• রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯  |   ১৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গভীর নলকূপের অপারেটরের স্বেচ্ছাচারিতায় জিম্মি গোটা গ্রাম

  সুলতান আহমেদ, মান্দা (নওগাঁ)

১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:২৫
গভীর নলকূপের অপারেটরের স্বেচ্ছাচারিতার জিম্মি গোটা গ্রাম

নওগাঁর মান্দায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের অপারেটর পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর (শাহানাপাড়া) গ্রামের গভীর নলকূপের অপারেটর পারুল বেগম এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলাম, ছেলে পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ওই নারী অপারেটর পরিবর্তনের দাবি জানান তারা।

স্থানীয় একাধিক কৃষক ও জমির মালিকরা ওই নারী অপারেটরকে পরিবর্তনের জন্য মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিএমডিএ) বিভিন্ন অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার কারণে স্থানীয় কৃষক দারাজ এবং সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।

পরবর্তীকালে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে অদ্যাবধি প্রতিপক্ষের লোকজনের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ খুন-জখমের অব্যাহত হুমকির কারণে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তারা। আর সে কারণে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গভীর নলকূপের অধীনে আশপাশের জমিগুলো শুকনো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব জমির আশপাশের অন্য গভীর নলকূপের অধীনের জমিগুলো চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করার কাজ প্রায় শেষ।

গোবিন্দপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক রহমতুল্লাহ, রিয়াজ উদ্দীন, আব্দুল জব্বার, মাও. দারাজ উদ্দীন, সাইফুল ইসলাম বাবু, ইদ্রিস আলীসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন- গভীর নলকূপটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ নলকূপের অধীনে গোবিন্দপুর এবং বাঙ্গালপাড়া গ্রামের প্রায় ১২০/১৩০ জন কৃষকের ১৮০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়। ১৯৮৫ সালে গভীর নলকূপটি স্থাপনের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিয়াজ উদ্দীন শাহানা নলকূপ পরিচালনাকারী (অপারেটর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৯ সালে বোরো মৌসুমে ধান লাগানোর পর মাঝামাঝি সময়ে ওই গ্রামেরই পারুল আক্তার নামে এক ভূমিহীন নারীর ছেলে পারভেজ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মান্দা উপজেলা বিএমডিএ অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এবং অত্র স্কিমের কৃষকদের না জানিয়ে তার মায়ের নামে অপারেটরি নিয়ে নেয়।

এরপর থেকে অদ্যাবধি জোরপূর্বকভাবে সেটি তাদের দখলে নিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে ওই গভীর নলকূপ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র এবং হিসাব-নিকাশ ভূমিহীন নারী অপারেটর পারুলের ছেলে পারভেজ এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলামের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা। এতে অত্র এলাকাজুড়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মোশারফ হোসেন সহ অনেকে জানান, অপারেটর পারুলের ছেলে পারভেজ এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলাম ২০১৯-২০ সালে বোরো মৌসুমে বিএমডিএর নির্ধারিত সেচ চার্জের চেয়ে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করেন এবং ধান ক্ষেতে ঠিকমত পানি না দেয়ার কারণে তাদের অনেকের ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

এসব অভিযোগের কারণে বিগত ২০২১ সালে ভুক্তভোগী চাষিদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মান্দা উপজেলা বিএমডিএ অফিস কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রসাদপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ১১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে গভীর নলক‚পটি পরিচালনা করা হয়।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, নারী অপারেটর পারুলের ছেলে কথিত সাংবাদিক পারভেজ এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলাম গত ২০২২ সালে পূর্বের কমিটিকে উপেক্ষা করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিজেদের মতো একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে জোরপূর্বকভাবে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য এক হাজার ৪০০ টাকা করে আদায় করেন। পরে ২০২৩ সালের চলতি বোরো মৌসুম শুরুর আগে প্রতিকার চেয়ে ২০২২ সালের কমিটির সদস্য এবং চাষিরা সম্মিলিতভাবে মান্দা উপজেলা বিএমডিএ অফিসসহ একাধিক দপ্তরে ওই নারী অপারেটর পরিবর্তন সহ বিভিন্ন দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিএমডিএ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত সাপেক্ষে ২০২৩ সালের বোরো মৌসুমের সেচ কমিটি গঠন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অথচ তিনি ওইদিন ঘটনাস্থলে না আসার কারণে ওই নারী অপারেটরের ছেলে পারভেজ তার পেশি শক্তির জোরে পুনরায় একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে।

কৃষকেরা আরও অভিযোগ করেন, এ বছর আর কেউ ওই নারী অপারেটর দিয়ে গভীর নলকূপ চালাতে দিতে রাজি হচ্ছেন না। এর প্রতিবাদে নলকূপ পরিচালনাকারী (অপারেটর) পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চান তারা। এক্ষেত্রে মৌসুমের শুরুতেই বিষয়টি সমাধানসহ কৃষকদের পছন্দমত অপারেটর এবং সেচ পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি করেছেন তারা।

অপারেটর পারুলের ছেলে পারভেজ এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

মান্দা উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে সম্মিলিতভাবে কমিটি গঠনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড