• শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভূমি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া মিলছে না কোনো সেবা

  মো. রেজোয়ান ইসলাম, নীলফামারী

২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৭
অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া মিলছে না কোনো সেবা, তালাবন্ধ ভূমি অফিস!
তালাবন্ধ ভূমি অফিস (ছবি : অধিকার)

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিজগিজ করছে সেবা প্রার্থীরা। কিন্তু অফিসে নেই কেউ। দরজায় ঝুলছে তালা। ইচ্ছামাফিক অফিসে-যাওয়া করেন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সেবা পেতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। গোমড়া মুখ নিয়ে অফিস থেকে ফিরে যাচ্ছে সেবা প্রত্যাশীরা।

গতকাল বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, গয়াবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পতাকা উত্তোলন থাকলেও তালা বদ্ধ অফিস। এগারোটা আঠারো মিনিটে অফিসের মাজেদুল ইসলাম (পিয়ন) তালা খোলে। তার মিনিট পাঁচেক পর অফিসে আসে গয়াবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক। সেবা গ্রহীতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ এমন চিত্র নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন দক্ষিণ গয়াবাড়ী থেকে আসা মোহাম্মদ আলী (৭০)। বলছিলেন নিজের ১২ শতাংশ জমির খাজনা করতে ঘুরছেন দিনের পর দিন। গত সোমবার সকাল সোয়া দশটায় অফিসে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে যাই। গতকাল তো অফিসার আসেইনি।

গয়াবাড়ীর পাতুপাড়া থেকে আসা মো. রাশেদ (২২) জানান, সাতদিন ধরে আসলেও ভূমি অফিসে কোনো সেবা পাইনি। সাড়ে তেরো শতক জায়গার খাজনার জন্য মাজেদুল (পিয়ন) আমার কাছে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর খেসারত দিচ্ছি সাতদিন ধরে অফিস আসা-যাওয়া।

গয়াবাড়ীর আবদুল কুদ্দুস (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, উনিশ শতক জমির খাজনা করতে অফিস খরচের বাইরে আমার কাছে দশ হাজার টাকা দাবি করে। ঘুষ না দেয়ায় কাজ হচ্ছে না। তার কথায় ‘ঠিক ঠিক’ আওয়াজ তুলে সায় দিচ্ছিলেন অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীরাও। সেবার নামে এখানে অবাধে চলা অনিয়মের রমরমা অবস্থার চিত্র তুলে ধরতে তারাও হয়ে উঠেন সরব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গয়াবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক ও অফিসের পিয়ন মনমতো অফিসে আসে যায় সেই সাথে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ‘রসের হাঁড়িতে’ মজে অনিয়মকে রূপ দিয়েছেন নিয়মে! অফিস আসা-যাওয়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না কেউই। আর এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এ বিষয়ে দৈনিক অধিকারকে ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক জানান, গতকাল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি নিয়েছি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, অফিস থেকে সেবা না নিয়ে ফিরে গেছে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তাই অতিরিক্ত অর্থ দাবির প্রশ্নেই আসে না। সৈয়দপুর থেকে এসে এখানে অফিস করি এটা কি কম না কি? আপনার কিছু জানার থাকলে কর্তাদের থেকে জেনে নিন।

অফিস সহায়ক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমি ভাদুরদর্গা থেকে আসি সে জন্য দেরি হয়। তিনিও অতিরিক্ত টাকার দাবিকে অস্বীকার করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) দৈনিক অধিকারকে বলেন, ছুটি নিয়েছেন কি-না আমার জানা নেই। তবে ছুটির প্রয়োজন হলে আমার কাছেই চাওয়ার কথা। এরকম কোন ছুটির আবেদন তিনি পাননি। উনি গতকাল অনুপস্থিত ছিলেন কি-না আমাকে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে তাহলে বিনা অনুমতিতে ছুটি কাটানোর জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড