• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজ যুবকের রক্তমাখা লাশ উদ্ধার

  খলিল উদ্দিন ফরিদ, ভোলা

২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৫৯
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজ যুবকের রক্তমাখা লাশ উদ্ধার
উদ্ধারকৃত মরদেহ (ছবি : অধিকার)

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যুবক নোমানের রক্তমাখা লাশ ৪ দিন পর ঘটনাস্থলে ভেসে উঠেছে। স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেছে। লাশের মুখমণ্ডল থেঁতলানো এবং নাক ফাটা। মুখমণ্ডল জুড়ে রক্ত জমাট বেঁধে লাল হয়ে গেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আজ রবিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে তার ভাসমান লাশ দেখতে পান।

দৌলতখান থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) আবু হানিফ লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। পরিবার নোমানের লাশ শনাক্ত করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ দিকে নোমানের লাশ উদ্ধারের খবরে তার আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। তারা নোমানের লাশ একনজর দেখার চেষ্টা করছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আহাজারির কণ্ঠে স্বজনরা এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের কঠিন বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

নোমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার রাতে লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ডিবি) মো. এনায়েত হোসেন ও ভোলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম কামরুল।

যদিও ঠিক কতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে তা নিশ্চিত করতেন পারেননি কমিটিতে থাকা কেউই। কমিটির প্রধান জানান, এ বিষয়ে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি কোনো কাগজপত্র হাতে পাননি।

নোমান নিখোঁজের ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে তার পরিবার দৌলতখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজের পর থেকে এ ঘটনায় ওসির গাড়ি চালক কনস্টেবল মো. রাসেল ও সজীব নামে দুই পুলিশ কনস্টেবলকে বরখাস্ত করে ভোলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। দৌলতখান থানা থেকে প্রত্যাহার করে ভোলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি পাল ও সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. সোহেল রানাকে।

তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। প্রতিবেদনের আলোকে বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল ও ক্লোজড হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আসবে।

ঘটনার ১ দিন পর নোমানের স্বজনরা মেঘনা নদীতে ট্রলার যোগে নোমানের লাশ খোঁজে পেতে মাইকিংও করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ২৪ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে দৌলতখান উপজেলার পাতার খাল মাছ ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নোমানসহ বেশ কয়েকজন জুয়া খেলছিল। এসময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবগত না করেই বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য ও ক্লোজড হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা নোমানদের জুয়ার আসরে গিয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মেঘনা নদীতে নোমানসহ আরও কয়েকজন পড়ে যায়। তাদের মধ্যে সবাই সাঁতরে তীরে উঠে আসতে পারলেও নোমান উঠে আসতে পারেনি। এরপরই নিখোঁজ হয় নোমান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নোমান নদীতে পড়ে যাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার না করে উপর থেকে তাকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। তাদের ধারণা পুলিশের ইটের আঘাতে নোমান নদী থেকে সাঁতরে তীরে উঠে আসতে পারেনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড