• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফরিদপুরে সওজের জায়গা দখলের মহোৎসব, নেপথ্যে কারা? 

  জে রাসেল, ফরিদপুর

২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২৫
ফরিদপুরে সওজের জায়গা দখলের মহোৎসব, নেপথ্যে কারা? 

ফরিদপুর সদরের মুন্সিবাজার মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখলের মহোৎসব চলছে। মোড়টির ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন সড়ক বিভাগের জায়গা ঘিরে গড়ে উঠেছে একাধিক ঝুপড়ি দোকানঘর। স্থানীয় কয়েকজন ক্ষমতার জোরে প্রকাশ্যেই দখল করে নিচ্ছে এসব জায়গা।

দোকানঘর তুলে ভাড়া দিচ্ছেন তারা, এমনকি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অন্যের নিকট বিক্রিও করে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এসবের নেপথ্যে বিশেষ সুবিধা নিয়ে জায়গা দখলের সমর্থন করছেন ফরিদপুর জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল- এমনই অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজনের।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে সরকারি জায়গা দখলের ব্যাপক চিত্র চোখে পড়ে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন এই মোড়টির পাশে অবস্থিত মুন্সিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষেই বেশিরভাগ দোকানঘর রয়েছে। এসব জায়গায় গড়ে উঠা একটি দোকানঘরের সামনে ঝুলানো প্ল্যাকার্ডে দেখা যায়, ‘দোকান ঘর ভাড়া দেয়া হবে’, যোগাযোগের নাম্বারও রয়েছে। ঐ নাম্বারে ফোন দেয়া হলে স্থানীয় জাফর নামে এক ব্যক্তি পরিচয় দেন। তিনি জানান, দোকানঘরটি তার না, ইমদাদ নামে একজনের।

যদিও তার দাবি, সড়ক ও জনপথের জায়গায় আরও ঘর হওয়ায় ঐসব ঘরও তোলা হয়েছে। এর পাশেই নুরু নামে একজন দোকানঘর তুলে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে স্থানীয় এক দোকানদার জানান। এই সাড়িতে একই সাথে পাঁচটি দোকানঘর রয়েছে।

তার পাশেই দেখা যায়, মিনিবাসের কাউন্টারের নামে দিনদুপুরে প্রকাশ্যেই বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘর। পাশে দাড়িয়ে থেকে এই ঘর উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফরিদপুর পৌরসভার ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ধারী স্থানীয় লিটন মোল্লা নামে এক যুবক।

এ সময় এই যুবক সাংবাদিকদের জানান, এখানে মিনিবাসের কাউন্টার করা হবে, সে জন্য ঘর তোলা হচ্ছে। পরক্ষনেই দাবি করেন, তিনি নিজেই ঘর তুলছেন। তবে তিনি বলেন, অনেক আগে থেকেই এই মোড়ে জায়গা দখল করে ঘর তোলা হচ্ছে। সে জন্য আমিও ঘর করছি। সরকার আজকেই যদি বলে ভেঙে ফেলতে হবে, ভেঙে ফেলবো এবং উচ্ছেদ করলে এখানের সব ঘর উচ্ছেদ করতে হবে।

এই যুবকের সাথে থাকা আরেক ব্যক্তি এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় বলেন, আমরা স্থানীয় আওয়ামীলীগের হর্তা-কর্তা। আমাদের সামনে অন্যরা দোকানঘর তুলবে, এটা কেমন হয়। এ জন্য আমরাও দোকানঘর করছি।

এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বলেন, এই জায়গা যদি সড়ক ও জনপথ বিভাগের হয়ে থাকে, তাহলে-তো সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যবস্থা নেয়ার কথা। কিন্তু কখনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি। সুবিধা নিলে ব্যবস্থা নিবে কেমনে, তারাতো অফিসে বসে থাকে আর দখলকারীরা বিশেষ সুবিধা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৪- এর অধ্যায় ৩.৩ এ উল্লেখ রয়েছে, সাময়িকভাবে অব্যবহৃত ভূমির অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সুসংহত করণের দায়িত্ব রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের। কিন্তু মুন্সিবাজার মোড়ে সওজের জায়গা অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যক্রম নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এছাড়া ভূমির ব্যবহার সম্পর্কে ৬.১ এ উল্লেখ রয়েছে, এসব অব্যবহৃত জমি সাময়িকভাবে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচনের জন্য ইজারা বা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো ধরনের ইজারা ছাড়াই গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান ঘর। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের।

এ বিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো। আমাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট আছে, উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিবো।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড