• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত বনি আলমের পরিবার

‘ন্যায় বিচার না পেলে আমরা সাগরে আত্মাহুতি দিব’

  শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার (কক্সবাজার)

২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৪৫
‘ন্যায় বিচার না পেলে আমরা সাগরে আত্মাহুতি দিব’
পরিবার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন নির্যাতিত বনি আলম (ছবি : অধিকার)

আমাদের গুলি করে মারার দরকার কি? কুপানোর দরকার কি? নাম ভাঙানো উচ্চপদস্থ মানুষগুলোর কেউ একজন বললেই তো আমরা জায়গা, বাড়ি ছেড়ে চলে যেতাম।

ন্যায় বিচার না পেলে আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উদ্বোধন হতে যাওয়া জেটির পাশে সপরিবারে সাগরে ঝাপ দিয়ে আত্মাহুতি দেব।

গতকাল শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গুমরে কেঁদে কেঁদে এমনটাই বললেন নির্যাতিত বনি আলম ও তার পরিবার।

ডাকাতি মামলায় ডাকাতদের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো ভূমিকা না থাকায় ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনায় সংবাদ সম্মেলন করেন এই পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়- কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ইনানী রয়েল টিউলিবের পাশে মেরিন ড্রাইভের কাছে একখণ্ড জমি আছে বনি আলমের। সেখানে তিনি দোকান/রেস্টুরেন্ট, বাড়ি, পুকুর গড়ে ছিলেন। সেগুলো এখন নিশ্চিহ্ন। ডাকাতরা গত ২ নভেম্বর তার বাড়ি এবং দোকান ডাকাতি করাকালে মুহুর্মুহু গুলি ও পরিবারের লোকজনদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে।

কিন্তু ঘটনাস্থলের ১০০/২০০ গজ দূরত্বে পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন দেন, থানায় ফোন দেন, ৯৯৯ এ ফোন দেন। কিন্তু সকলে সময়ক্ষেপণ করে। এক সময় ডাকাতরা সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়, গুলিবিদ্ধ হয় বনি আলমের স্ত্রী ফরিদা, শাহিনা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস রিফা, মেয়েসহ বাড়ির সবাই। এরপর প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে বনি আলম বলেন, নির্মমতা এমন ছিল যে, বাড়িতে থাকা আমার নাতী এক বছরের শিশু আবাবিল পর্যন্ত গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পর আমি থানায় মামলা রেকর্ড করাতে ব্যর্থ হয়েছি।পরে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত ৬/৭ জন্য ভিকটিমকে দেখে মামলাটি এজাহার নেওয়ার জন্য উখিয়া থানার ওসিকে আদেশ দেন। যথারীতি গত ৬ নভেম্বর মামলাটি অফিসার ইনচার্জ উখিয়ার টেবিলে যাওয়ার পর তিনি মামলাটি রেকর্ড না করে ফেলে রাখেন। এমনকি যিনি অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছেন সেই ১নং আসামি তৈয়বকে ডেকে এনে কিছু জাল প্রেসক্রিপশন দিয়ে উল্টো গুলিবিদ্ধ ও আহতদের বিরুদ্ধে গত ৮ নভেম্বর একটি মামলা রুজু করেন এবং পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশনা দেয়া মামলাটিও রুজু করলেন। হামলাকারীদের দায়েরকৃত মামলা নং-জিআর-১৩৯১/২০২২ (উখিয়া) এবং আহতদের দায়েরকৃত মামলা নং-জিআর-১৩৯২/২০২২ (উখিয়া)।

আহত বনি আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, একটি ডাকাতির মামলার এজাহারভুক্ত ১নং আসামি উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের সামনে যায় কেমনে? এজাহারভুক্ত আসামি থানায় গিয়ে মামলা করে কেমনে? হামলায় আহতদেরকেও মামলায় আসামি করা হয়।

বনি আলমের অভিযোগ- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাউসার হামিদকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেন। যাতে আসামিদের কোনো ক্ষতি না হয়। ইতোমধ্যে আহতরা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা বাড়ি, রেস্টুরেন্ট, দোকান, পুকুর লুট করে অস্তিত্ব পর্যন্ত রাখেনি। অন্য দিকে র‍্যাব সদস্যরা তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় দিলে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই মামলার আসামি মোজাম্মেল নিজেকে জালিয়াতির মাধ্যমে মেম্বার পরিচয় দিয়ে জামিনে বেরিয়ে যান। অথচ সে এখন মেম্বারও না, তার ওয়ার্ডে বর্তমানে মেম্বার জাহিদ আলম। গুরুতর আহতদের শরীর থেকে গুলি বের হওয়ায় আগেই আসামি জেল থেকে বেরিয়ে গেছে।

অপর দুইজন আসামি তৈয়ব এবং বার্মাইয়া আমিনের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ডাকাতি ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, ডাকাতির রহস্য উদঘাটন আসামিদের ৭ দিন রিমান্ডের আবেদন করে। কিন্তু আবেদনের নথি নিয়ে চলে নয়ছয়। যাতে রিমান্ডের আবেদন জেলা জজের কাছে না যায় বা চোখে না পড়ে। অথচ যেই কাগজেই আসুক সেটি নথিতে যাওয়ার কথা, ২১ নভেম্বর আবেদন, ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত নথিতে না যাওয়া থেকে বুঝা যায় আসামীরা কতটা শক্তিশালী। ইতোমধ্যে জামিনে যাওয়া আসামি প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে ঘটনাস্থলে।

আসামিরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে, তারা আমার বসত ভিটায় ডাকাতি করেছে। এই জায়গা দখল করে বিক্রি করে দিবেন।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বনি আলমের স্ত্রী ফরিদা বেগম, মেয়ে শাহেনা আকতার, জান্নাতুল ফেরদৌস রিপা, ছেলে মহি উদ্দিন, জামাতা জাফর উল্লাহ, কাউছার ও রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড