• রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দর্শনার্থীদের সূর্যমুখী বাগান দেখিয়ে কৃষকের আয় সাত লাখ

  নাসিম আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার (নরসিংদী)

০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪:২৭
দর্শনার্থীদের সূর্যমুখী বাগান দেখিয়ে কৃষকের আয় সাত লাখ

নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় তৈলবীজ হিসেবে বপন করা সূর্যমুখী বাগান এখন হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্র। এর ফলে এক দিকে কৃষকরা তৈলবীজের পাশাপাশি বাগানে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও পাচ্ছেন বাড়তি আয়। এতে খুশি কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

দেশে আদর্শ মানের ভোজ্য তেল হিসেবে সূর্যমুখী বাগানের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি এটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা। আর কৃষকরাও সূর্যমুখী বাগান থেকে ভোজ্য তেলের পাশাপাশি বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে। আর নরসিংদীর চরসিন্দুরের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত সেতুর উত্তর পাশে বিশালাকার চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে সূর্যমুখী কর্নার। এখানে প্রায় হাজার বিঘা চরের জমি বছরের একটি সময় পতিত পড়ে থাকে।

তাই এই জমিকে কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম নামে কৃষি বিভাগের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই এলাকায় গত বছর প্রথমবারের মতো ৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেন। যা বর্তমানে ২০ বিঘারও উপরে দাঁড়িয়েছে। এই বাগানে ফুল ফোটার সাথে সাথেই আসতে শুরু করেছে দর্শনার্থী। তাই বাগান রক্ষা ও দর্শনার্থীদের উপভোগের জন্য বাগানে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই সূর্যমুখী বাগান করে এক দিকে কম পুঁজিতে বেশি লাভ, অপর দিকে বাগানগুলো বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় আসছে বাড়তি আয়। আর এই বাগান ঘুরতে এসে খুশি ভ্রমণ পিপাষুরাও।

কৃষিবিদ মো. মাজহারুল হক জানান, তার পরিবারের পাঁচজন সদস্য কৃষি বিভাগের সাথে জড়িত। তিনি দুই বছর হয় অবসরে এসেছেন। অবসরে এসেই দুই বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে নরসিংদীতে সূর্যমুখীর বাগান করেছেন। সেখানে তিনি বাগান করে সফলতাও পেয়েছেন। তাই গত বছর নিজ এলাকা পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরে এসে দেখেন শীতলক্ষ্যার পাড়ে গড়ে উঠা বিশালাকার চড় পতিত পড়ে আছে।

মো. মাজহারুল হক আরও জানান, তিনি এই জমিগুলো কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এখানে জমি ভাড়া নিয়ে প্রথমবার ৫ বিঘা ও বর্তমানে ২০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন সূর্যমুখীর বাগান। বাগান থেকে তৈলবীজ সংগ্রহের আশায় গড়ে তোলা হলেও এখন স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সকল বয়সের নারী পুরুষ এখানে ঘুরতে ছুটে আসেন দলবেঁধে। বাগান ঘুরে নিজের মোবাইল দিয়ে ছবিও তুলেন দর্শনার্থীরা। এবার ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

তার দাবি, তার মূল লক্ষ ছিল এই সূর্যমুখীর বাগান দেখে যেন আগামীতে এই চরে সকলেই সূর্যমুখীর বাগান করে। প্রতিদিন ১হাজার থেকে ১২শত কোনো কোনো দিন এর চেয়ে বেশিও দর্শনার্থী আশে। টিকেটের মূল্য ২০ টাকা, এক মাসে আমার আয় হবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা।

বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুরুতে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি ক্লাস চালু না হওয়ায় বাড়িতে এক ঘেয়েমি সময়টাকে পার করার জন্য এই সূর্যমুখীর বাগান ঘুরতে আসেন বলে জানান শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। তারা বাগান ঘুরে ছবি তুলে কিছুটা হলেও আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারেন বলে জানান তারা।

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সুলতানপুরের ফয়জুল করিম পাঠান বলেন, এই বাগান দেখে যেন চরের অন্যান্য কৃষকরাও আগামীতে সূর্যমুখীর বাগান করবেন বলে আশা করি। কলেজ বন্ধ থাকায় বিকালের এই সময়টা এখানে কাটাতে এলাম। খুব সুন্দর, মন জুড়িয়ে গেছে।

বাগানে ঘুরতে আসা পলাশ থানা সেনট্রাল কলেজের প্রভাষক সহিদুল হক সুমন বলেন, আমাদের পলাশ উপজেলায় এটিই প্রথম সূর্যমুখী বাগান। যা আগে কখনো এই অঞ্চলে দেখিনি। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। সময় পেলেই চলে আসি।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদির এস এ ছিদ্দিকি জানান, সূর্যমুখীর বীজের মাধ্যমে যে পরিশোধিত তৈল পাওয়া যায় তা স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর যার ফলে বাজারে এর চাহিদা প্রচুর রয়েছে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তৈল পাওয়া যায় তাতে মানব দেহের ক্ষতিকর কোন বিষয় থাকে না। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত তৈল যে শতভাগ বিশুদ্ধ তাও কিন্তু বলা যাচ্ছে না। তাই শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে সূর্যমুখীর বীজ থেকে পাওয়া তৈল মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যকর। যার ফলে মানুষ কিন্তু এখন সয়াবিন তৈল থেকেও সরে আসছে।

তিনি জানিয়েছেন, সরিষার তেলের পাশাপাশি সূর্যমুখীর তেলও ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এই তৈলটা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষকে সরিষা বা সয়াবিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে এটাকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয় ভ্রমণ পিপাষুরা। তবে এর চাষাবাদ নরসিংদীতে ব্যাপক না হলেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যমুখী বাগান করে ভোজ্য তেলের পাশাপাশি স্থানীয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ভ্রমণ পিয়াষুদের আনন্দ দানের মাধ্যমে কৃষকের অতিরিক্ত অর্থ আয় হবে। এমনটাই মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড