে সেচ, আমের মুকুল ও গুটি ঝরা রোধে কীটনাশক স্প্রেসহ আমের ফলন সম্প্রসারণে সকল প্রকার পরামর্শ আমরা আম চাষিদের দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতার মাধ্যমে জেলায় আম সংরক্ষণের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বিভিন্ন মিটিং ও সেমিনারে আমাদের ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি। আশা করি- ঠাকুরগাঁওয়েও একসময় আম সংরক্ষণে আমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড