• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কলম কিনতে গিয়ে দোকানির পাশবিকতার বলি শিশু

বিচারে জরিমানা ৩০ হাজার টাকা!

  এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

২১ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৪৫
কলম কিনতে গিয়ে দোকানির পাশবিকতার বলি শিশু
যৌন নিপীড়নের শিকার শিশু শিক্ষার্থী (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ষাটোর্ধ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম মিরাজ উদ্দিন খান (৬৫)। তিনি উপজেলার ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড দক্ষিণ আমবাড়িয়ার আব্দুল লতিফ পাঠান বাড়ির আব্দুল লতিফের ছেলে।

শিশুকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সমাজপতিরা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। শিশুর পরিবারকে পুলিশ ও সাংবাদিকের কাছে মুখ খুলতে বারণ করেছেন তারা। অন্যথায় সমাজচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন ইউপি সদস্য ইউসুফ হারুন।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মিরাজ উদ্দিন খানের মুদির দোকানের ভেতরের কক্ষে কন্যা শিশুকে যৌন নিপীড়নের পর রাত ৯টায় স্থানীয় একটি ক্লাব কক্ষে শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে মাদরাসার বিরতির সময় কলম কিনতে মুদি দোকানদার মিরাজ খানের দোকানে গেলে মিরাজ খান শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তার দোকানের ভেতরের কক্ষে নিয়ে যায়।

সেখানে শিশুর জামা কাপড় খুলে স্পর্শকাতর স্থানে পাশবিক আচরণ করে। শিশু শিক্ষার্থী বাড়িতে গেলে তাকে গোসল করানোর সময় যৌন নিপীড়নের বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি তার মায়ের কাছে জানায়।

ঘটনাটি শিক্ষার্থীর মা মাদরাসা শিক্ষকদের জানালে তারা স্থানীয় মেম্বার ও সমাজপতিদের জানান। এতে সমাজপতিরা রাতে একটি সামাজিক ক্লাবে বসে সালিশের আয়োজন করেন।

সালিশে জেরার মুখে শিশুকে যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করেন মিরাজ খান। এতে উপস্থিত ইউপি সদস্য ও সমাজপতিরা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও কান ধরান এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেনা মর্মে একটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন।

এছাড়া নির্যাতিত শিশুর পরিবার থেকেও সালিশ মেনে নেওয়ার স্বীকৃতিস্বরুপ জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে। সালিশকারীদের পক্ষ থেকে থানা পুলিশে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয় পরিবারটিকে।

এমনকি থানা পুলিশে গেলে সমাজচ্যুত কারার ভয় দেখানো হয়। ভয়ে আতঙ্কে ও সমাজচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় আইনি সহায়তা নিতে পারছেন না পরিবারটি।

যৌন নিপীড়নের স্বীকার শিশুর মা বলেন, আমার স্বামী ও দেবর বিদেশে থাকে। আমরা শুধুমাত্র মহিলারা দেশে আছি। আমাদের কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। তাই তারা যা করেছে তা মেনে নিতে হচ্ছে। ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে সেগুলো নাকি সরকারি রাস্তা মেরামতের কাজে ব্যয় করবে। আমার টাকার প্রয়োজন নেই। আমার ও আমার মেয়ের নিরাপত্তা চাই। আর আমার মেয়ের সাথে যে খারাপ আচরণ করেছে তার বিচার চাই। এমন বিচার চাই যাতে অন্য কোন শিশুর সাথে এমনটা করতে যে কেউ ভয় পায়।

খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ইউসুফ হারুন জানান, শালিসে সমাজের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সকলের সম্মতিক্রমে উপযুক্ত বিচার করা হয়েছে, তবে কোনো জরিমানা বা মুচলেকা নেওয়া হয়নি।

কিন্তু সরজমিনে গিয়ে তাদের বক্তব্যের ভিন্নতা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষ থেকে থেকে স্বাক্ষর নেওয়া একটি ১শ টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। শালিসে উপস্থিত ১৩ জন স্বাক্ষরিত একটি তালিকাও পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায় মূল শালিসকারী মেম্বার ইউসুফ হারুনের কোন স্বাক্ষর নেই।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত মিরাজ উদ্দিন খানের ফোন নাম্বারে কল করে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু বলেন, শিশু যদি ধর্ষিত না হয় উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে আপোষ মীমাংসা করা সম্ভব। তবে শরীরের যৌন নিপীড়নের কোনো আলামত থাকলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার সুযোগ নেই।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি যত ছোট মনে করেছিলাম। আসলে তত ছোট নয়। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড