• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জলকদর খাল দখলের মহোৎসব

স্লুইস গেটের ফটক আটকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:১৩
স্লুইস গেটের ফটক আটকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সর্ব পশ্চিম সীমান্তবর্তী গন্ডামারা জলকদর খালের সাথে সংযুক্ত ছিবা খাল গোদারপাড় স্লুইস গেট সংলগ্ন স্থানে ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আমির হোসেন কালুর বিরুদ্ধে।

চাম্বল-শীলকূপ সংযোগ গোদারপাড় জলকদর ছিবা খালের স্লুইস গেটের পাশেই সরকারি জায়গার উপর স্থাপনা নির্মাণ করছেন তিনি।

পশ্চিম চাম্বল খোদারপাড় ছিবা খালের স্লুইস গেট সংলগ্ন স্থানে প্রধান ফটকে স্থাপনা নির্মিত হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার ফলে পানির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। এতে পার্শ্ববর্তী চাম্বল-শীলকূপ ইউনিয়নের সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন পড়বে চরম দুর্ভোগ।

এখানকার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাজারো একর জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত ও গ্রামাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার কৃষক ও জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সরকারী জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখছে। দিন দিন খাল দখলের মহোৎসব কিছুতেই থামছে না।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে (২৯ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম চাম্বল খোদারপাড় জলকদর খাল দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা। দিন দিন গিলে খাচ্ছে জলকদর খালের বুক।

এতে বর্ষা মৌসুমে বন্যার সৃষ্টি হলে পানির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। উপরাঞ্চলের বন্যা ও বৃষ্টির পানি যে স্থান দিয়ে বঙ্গোপসাগরে নেমে যায় সে স্লুইস গেটের প্রবেশধারে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

যার কারণে কোনো রকম এতদঞ্চলের মানুষ ও কৃষি সেক্টর সাময়িক ভাবে ক্ষয়-ক্ষতির স্বীকার হলেও উক্ত স্থান দিয়ে পানি নেমে যাওয়াতে দীর্ঘ মেয়াদী পানি বন্দী থেকে মুক্তি পায়।

সম্প্রতি ওই খালের স্লুইস গেটের প্রবেশধার সংলগ্ন স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে ওই এলাকার অর্থলোভী, ভূমিদস্যুরা জনসাধারণ ও কৃষক সমাজের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে।

অভিযুক্ত মো. আমির হোসেন প্রকাশ কালুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমরা জানি এটি পাউবোর জায়গা। সবাই তো দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করছে। আমার পূর্বের দোকানের মাটি সরে যাচ্ছে। মাটি রক্ষার্থে পেছনের দিকে একটু বাড়াচ্ছি। সরকার চাইলে ভেঙ্গে দিবে আর কি!

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক অধিকারকে জানিয়েছেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে জনপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড