• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মনের প্রশান্তি দিতে প্রস্তুত রূপসী ম্যানগ্রোভ

  কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)

২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:২০
মনের প্রশান্তি দিতে প্রস্তুত রূপসী ম্যানগ্রোভ
রূপসী ম্যানগ্রোভ (ফাইল ছবি)

সাতক্ষীরার দেবহাটা রূপসী ম্যানগ্রোভ দর্শনার্থীদের বিনোদন নিশ্চিত করতে নানা প্রস্তুতি চলছে রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রে। সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার ইছামতী নদীর তীরে সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা পর্যটন কেন্দ্রটি ১৫০ বিঘা জমিতে বিস্তীর্ণ।

এই বনের বুক চিরে প্রায় ১০ একর জমিতে অনামিকা লেক, পিকনিক স্পট, শিশুপার্ক, কনফারেন্স রুম, বনের ভিতরে বাসের তৈরি ট্রেইল, সেলফি পয়েন্ট, প্যাডেল চালিত বোড, ইছামতীর পাড়ে বসে বৈকালীন, তিন নদীর মোহনা দেখার সুব্যবস্থা।

এছাড়া নারী-পুরুষের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, ওয়াশব্লক, সুপেও পানির ব্যবস্থা ছাড়াও নতুন ভাবে যোগ হচ্ছে রাত্রিযাপনের জন্য কটেজ। নানামুখী বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা বনটিতে বর্তমানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন ইদুল আযহা উপলক্ষে চলছে নান সাজসজ্জা ও নির্মাণ কাজ।

জেলার সদর হতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে ইছামতী নদীর তীরে শিবনগর মৌজায় অবস্থিত এ বনটি। এটি উপজেলার “রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র” নামে পরিচিত। ইছামতী নদীর তীরে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি এ ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি এ উপজেলায় মানুষকে গর্বিত করে।

উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় টাউন শ্রীপুর এলাকায় ভারতের টাকী পৌরসভার বিপরীতে ইছামতী নদীর তীরে শীবনগর মৌজায় এ বনটি তৈরি করা হয়েছে। এই পর্যটন কেন্দ্রর সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এই বনটিতে বহু প্রজাতির ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রয়েছে।

সুন্দরবনের আদলে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ বৃক্ষের চারা এনে রোপণ করে ব্যাপক বনের সৃষ্টি করা হয়েছে। যার মধ্যে কেওড়া, বাইন, গোলপাতা, কাঁকড়া, নিম, সুন্দরী, হরকচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ উদ্ভিদ। বিনোদন পিয়াসীদের জন্য রয়েছে বসার স্থান। শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য কৃত্রিম বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এটি পরিপূর্ণ বনে পরিণত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

এ দিকে সাতক্ষীরা জেলার ইছামতী সীমান্তের ইছামতীর তীরে গড়ে ওঠা দৃষ্টি নন্দিত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য ম্যানগ্রোভ মিনি সুন্দরবনটির পরপর পরিধি বাড়ছে। ২০০৯ সালে দেবহাটার সুঁশিলগাতী এলাকার নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হলে বাধ রক্ষায় ২০১০ সালে উপজেলার প্রশাসনের উদ্যোগে বাধ রক্ষায় ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য তৈরি করা হয় ম্যানগ্রোভ বন।

বেশ কয়েক বছর যেতে যেতে বনের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর রক্ষা পায় আশে পাশের এলাকাবাসীরা। প্রতিবছরে উপজেলার ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ উপভোগ করতে আসে প্রকৃতির এই দৃশ্য। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বনটিতে কানায় কানায় দর্শনার্থী পরিপূর্ণ হয়।

তাছাড়া শীতের প্রথম থেকে শুরু হয় পিকনিক উৎসব। অনেকে এসে রান্নাবান্না করে ধুমধাম চড়–ই ভাতিও করে। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে উৎসবের আমেজ। সেই আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সকলের মাঝে। বর্তমান স্থানটিতে প্রবেশ করতে হলে উপজেলা প্রশাসনকে টিকিটের মাধ্যমে ২০টাকা ফি দিতে হয়। যার পুরো টাকা সরকারি রাজস্ব তহবিলে জমা হয়। স্থানটি ইছামতীর তীরে নিরিবিলি হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে সময় কাটাতে আসেন।

ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, বনটি ইছামতী নদীর পাড়ে হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। এপাশে বাংলাদেশ অপর পাশে ভারত মাঝ খানে নদী। জায়গাটি অত্যন্ত নিরিবিলি হওয়ায় সব বয়সী মানুষের কাছে প্রিয়। তাছাড়া বিভিন্ন দিবস বা ছুটির দিনে বেশি দুরে যা যেয়ে দেবহাটায় এসে সুন্দরবনের স্বাদ পায়। নারী ও শিশুদের জন্য স্থানটি খুবই নিরাপদ বলেও দাবি দর্শনার্থীদের।

এই স্পটটিতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ছুটি ও বিভিন্ন উৎসব ঘিরে দিনে ৩/৪ হাজার দর্শনার্থীদের পদাচরন ঘটে এই বিনোদন কেন্দ্রে।

বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্রে দায়িত্বে ম্যানেজার দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, বিনোদন কেন্দ্রে এসে যাতে কেউ কোন প্রকার হয়রানি না হয় সেব্যাপারে আমাদের স্টাফরা নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।

এ দিকে নানা উদ্যোগ আর আশার কথা জানিয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, যেহেতু আমার সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থান করি। সে কারণে রাজধানীসহ দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দর ভ্রমণে আসেন। তাদের কথা বিবেচনা করে রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের মত করে সাজানো হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের স্বপ্নের সেতু চালু হওয়ায় বর্তমানে ঢাকা থেকে এসে একদিনে ঘুরে আবার ঢাকায় ফিরতে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আমি অনুরোধ করব যারা ইদের ছুটিতে বাড়িতে ফিরবেন অন্তত একবার হলেও দেবহাটা রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি ঘুরে যাবেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড