• শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একের পর এক অনিয়মে চলছে গ্রামের কর্মসৃজন প্রকল্প

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

২৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:১১
একের পর এক অনিয়মে চলছে গ্রামের কর্মসৃজন প্রকল্প

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের প্রথম পর্যায়ে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি’র) কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৬ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও কোথাও প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখা যায়নি।

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর (ইজিপিপি’র) প্রকল্পে এক হাজার ৬৬৩ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা। দৈনিক মজুরি ধরা হয়েছে শ্রমিক প্রতি ৪০০ টাকা হারে।

জানা যায়, চলতি অর্থ বছরের নভেম্বর মাসে শ্রমিক নির্বাচন করে শ্রমিকদের জব কার্ড বিতরণ করে ২৬ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা ছিলা।

আজ সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পের মধ্যে কোনো প্রকল্পে তালিকাভুক্ত জব কার্ডধারী শ্রমিক পাওয়া যায়নি।

ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর ফিরোজ তালুকদারের বাড়ী হতে বেংনাই পূর্ব হিন্দুপাড়া পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও বৈকন্ঠপুর বড়তলা থেকে চকনুর মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও চকনুর উজ্জ্বলের মোড় হতে রাস্তা পুনর্নির্মাণ-৪১ জন শ্রমিক রাস্তার কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছে এবং ইসলামাবাদ কবরস্থান ও ডাঙ্গার পাড়া শ্মশান ঘাটে মাটি ভরাট প্রকল্পের ৪৯ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে ২৬ জন শ্রমিক কাজ করছে।

এছাড়াও গ্রাম পাঙ্গাসী কবরস্থান মেরামত, সাওকায়ান ভুঁইয়ার বাড়ী হতে নঈম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও মনোহরপুর ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত এবং মাটিকোরা গোলাম মোস্তফার বাড়ী হতে বেংনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা মেরামতসহ ৫টি প্রকল্পের ১৯৭জন শ্রমিক বরাদ্দ থাকলেও সরজমিনে গিয়ে মাত্র ৮২ জন শ্রমিক কাজ করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মো. খলিলুর রহমান, চকনুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, শহীদুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এখানে মাটিকাটার কোন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। প্রতি বছরই এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা সরকার বরাদ্দ দেয়। এসব বরাদ্দের বিপরীতে কোন কাজ হয় না। রাস্তা নির্মাণে মেরামতের টাকা সিংহভাগ চেয়ারম্যানের পেটে চলে যায়।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য খোকন জানান, এই প্রকল্পে শ্রমিক গত ২২ দিন ধরে শ্মশান ঘাটে কাজ করেছে। বাকী শ্রমিক কোথায় এই বিষয়ে ইউপি সদস্যকে অবগত করলে তিনি বলেন আপনাদের সাথে পড়ে কথা বলবো বলে মোবাইল বন্ধ করে দেন।

পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম নান্নুর সাথে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিলে ফোন রিপিস করেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অফিসে কাজের জন্য আজ ঐ ইউনিয়নে যেতে পারিনি। যদি কোনো প্রকল্পের শ্রমিক কম তাকে তাহলে বাকীদের বিল দেওয়া হবে না।

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, ঐ ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্প ধরা রয়েছে। প্রকল্পের মোট ১৯৭টি শ্রমিক বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পে কোন শ্রমিক আছে কি-না আমার জানা নেই। তবে ঐ ইউনিয়নে কাজ তদারকি করার জন্য ট্যাক অফিসার হিসেবে উপজেলা সহকারী শিক্ষক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্পি কণা মণ্ডল বলেন, এই প্রকল্পে যে যে শ্রমিক কাজে উপস্থিত থাকবে সেই সেই শ্রমিক মোবাইলের মাধ্যমে বিল পাবে। যারা অনুপস্থিত থাকবে তাদের বিল দেওয়া হবে না।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড