• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শীতের দাপটে ভোগান্তিতে গ্রামাঞ্চলের খেটে-খাওয়া লোকজন

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:৪৩
শীতের দাপটে ভোগান্তিতে গ্রামাঞ্চলের খেটে-খাওয়া লোকজন

কুড়িগ্রামে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ রবিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

শীতের প্রকোপে ভোগান্তিতে পরেছেন সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে জেলার ২৭৬টি দ্বীপচরের প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক’ গ্রামের ৫ লক্ষাধিক দরিদ্র মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে দিন পার করছেন।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীনুর রহমান সরদার জানান, শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষ করে শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রবিবার আড়াই শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি রয়েছে ২৯৩ জন। চাপ বেশি ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে। শিশু ওয়ার্ডে ৪৮টি বেডের বিপরীতে ৬৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

অপর দিকে ডায়রিয়া আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১২টি বেডের বিপরীতে ৩১ জন ভর্তি হয়েছে। তবে নেবুলাইজারও ও অক্সিজেন সিলিন্ডার পর্যাপ্ত থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তবে আউটডোরে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের হিমসিম অবস্থা।

সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামের তিন দিকে ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ। হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হিসাবে প্রতি বছর আগাম শীত পরে এবং শীতের তীব্রতা অন্যান্য জেলার থেকে বেশী। গত দু’দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় দরিদ্র মানুষ চরম পরেছে চরম দুর্ভোগে। কনকনে হিমেল হাওয়া গ্রাম ও শহর অঞ্চলের রাস্তায় লোক চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় কমে গেছে।

শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় লোকজন দিনের বেলা মাফলার, উলের টুপি, জাম্পার, চাদর ও কোট পড়ে চলাচল করছে। শহরের ঘোষপাড়া, কলেজ রোড, শহীদ মিনার ও পুরাতন শহরে নছর উদ্দিন মার্কেটে গরম কাপড়ের দোকানে ভীর বাড়ছে। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা শীতের পোশাকের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষজন পরেছে বিপাকে।

কুড়িগ্রাম শহরের নছর উদ্দিন মার্কেটে পুরাতন শীতবস্ত্র কিনতে আসা মোগলবাসা সিতাইঝার চরের দারোগ আলী, আব্দুল বাতেন বলেছেন, বাহে শাঁতাও নামি গেইছে। অল্প ট্যাহা নিয়া শহরোত গরম কাপড় কিনবার আসলং। দাম শুনিতো মাতাত হাত। কাপড়োত হাতে দেওয়া যায় না।

পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী শাহাদৎ হোসেন বলেন, পুরাতন কাপড়ের গাইটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষগুলো গরম কাপড় কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছে অর্থ সংকুলান না হওয়ায়।

অপর দিকে তীব্র শীতে আগাম জাতের আলু ও বীজতলায় কোল্ড ইনজুরির শঙ্কা করছে চাষিরা। কৃষি বিভাগ কৃষকদের বীজ তলায় ঔষধ স্প্রেসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। তারপরও কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যাতে তারা ক্ষতির মুখে না পরেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, আমরা উপজেলাগুলোয় খোঁজখবর নিচ্ছি। জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করছি। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার কম্বল মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড