• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে শীতে জুবুথুবু প্রাণীকূল

'হামারগুলার কাহিল অবস্থা বাহে'

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৪৮
শৈত্যপ্রবাহ

কুড়িগ্রামে শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা । হিমেল কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছে নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। এতে করে দুর্ভোগে পরেছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। বিকেল থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত দেখা যায়না সূর্যের মূখ। ভোরে ও সন্ধ্যায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো পরছে কুয়াশা। ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচলও। রাস্তাঘাটে লোক চলাচলও কমে গেছে। ভিড় বাড়ছে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। এদিকে টানা শীতের কারণে হাসপাতাল ও ফার্মেসীগুলোতে বেড়েছে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগীদের সংখ্যা।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চ:দা:) তুহিন মিয়া জানান, দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে কর্মজীবীরা। কুড়িগ্রাম শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার রিক্সাচালক চটকু মিয়া (৪৩) জানান, ‘ভোরোত স্কুলের ছওয়াগুলাক উবাইতে উবাতে বুকোত সর্দি জমছে। কামাই করং না,কবরাজোক ট্যাকা দেং! হামারগুলার কাহিল অবস্থা বাহে।’

ডে শিফটে শিক্ষার্থীদের বহন করা রিক্সাওয়ালাদের এরকম বেহাল অবস্থা। তেমনি কৃষি ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে শীতে কাহিল হয়ে পরেছে শ্রমিকরা। হিম ঠান্ডায় হাতের আঙ্গুল অবস হয়ে যায়। বিশেষ করে আলুক্ষেত ও বীজতলায় যারা কাজ করছেন তাদেরকে শীতের ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সিএন্ডবি এলাকার নয়ন (২৫) জানান, শীতে কমবেশি সবাই সহায়তা হিসেবে কম্বল পান। সেগুলো এমন পাতলা যে, কোন কাজে আসে না। ২/৩টা গায়ে দিলেও ঠান্ডা অনুভূত হয়। আমরা লেপসহ কম্বল গায়ে দিয়েও ঠান্ডা তাড়াতে পারছি না।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মুর্শেদ জানান, শীতজনিত কারণে হাসপাতালগুলোতে ইনডোর ও আউটডোরে ১০ভাগ রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বেশী। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কোভিডকালিন সময়ে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার ও নেবু লাইজার সংগ্রহে থাকায় রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজন ছাড়া বয়স্ক ও শিশুদের বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোন উপসর্গ থাকলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বীজতলা হয়ে গেছে। এই তীব্র শীতে বীজতলার যাতে ক্ষতি না হয় এজন্য কৃষকদের বীজতলা পরিচর্চার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে এবং সকালে দড়ি দিয়ে বীজতলার শিশির সড়াতে লিফলেটের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, এখন পর্যন্ত ৩৮হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আরও ৩ হাজার শীতবস্ত্র শীতার্তদের মাঝে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও দু’দফায় আরো ২৫ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। আমরা শীতার্তদের পাশে রয়েছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড