• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মিথ্যা মামলা থেকে নিস্তার চান রূপগঞ্জের পোলট্রি ব্যবসায়ীরা

  সাইদুর রহমান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৫
মিথ্যা মামলা থেকে নিস্তার চান রূপগঞ্জের পোলট্রি ব্যবসায়ীরা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঈশ্বরদী ফিড মিলসের নামে দেয়া মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের হাটাবো বাজার এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বিসমিল্লাহ পোলট্রি ফিডের মালিক আব্দুর রশিদ, ফয়সাল পোলট্রি ফিডের মালিক আলাউদ্দিন, লিটন মিয়া, পাকুন্দার বাবু মিয়া, মদনপুরের খলিল মেম্বার, পূর্বাচলের আলাবক্স প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন- ঈশ্বরদী ফিড মিলস নামের পাবনা জেলার জনৈক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম খানের সঙ্গে পোলট্রি ফিড ব্যবসায় জড়িত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর এলাকার পাঁচ ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী সম্পর্কের পর পণ্য কেনাবেচার শর্তে হয় লেনাদেনা। সেই লেনাদেনায় মুনাফা হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কথিত ঈশ্বরদী ফিড মিলস কোম্পানি ওই কমিশন আত্মসাৎ করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিগত ৪ বছর ধরে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ দিকে রূপগঞ্জ থেকে পাবনা জেলা আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন রূপগঞ্জের বানিয়াদির ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ২০১৫ সাল থেকে ২৫ জুলাই ২০১৭ পর্যন্ত পাবনার ঈশ্বরদী ফিড মিলসের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। সেই ব্যবসায়ী লেনাদেনায় সবশেষ হিসেব অনুযায়ী তাদের নিকট ওই কোম্পানি সর্বসাকুল্যে পাওনা হয় পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু বিগত দিনে ব্যবসার মুনাফা হিসেবে তারা পাওনা হয় সাত লাখ টাকা। ওই টাকা থেকে ৯৭ হাজার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে কোম্পানি। তাতে বাকি ছয় লাখ তিন হাজার টাকা পাওনা থাকে।

এ দিকে কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পড়লে ২০১৭ সালের পর ৪ এপ্রিল ২০১৮ইং পর্যন্ত কোনো পক্ষ যোগাযোগ করেনি কারো সাথে।

যদিও একটি উকিল নোটিশ পাঠিয়ে উল্টো ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওনার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের কাছে। যাতে পাবনার বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা করার নোটিশ করে। পরবর্তীকালে ওই টাকা দাবি করে মামলাও দায়ের করে। যে মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ খরচ হয়ে যায় ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের। এভাবে ঝাঁক-জমক ব্যবসায় এখন লোকসান গুনে অনেকটাই দিশেহারা তিনি।

আব্দুর রশিদ বলেন, রূপগঞ্জ থেকে পাবনার দূরত্ব ও পরিবহণ ব্যয় ছাড়াও গত ৪ বছরে আইনি লড়াইয়ে ব্যাপক অর্থ খরচ হয়ে গেছে। অথচ আমার কমিশন না দিয়ে উল্টো আমাকে মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। যার কারণে আমার পোলট্রি ফিড ব্যবসা বন্ধের পথে।

সূত্র জানায়, এভাবে আব্দুর রশিদসহ রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার ফয়সাল পোলট্রি ফিডের মালিক আলাউদ্দিন, লিটন, পাকুন্দার বাবু মিয়া, মদনপুরের খলিল মেম্বার, পূর্বাচলের আলাবক্সদের প্রাপ্ত কমিশন আত্মসাৎ করতে এমন বানোয়াট অভিযোগ তুলে দূর জেলা থেকে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছেন। এতে স্থানীয় পোলট্রি ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে রয়েছেন। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম খান মুঠোফোনে বলেন, পাওনা টাকা পরিশোধ করতেই আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি ব্যবসায় লোকসান গুনেছি। তাই তাদের লাভের অংশ দেয়ায় প্রশ্নই আসে না।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড