• শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলায় হাজারো লোকের সমাগম

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও

০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:০৭
সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলায় হাজারো লোকের সমাগম
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলায় হাজারো লোকের সমাগম (ছবি : অধিকার)

যুগ যুগ ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মাকড়হাট ক্যাম্পের ৩৪৬ পিলার সংলগ্ন টেংরিয়া গোবিন্দপুর গ্রামের কুলিক নদীর পারে ঐতিহ্যবাহী পাথরকালি মেলা উপলক্ষে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে দুই বাংলার মানুষদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের জন্য দু'বছর বন্ধ ছিল এ মেলা। এবারের মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি না দিলেও মানুষের ভিড়ের সমাগমে যেন ঠেকাতে পারেনি এ মিলনমেলা।

গতকাল শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জগদল সীমান্তের ৩৭৩ ও ধর্মগড় ইউনিয়নের ৩৭৪ এবং হরিপুর উপজেলার ৩৬৮ থেকে ৩৭১ পিলারের কাছে নাগরভিটা নদীর তীরে বসে দুই বাংলার হাজারো মানুষের মিলনমেলা।

জানা যায়, এখানে কয়েক যুগ ধরেই পাথরকালি মেলার আয়োজন করছে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। কালীপূজার পরে ওই এলাকায় বসে এই পাথরকালি মেলা। মেলাকে ঘিরে একদিনের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। দুই বাংলার মানুষ আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে। তারা মেলায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনে।

আরও জানা যায়, হরিপুর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। দেশ বিভক্তির কারণে আত্মীয় স্বজনেরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সারা বছর তারা দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারে না। তাই অপেক্ষায় থাকে কালীপূজার পরের শুক্রবার পাথরকালি মেলার এই দিনের জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুঠোফোনে চলছিল আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ। এ মিলনমেলাতে দুই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়াও শত শত মুসলমান দুই বাংলার আত্মীয়-স্বজন একে অপরকে একনজর দেখার জন্য ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে এবারও ভিড় জমান। এ সময় সেখানে তৈরি হয় এক আবেগ-ঘন পরিবেশ। প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশায় কাঁটাতারের এপার-ওপারে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

দেখা গেছে সকালে হাসিমুখে দেখা করতে এসে বিকালে বিদায় বেলায় কাঁদতে হয় তাদের, আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা হওয়ার পরেও এবং দেখা না হওয়ার জন্যেও। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকে কথা বলা আর দেখা না করার আক্ষেপ অধরা রয়ে গেল একবছর ধরে অপেক্ষারত ওপারে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজনদের সাথে।

মেয়ের জন্য পিঠা নিয়ে আসা বৃদ্ধা সাহেলা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে দিছি ওই দেশের ছেলের সঙ্গে দিয়ে। মেয়ে ও জামাই পিঠা চাইছে ফোন দিয়ে। তাই আজকে পিঠা বানাই নিয়ে আসছি। নাতির দ্বারা কাঁটাতারের উপর দিয়ে পিঠা দিলাম। খুব শান্তি পাইলাম।

জলঢাকা থেকে আসা মধুবালা বলেন, টাকার অভাবে ভারতে যেতে পারি না, তাই খবর পেয়ে এলাম ছেলেকে দেখতে, না দেখেই ফিরে যাচ্ছি। প্রতি বছর যেন আমাদের মতো অভাবী মানুষদের জন্য সীমান্তে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

লালমনিরহাট থেকে আসা সুদর্শন বলেন, ভারতে আমার ভাগ্নি থাকেন। তাদের সঙ্গে দুই বছর পর দেখা করতে এসেছি। ভারতে নির্বাচনের অজুহাতে এবার দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রতি বছর যেন দেখা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

পূজা কমিটির সভাপতি মধুবাবু বলেন, গত দুই বছর করোনা ভাইরাসের কারণে মিলনমেলা করা সম্ভব হয়নি শুধু পূজা পালন করা হয়েছে। এবার মিলনমেলার আয়োজন করা হলেও স্বজনদের দেখা সাক্ষাত করা সম্ভব হয়নি।

হরিপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরিফুল হক বলেন, এ দিনকে ঘিরে দুই দেশের মানুষের আলাদা উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করে। আজকেও দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা ঘটেছে। তারা উভয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন। যদিও কাঁটাতারের বেড়া ছিল। তবু ভালোবাসা ছিল বেশ প্রখর। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে অনেক দিন ধরে এই মিলনমেলা চলে আসছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড