• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিল্পায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনব: প্রধানমন্ত্রী

  এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই

২১ নভেম্বর ২০২২, ১৩:০৫
প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যত্রতত্র কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে না। আবাদি জমি ও তিন ফসলি জমির কোনো ক্ষতি করা যাবে না। শিল্পায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনব।’

তিনি রবিবার সকালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) ৫০ টি শিল্প ইউনিট, প্রকল্প ও সুযোগ- সুবিধা গণভবন থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করে এই কথা বলেন। মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ৪ শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন, বাংলাদেশের ম্যাকডোনান্ড ও টিকে গ্রæপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের প্রশাসনিক ভবন, ২০ কিলোমিটার শেখ হাসিনা সরণি, ২৩০ কেভিএ গ্রিডলাইন ও সাবস্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় বসুন্ধরা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বসুন্ধরা প্রিফেব্রিকেটেড বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, কিয়াম মেটাল লিমিটেড, এসকিউ ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড, সামুদা ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড ও বেজার পানি শোধানাগার প্লান্টের।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্বেও ৫০ টি শিল্প ইউনিট ও অবকাঠামোর উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়ে আজ আমি খুবই আনন্দিত।’ বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাবের কারণে বাংলাদেশ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিরসরাই শিল্পাঞ্চলের আশপাশে যেসব ফসলী জমি রয়েছে সেগুলো ফসলী হবে।’ জাপান ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, এক পাশে ইন্ডাষ্ট্রি আরেক পাশে পুরো ধানক্ষেত। আমি ধানক্ষেতে নিজে নেমে দেখে এসেছি। আমাদের দেশেও সেভাবে হতে পারে। আমরা সেটাই চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দেন এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মান ও মর্যাদা বিশ্বে যেন আরো বৃদ্ধি পায় সে পদক্ষেপ নেয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি বলেই ২০২১ সালে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটা ধরে রাখতে হবে। সেজন্য আমাদের ব্যাপক শিল্পায়ন দরকার। কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিসহ আমাদের নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি করে তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে নিজস্ব বাজার সৃষ্টি হয়। সরকার সে কারণেই সারাদেশে ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বেশ কয়েকটি ইপিজেড নির্মাণ করেছে। শিল্প মালিকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের ইন্ডাস্ট্রি চালিয়ে অন্তত দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের প্রচেষ্টা চালাবেন আপনারা। আওয়ামী লীগ সরকার আপনাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। এখন আর হাওয়া ভবন নাই যে আপনাদের কোন কাজ পেতে হলে সেখানে পাওনা ঘুচাতে অথবা এখানে ওখানে ছোটাছুটি করতে হবে। আমরা দেশকে নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন। ব্যবসার ক্ষেত্র প্রস্তুত এবং সুযোগ-সুবিধা আমরা করে দিচ্ছি। আপনারা প্রত্যেকেই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, যত বেশি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন আমরা সরকার তত বেশি আপনাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু এমন কিছু করবেন না যাতে মানুষ কষ্ট পায় বা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তিনি বলেন, কৃষিজমি যেমন আমাদের বাঁচাতে হবে তেমনি শিল্পোৎপাদনও করতে হবে। সেজন্য যত্রতত্র যেন শিল্প গড়ে না ওঠে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন করে দেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগের জন্য আসছে। আমরা একেকটা দেশের জন্য একেকটা খন্ডে জমি দিয়ে দিচ্ছি। তারা নিজেদের মতো করে তাদের দেশ থেকে যে সমস্ত কোম্পানি আসবে তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। তাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে এবং সেই সাথে আমাদের দেশের যা প্রয়োজন তাও মিটাবে এবং বিদেশে রপ্তানিও করবে। তিনি বলেন, এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এখান থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে ইতোমধ্যে ২৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদন করছে এবং ৬১ টি শিল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া সকল অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ দ্রুত হয়েছে। ঢাকা থেকে আরও অল্প সময়ের মধ্যে যাতে রেলে চট্টগ্রামে পৌঁছানো যায়, সেই জন্য নতুন রেল লাইনের চিন্তা করছি। এটা আমরা কবর। পাশাপাশি মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ এবং চার লেনের মহাসড়ক ৬ লেন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে ফেনী, মিরসরাই ও সীতাকুন্ডের দেশের সর্ববৃহত শিল্পনগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে (মিরসরাই-সীতাকুন্ড-ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চল) এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৩ একর জমিতে ১৩৬ টি প্রতিষ্ঠান ১৭ হাজার ৮৩৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। যেখানে প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার ৫৯৩ জনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধন হওয়া ৪ টি শিল্প কারখানার মধ্যে ম্যাকডোনান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রিফেব্রিকেটেড স্ট্রাকচারাল স্টিল তৈরি করে, যা ইস্পাত সেতু ও উঁচু ভবন, কারখানা এবং পাওয়ার প্লান্টে ব্যবহৃত হয়। ম্যাকডোনান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বিনিয়োগ করেছে ৩৫ মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে। নিপ্পন অ্যান্ড ম্যাকডোনান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বিনিয়োগ করেছে ১৫ মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে। নিপ্পন এবং ম্যাকডোনান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আমদানি করা ইস্পাত, পারলিন, শিট এবং কয়েল থেকে এমএস প্লেট উৎপাদন করছে।

এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড পেইন্ট ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, ইমালসন উৎপাদন করে। কোম্পানিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে। পিএইচসি পাইলের প্রস্ততকারক সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ৮.২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ৪ একর জমিতে তাদের কারখানা নির্মাণ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ৮.২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড