• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রেলস্টেশনে শিশুদের দিয়ে মাদকের রমরমা কারবার

  নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত, আদমদীঘি (বগুড়া)

১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:১২
রেলস্টেশনে শিশুদের দিয়ে মাদকের রমরমা কারবার

প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে ৬-৮ বছরের শিশু। উদ্দেশ্য মাদকসেবীদের কাছে মাদক এনে দেওয়া। যখন পড়াশোনায় থাকবে মনোযোগী, খেলায় মেতে উঠবে সহপাঠীদের সাথে। তখন কি-না ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার নেশায়। টাকা দিতে চাইলেই এনে দিতে চাচ্ছে গাঁজা।

এমন চিত্র দেখা যায় বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সান্তাহার জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায়। স্টেশনের প্লাটফর্ম বা রেলসীমানায় বিভিন্ন ধরনের মাদকের হাতবদল বেড়ে গেছে বলে অনেকের অভিযোগ। এছাড়া রেলসীমানা প্রাচীর সংলগ্ন হরহামেশাই চলছে মাদকসেবন।

জানা যায়, স্টেশনের ১ ও ২নং প্লাটফর্মের শেষ সীমানায় ও ওভার ব্রিজের উপরে নিমিষেই মাদকের হাতবদল হচ্ছে। এছাড়া সীমানা প্রাচীরের পিছনেও মাদক সেবন তো নিত্য দিনের সঙ্গী। কয়েকজনের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ২নং প্লাটফর্মে গিয়ে পাওয়া যায় এক শিশুকে। মাদক কোথায় পাওয়া যায় তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলে উঠলো টাকা দেন, এনে দিচ্ছি। ১০০ টাকা বের করে দিয়ে অনেক কিছু জানা যায় তার কাছ থেকে।

তার ভাষ্য টাকা দিলেই সে এনে দিতে পারবে মাদক। পকেট থেকে কাগজে মোড়ানো কিছু বের করে প্রমাণ করতে চাচ্ছিল এতে মাদক আছে। এভাবে এনে দিলে তার কোন লাভ থাকবে কিনা জিজ্ঞেস করলেও কৌশলে সে এড়িয়ে যায়। পরে এনে দিতে বললে দেখা যায় আরেক কাহিনী। কোথায় থেকে আনতে যাচ্ছে দেখতে গেলেই তার মাসহ সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। অবশ্য রেলওয়ে থানার পুলিশ গত কয়েকদিন আগে প্ল্যাটফর্ম এলাকা থেকে কয়েকজন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে ধরেছে। তারপরও থেমে নেই তাদের কর্মকাণ্ড।

সচেতন মহল বলছে, এটা মাদক কারবারিদের একটি অভিনব কৌশল। কোনো কোনো মাদক কারবারিরা শিশুদের ব্যবহার করছে আবার কখনো মাদক কারবারি অভিভাবকেরা তাদের শিশুদের ব্যবহার করছে। এছাড়া মাদক কারবারিরাও থেমে নেই তাদের কর্মকাণ্ড থেকে।

তাদের দাবি, পুলিশের কঠোর নজরদারির অভাবে এসব শিশুরা স্টেশন এলাকায় অনায়াসে মাদক এনে দিচ্ছে সেবনকারীদের হাতে। পাশাপাশি সচেতনতার অভাব তো আছেই। তাই এখনই যদি এসব শিশুদের থামানো না যায়, তাহলে এলাকায় দিন দিন এর বিস্তার লাভ করতে সময় বেশি লাগবে না।

স্টেশন এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও শিশুদের দিয়ে মাদক সরবরাহ হয় বিষয়টি জানতে চাইলে সান্তাহার আহসানুল হক ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সান্তাহার নাগরিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, এটা আমাদের জন্য খুবই খারাপ খবর। এর জন্য প্রথমত দায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের নজরদারি। তারপর অভিভাবকদের মাদক বেচাকেনার পেশা। পাশাপাশি সমাজ ব্যবস্থা। পথ শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পুলিশকে পথশিশুদের দিয়ে যারা মাদক সরবরাহ করছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

প্ল্যাটফর্ম থেকে গত কয়েক সপ্তাহে কতজন মাদক কারবারিকে ধরেছেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মুক্তার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কয়েকজন মাদক কারবারিকে ধরেছি এবং কয়েকজন মাদক সেবনকারীদের ধরে ভ্রাম্যমাণ দেওয়া হয়েছে।

তাহলে মাদক কারবারিরা প্লাটফর্মে মাদক দিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদেরকে ধরেছি তারা ট্রেন থেকে নামার পর। প্লাটফর্মে কেউ মাদক ব্যবসা করছে না। তবে দু একটি জায়গায় মাদক সেবন করছে বলে শোনা যাচ্ছে।

আর শিশুরা মাদক দিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মাত্র দুমাস হলো এখানে এসেছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা থাকলে আমাকে জানাবেন। আমি কঠোর পদক্ষেপ নিবো। মাদকের সাথে কোনো আপোষ নেই।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড