• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

sonargao

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর পাসে একই সাড়িতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুবলীগ নেতার ছবি!

নেতাকর্মীদের নিন্দা

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৫৪
বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর পাসে একই সাড়িতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুবলীগ নেতার ছবি!

সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছবির সাথে একই সাড়িতে টাঙ্গানো রয়েছে উপজেলা যুবলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও বেলকুচি পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজার ছবি। এই ছবি গত দুইদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় যুবলীগের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষে সরকারি আইন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনে ঐ চারটি ছবির নিচে বসেই যথারীতি যুবলীগের কর্মকাণ্ড পরিচালনা শুরু করেছে অব্যাহতি প্রাপ্ত যুবলীগ নেতা ও পৌর মেয়র। এ ঘটনায় বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে জানা যায়, নানা বিতর্কিত কাজে সম্পৃক্ত হয়ে পড়া ও করোনা বিধিনিষেধ অমান্য করে সমাবেশ করার অপরাধে ২০২০ইং সালের ২৬ জুন বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপজেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। ঐ সময় থেকেই বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের বহুতল ভবনে বরাদ্দকৃত যুবলীগের কক্ষটি তালাবন্ধ ছিল।

হঠাৎ বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে তালাবন্ধ কক্ষটি খুলে সেখানে নিজের সমর্থক ও বিলুপ্ত কমিটির নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রবেশ করেন বেলকুচি পৌরমেয়র ও যুবলীগ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাজ্জাদুল হক রেজা। এ সময় তিনি দীর্ঘ সময় কক্ষটিতে অবস্থান করে অতীতের ন্যায় আহ্বায়কের চেয়ারে বসে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়ের সংবাদটি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়। মতবিনিময়কালীন সময়ে যুবলীগের কক্ষটিতে টানানো চারটি ছবি নজর কাড়ে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে। সেই ছবি টানানো নিয়ে বইছে নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড়।

ছবিগুলোতে চেয়ারটিতে বসে পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা মতবিনিময় করছে তার ঠিক মাথার উপরেই একই সাড়িতে, সমান্তরালে টানানো হয়েছে চারটি ছবি। চারটি ছবির ডান থেকে প্রথম ছবিটি আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির, দ্বিতীয়টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৃতীয়টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চতুর্থ ছবিটি বেলকুচি পৌর মেয়র ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবলীগ কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি আইন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী কিছুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির পাশে পৌর মেয়র ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার ছবি টাঙ্গানো উচিত নয়। এটি যেমন আইনগতভাবে অবৈধ তেমনি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। অনতিবিলম্বে জাতীর পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সাথে একই সাড়িতে ছবি টানানো পৌর মেয়রের শাস্তির পাশাপাশি ছবি অপসারণের দাবিও জানান তারা।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার মোবাইলে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক সরকার বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মতি নিয়ে যুবলীগের কক্ষটি খোলা হয়েছে। নতুন কমিটি না থাকায় আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি। আর অনেক বছর আগে ঝুলানো ছবি টানানো ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রীর ছবির একটু নিচেই তৎকালীন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের ছবি ঝোলানো হয়েছে। ছবিতে হয়তো একই মাপে টানানো মনে হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল রহমান জানান, যুবলীগের কক্ষটি খোলার কথা আলোচনা হয়নি। কারো কোনো সিদ্ধান্ত না মানা, অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুবলীগ নেতা ও পৌর মেয়র কারো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকেন না। উপজেলা আওয়ামীলীগ সিদ্ধান্ত দিলেতো আমরা অবগত থাকার কথা।

তিনি আরও বলেন, জাতীর পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে একই কাতারে ছবি টানানো চরম ধৃষ্টতা। আমরা ঐ ছবি অপসারণসহ দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাস বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) যুবলীগের কক্ষে একই সাড়িতে টাঙানো ছবিগুলো দেখলাম, এটি একটি অগ্রহণযোগ্য, ঘৃণ্য ও শিষ্টাচার বিবর্জিত কাজ। আমি আজই বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও শেখ মনির পাশে টানানো মেয়র রেজার ছবি অপসারণ করবো।

উল্লেখ্য, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে হামলাবাজ হিসেবে পরিচিত পৌর মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া, আপন সহোদরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাধিকবার বহিষ্কার হয়েছে দল থেকে। তার হামলা থেকে রেহাই পাননি সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মণ্ডল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী আকন্দ, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ আকন্দ, সাবেক বেলকুচি পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সরকার, বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গোপাল চন্দ্র, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল ও রাশেদসহ অসংখ্য ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমানও। তবে অদৃশ্য কারণে বারবার পার পেয়ে গেছেন তিনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড