• রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯  |   ১৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ থেকে বাড়তি আয়, হচ্ছে রপ্তানিও

  নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

১০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:৪২
ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ থেকে বাড়তি আয়, হচ্ছে রপ্তানিও

দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান খাবার মাছ। এখন বাজারে মাছ কেনার পর দোকানিরাই আঁশ পরিষ্কার করে দিয়ে থাকেন। সেই আঁশ সাধারণত ফেলে দেওয়া হলেও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তা থেকে মিলছে বাড়তি আয়। রপ্তানি করা হচ্ছে বিদেশে।

জানা যায়, ভৈরবে ঐতিহ্যবাহী নৈশ্য মৎস্য আসতে প্রতিদিন আমদানি হচ্ছে মণের মণ মাছ। আর সেখানে ঢাকাসহ আশে পাশের ক্রেতারা মাছ কিনতে আসলে তারা মাছের আড়তেই মাছ কেটে সাইজ করে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই মাছ কাটা শেষে যে আঁশ থাকে তা দিন শেষে শুকিয়ে বিক্রি করছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেট হবিগঞ্জ থেকে আসা ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছে। আর তারা রপ্তানি করছে দেশের বাহিরে।

মাছ ব্যবসায়ী ও মাছ কাটার লোকদের সূত্রে জানা গেছে, হাটবাজার থেকে প্রতিদিন এক মণের মত ভেজা আঁশ সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, তারা আগে মাছ কাটার পর আঁশগুলো ফেলে দিতেন। এখন তা জমা করে রাখছেন। বর্তমানে মাছের ফেলে দেওয়া আঁশ সংগ্রহ ও কেনাবেচার কাজ করছেন ১০ জনের মতো আঁশ ব্যবসায়ী। এ ব্যক্তিরা মাছ বাজার থেকে আঁশ সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো বাড়িতে নিয়ে রোদে শুকিয়ে বস্তাজাত করে রাখেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট হবিগঞ্জ থেকে ক্রেতারা এসে সেগুলো নিয়ে যান। পরে ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেগুলো সংগ্রহ করে দেশের বাইরে রপ্তানি করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার থেকে সংগ্রহ করা মাছের আঁশ দিয়ে উন্নতমানের প্রসাধনী, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ক্যাপসুলের ক্যাপসহ জরুরিসামগ্রী তৈরি করা হয়।

আঁশ সংগ্রহকারী ব্যবসায়ী আমিন, সোহাগ, হেলেনা, রইছ মিয়া জানান, চার থেকে পাঁচ মণ আঁশ জমা হলে পাইকারেরা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যান। প্রতি কেজি প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনা মহামারির আগে এগুলো ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কারণেই এর দাম এখন কম।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সরাসরি রপ্তানির সুযোগ না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারছেন না। ভবিষ্যতে যদি সরাসরি রপ্তানির সুযোগ পান, তবে আশানুরূপ লাভবান হবেন এবং ব্যবসার পরিধির সম্প্রসারণ ঘটবে বলে তারা আশাবাদী। এছাড়া ভৈরবে মাছের আমদানি ভাল হলেই আড়তে ঢাকাসহ আশা পাশের ক্রেতারা মাছ কিনে আড়তেই মাছ কাটে আর সেই সুবাদে আমাদের মাছের আঁশের আমদানি ভাল হয়।

আড়তের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মো.ফারুক, হানিফ, মানিক জানান, স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও আঁশ সংগ্রহকারীদেরকে আঁশগুলো ফেলে না দিয়ে যত্নসহকারে জমিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি তাঁরা সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে লাভ অনেক বেশি হবে। এতে সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও তাদের এই সম্পর্কে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লতিফুর রহমান মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ভৈরব মৎস্য আড়তে প্রতি রাতে রুই কাতলা ঘাস কাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় ধরনের বিপুল পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছের আইশ বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাত করণের সাথে কিছু লোক জড়িত তারা এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সিলেট, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন যায়গায় বিক্রি করছে। আইশ বিক্রি করে তারা প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মত আয় করছে। এ আইশ থেকে কোলাজন তৈরি, ফার্মাসিটিক্যাল, ফুডসাপ্লিমেন্ট তৈরি করা হয়। আইশ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হচ্ছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড