• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

sonargao

এজাহারে এমপি পুত্রের নাম থাকায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ!

  রাকিব হাসনাত, পাবনা

১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:১০
এজাহারে এমপি পুত্রের নাম থাকায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ!

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই নেতার বাড়ি ভাংচুরের ঘটনার সাতদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত দুই ছাত্রলীগ নেতার দাবি, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাংসদের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসের নাম অভিযোগে থাকায় এই মামলা নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ।

ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বলেন, থানায় দেয়া আমার অভিযোগে কিছু নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ থানায় দেয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আকার-ইঙ্গিতে মামলা করে কোনো লাভ হবে না বলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এমন দাবি করেন মারুফ।

মুলাডুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি মালিথা বলেন, ঘটনা ঘটনার সাতদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। গেল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দশজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে এজাহার জমা দেন। সে অনুযায়ী এখনও পুলিশের কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার মুঠোফোনে জানান, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান ও মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি মালিথা থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ আমলে নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই সেটি মামলায় রূপ পাবে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এমপি পুত্র তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাসের নাম থাকায় অভিযোগটি মামলায় রূপান্তর হচ্ছে না এমন প্রশ্নে ওসি অরবিন্দ বলেন, অভিযুক্তের পরিচয় বড় ফ্যাক্টর নয়। ঘটনার সত্যতা নিরূপণ জরুরী। আসামী যে কেউ হতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে নানা আয়োজন করা হয়। আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে সমবেত হয় দলীয় নেতাকর্মীরা। ঠিক ওই সময় পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান ও মুলাডুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি মালিথার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়।

ছাত্রলীগ নেতা মারুফ ও বাপ্পি দাবী করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেক মালিথার ছেলে মিজান মালিথাসহ আরও বেশ কয়েকজন তাদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরের ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

বিষয়টি নিয়ে এমপি পুত্র তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস বলেন, আমি তো ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলাম। অভিযোগ দিলেই সব দোষ তার হয়ে যায় না। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক আমি জড়িত কি না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী পুত্র কনক শরীফের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলা হয়। মিছিলের পর ফান্টু নামে এক যুবলীগ কর্মী ছুরিকাগাতও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে কিছু নেতাকর্মী ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড