• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

sonargao

ছবি ভাইরাল 

হাসপাতালে রোগীর কপালে কুকুরের চুমু!

  মো. রেজোয়ান ইসলাম, নীলফামারী

০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২০
হাসপাতালে রোগীর কপালে কুকুরের চুমু!

জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যার নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার মানোন্নয়ন ঘটেনি এই হাসপাতালে। গভীর রাতে মেঝেতে যখন রোগী ও স্বজনরা ঘুমে আচ্ছন্ন তখন হাসপাতালের ভেতরে পুরুষ ওয়ার্ডে কুকুর ঢুকে শুঁকছে তাদের। এমন কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ছবিগুলো ভাইরাল হওয়ার পর হাসপাতালের পরিবেশ ও কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো পোস্ট করে লিখেছেন, রাতে হাসপাতালে রোগী পরিদর্শন করছে কুকুর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিত্রটি নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের। তীব্র শীতে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এমন অবস্থায় বেডের তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ রোগীর ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে ও বাইরের বারান্দায়।

দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। সেবার মান খারাপ, জনবল সংকটসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, এখানে কোনো পরিবেশ নাই। টয়লেট বা মেঝে অপরিষ্কার থাকে। হুটহাট কুকুর ঢোকে। ডাক্তার এসে রোগী দেখে চলে যায়। পরিচ্ছন্ন কর্মীর তো দেখাই মেলে না। তাছাড়া খাবার পানির বা কাপড় ধোঁয়ার জন্য বেগ পেতে হয়।

রিমন ইসলাম নামে চিকিৎসা প্রত্যাশী দৈনিক অধিকারকে বলেন, হাসপাতালটি আমিও এক রাত ছিলাম আমার আত্মীয়ের অসুস্থতায়। এমন পরিবেশে সুস্থ কেউ থাকলেও অসুস্থ হয়ে যাবে।

সমাজকর্মী মারুফ খান দৈনিক অধিকারকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো তুলেছেন রুবেল ইসলাম নামে বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত একজন ব্যক্তি।

তিনি আরও বলেন, আমি গত ২৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টায় হাসপাতালে আমার বোন জামাইকে দেখতে যাই। সেখানে যাওয়ার পর কুকুর চারিদিকে ঘুরতে দেখি। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে যখন মেঝতে শুয়ে থাকা রোগী ও স্বজনদের শুঁকছে এমন দৃশ্য দেখি তখন বিষয়টি খারাপ লাগে। পরে মোবাইলে ছবি তুলে নেই। এমন অবস্থা যদি সরকারি কোনো হাসপাতালের হয় তাহলে সেবার মান বা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের অবহেলা কতটা তা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।

আরেকজন সমাজকর্মী শাকিল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল যেহেতু রোগ নিরাময় কেন্দ্র, সেহেতু সেখানের পরিবেশ অবশ্যই ভালো থাকা জরুরি। তবে নীলফামারীর জেনারেল হাসপাতালের চিত্রটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব রয়েছে, সেই সঙ্গে গার্ড বা রাতে যারা দায়িত্বে থাকেন তাদেরও অবহেলা রয়েছে। একজন সমাজকর্মী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিষয়টি অস্বীকার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু আল হাজ্জাজ বলেন, ছবিগুলো এখনকার নয়, অনেক আগের। ছবিগুলো সরানোর জন্য কাজ করছি। আর আগের থেকে হাসপাতালের পরিবেশ অনেকটা ভালো। অন্যান্য যা সমস্যা আছে, সেগুলোতে কাজ করছি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, এ বিষয়ে আমি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জানাবো। এমনটি যদি হয় তাহলে কুকুর প্রবেশ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলব।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড