• সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯  |   ১৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাণিজ্য মেলার কারণে তীব্র যানজট, স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে 

  সাইদুর রহমান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) :

১৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১১
বাণিজ্য মেলা

পুরোদমে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তজার্তিক বাণিজ্য মেলার ২৭ তম আসর। কিন্তু মেলাকে ঘীরে প্রতিদিনই এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে, এতে করে স্থানীয়দের ভোগান্তি পৌছেছে চরমে। অফিসগামীদের গন্তব্যে পৌছানোর অস্থিরতা, স্কুলগামী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মুখে বিরক্তির ছাপ। গাড়ীর চাকা ঘুরছে কচ্ছপ গতিতে।

এদিকে জ্যামের কারণে দিগুণ ভাড়ায় বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। অনেককেই দেখা গেছে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে রওনা হচ্ছেন। সকালে রাস্তায় যানজট কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তীব্র যানজটে রূপ নেয় সড়কটিতে। একদিকে রাস্তায় জ্যাম আরেকদিকে ভাড়া দিগুন এই চরম হতাশায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা মেলা কবে শেষ হবে সেই দিন গুনছে।

এদিকে পহেলা জানুয়ারি থেকে পুরোদমে দেশের সব স্কুল কলেজে শুরু হয়েছে ক্লাস। এ কারণেই সকাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছুটে যান অভিভাবকরা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সকাল থেকেই হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যাতায়াত শুরু হয়। মেলার বাড়তি মানুষের কারণে সড়কে যানজটের বাড়্তি মাত্রা যোগ হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে করেছে দিগুণ। রাস্তায় জ্যামের কথা বলে দিগুণ ভাড়ায় চলছে গাড়িগুলো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয়দের পাশাপাশি তীব্র যানজটের আরেক হতাশায় ভুগছে মেলাতে আসতে যাওয়া ক্রেতা ও দর্শণার্থীদের মাঝে। এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে নিত্যদিনের যানজটের কারণে মেলাতে আসা ক্রেতা ও দর্শণার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা আগে থেকেই বাণিজ্যমেলা ঘিরে এশিয়ান বাইপাস সড়কে যানজটের আশঙ্কা করেছিলেন। গত পহেলা জানুয়ারি মেলা উদ্বোধনের দিন থেকেই এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বাণিজ্য মেলাতে আসা গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, কাঞ্চন ব্রিজে টোল আদায়ে ধীর গতি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ফিটনেসবিহীন লক্কল ঝক্কর গাড়ির কারণে বাইপাস সড়কের যানজটের অন্যতম কারণ বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বাণিজ্যমেলাকে ঘিরে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন নিজেদের মনগড়া মতো। এ কারনেই তীব্র যানজটের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ভুলতা পর্যন্ত প্রতিদিনই ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় জায়গায় জায়গায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কাঞ্চন ব্রিজ, মায়ারবাড়ী, চাঁন টেক্সটাইল, কালাদী, নলপাথর, পোনাবোসহ পুরো বাইপাস সড়কে যানবাহনের জটলা বেঁধে থাকছে। যানজটের কারণে চালকরা গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকছেন। এতে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। যানজটে আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায় রোগীবাহী অ্যাম্বোলেন্সও। এছাড়াও চার লেনে উন্নীতের কাজ চলায় সড়কটির চারপাশ ধুলায় ছেয়ে থাকছে। হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের যথাযথ তৎপরতার অভাবে যানজট তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া এলাকার সুমন মিয়া বলেন, আমি গাউছিয়া মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করি। আগে দোকান খুলতাম সকাল দশটায়। কারণ দশটার আগে কোন ক্রেতা দোকানে আসেন না। কিন্তু বাণিজ্য মেলার কারণে রাস্তায় যানজট লেগে থাকে তাই সকাল আটটায় দোকানে চলে যেতে হয়।

ভুক্তভোগী কালাদী এলাকার শাহিন মিয়া বলেন, আমি গোলাকান্দাইল এলাকার রবিন টেক্সটাইলে চাকরি করি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ডিউটি। প্রতিদিনই রাস্তায় যানজট লেগে থাকে। অফিস থেকে বের হয়ে বাড়ি পৌঁছুতে রাত সাতটা,আটটা বেজে যায়।

কাঞ্চন চরপাড়া এলাকার মনির মিয়া বলেন, আমার বউ প্রেগনেন্ট। গাউছিয়া এলাকার আল-রাফি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাইতে নিমু। আগে সিএনজি ভাড়া ছিল ত্রিশ টাকা, মেলার কারণে ভাড়া নিচ্ছে ষাট টাকা। আর রাস্তায় যানজটতো আছেই। হাসপাতাল গিয়ে ডাক্তার দেখাইতো পারবো কি না সন্দেহ হচ্ছে। মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাওয়া যাবে না।

শেখ রাসেল ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোয়াদা ইসলাম বলেন, আগে সকাল সাড়ে এগারোটায় স্কুলের বাসে উঠতাম। সাড়ে বারোটায় ক্লাস শুরু করে সাড়ে তিনটায় ক্লাস শেষ হতো বাড়িতে আসতে আসতে বিকেল সাড়ে চারটা বাজতো। বাণিজ্য মেলার কারণে রাস্তায় যানজট থাকে তাই সকাল দশটার বাসে স্কুলে যেতে হয়। ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।

এদিকে সিএনজি চালকরা বলছেন, মেলার কারণে রাস্তায় জ্যামে বসে থাকতে হয়, আবার গ্যাসসহ সবকিছুরই দাম বেশি তাই ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছি। তাছাড়া অতিরিক্ত জ্যাম থাকলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে আমাদের যেতে হয়।

এদিকে ট্রাফিক পুলিশের দাবি যানজট নিরসনে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ওমর ফারুক বলেন, ‘যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে যানজট দূর করতে সকলকে সচেতন হতে হবে।’

এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহম্মেদ চৈাধুরী দৈনিক অধিকারকে বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শীঘ্রই যানজট নিরসন হয়ে যাবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড