• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড অগ্নিকাণ্ডের ১৭ বছরেও ক্ষতিপূরণ পায়নি ভুক্তভোগীরা

  এম এ মোতালিব ভুইয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ):

০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৫
টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড বিস্ফোরনের ১৭ বছর পূর্তি। ২০০৫ সালের এই দিনে গ্যাস ফিল্ডে প্রথম দফা (ব্লো আউট) বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরনের পর সরকারিভাবে কিছু টাকা দেওয়া হলেও কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সরকারিভাবেও কোন পূর্ণবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়নি।

সরজমিনে গ্যাস বিস্ফোরিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস ফিল্ডের আশপাশে এখন সুনসান নীরবতা। নাইকো কোম্পানীর এরিয়াতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় পাইপসহ নানা যন্ত্রাংশ। গ্যাস ফিল্ডের সীমানায় চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজনদের সামান্য কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে কিছুদিন পরই নাইকো তাদের মূল সরঞ্জামাদি নিয়ে গ্যাস ক্ষেত্র থেকে চলে যায়।

এই গ্যাস ফিল্ডের মোট আয়তন প্রায় ৫৮ একর। দু’দফা গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কুপের রিগ ভেঙে প্রচন্ড গর্জনে কেপে উঠে দোয়ারাবাজার ও ছাতক শহর। এই ভয়াবহ কম্পনসহ ২শ’ থেকে ৩শ’ ফুট পর্যন্ত আগুনের লেলিহান শিখা ওঠানামা করতে থাকে। দুই দফা বিস্ফোরণে গ্যাসফিল্ডের মাটির ওপরে ৩বিসিক গ্যাস পুড়ে যাওয়া এবং ৫.৮৯ থেকে কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হওয়াসহ আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, খৈয়াজুরি ও শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গাছ-পালা মরে গিয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত হয়। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকার পরিবেশ।

এখনও ওই এলাকায় গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরনের কথা গুলো মনে হলে আঁতকে উঠেন। গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরনের পর টিউবওয়েলের পানিতে আসেনিক দূষণ, শ্বাসকষ্ট, শ্রবণশক্তি হ্রাস, চোখে কম দেখা, চর্মরোগসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে গ্যাস ফিল্ডে নাইকো কোম্পানীর কোন কার্যক্রম নেই। গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকে গিয়ে জানা গেলো এখানে ৬ জন নিরাপত্তা কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, প্রতি মাসে ঢাকা থেকে এক কর্মকর্তা এখানে এসে কদিন থেকে চলে যান।

টেংরাটিলা গ্রামের বাসিন্দা মো.জামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আগুন লাগনের ফর থাইক্কা কত টিভি আর পেপারে রিপোর্ট হইছে, আমরা যে কত কষ্টে বাইচ্ছা আছি, কই সরকার তো আমাদের খবর রাখে না। আমার ক্ষতি হইছে প্রায় ২০ লাখ টাকার, সরকারিভাবে আমাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯ হাজার টাকা।

একই গ্রামের আবু হানিফা বলেন, গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরনের সময় আমার স্ত্রী গর্ভাবস্থায় ছিল। এ সময় প্রান বাঁচাতে দৌড়ঝাপ করতে গিয়ে আমার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে। বসতঘরের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকার, আমাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮ হাজার টাকা। আজবপুর গ্রামের মতিউর রহমান বলেন, গ্যাসের আগুনে বাড়ি-ঘর গাছ-পালা পুড়ে গেছে। আমাকে ডিসি অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। অনেক দালালরা এখানে টাকা আত্নসাৎ করেছেন।

সুরমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মো.মামুনুর রশীদ বলেন, টেংরাটিলা এখন অনেকটাই বৃক্ষ শুন্য। গ্যাস ফিল্ডে দূর্ঘটনার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও কথা রাখেনি কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো। ক্ষতিগ্রস্থরা এখনও পর্যাপ্ত পরিমানের ক্ষতিপূরন পায়নি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড