• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাঁশখালীর বাজার মুলায় সয়লাব, ফলনে ও দামে খুশি চাষীরা

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

২১ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৫
মুলা

সকালে সূর্য উঠার আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাঁশখালী উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের মুলাচাষিরা। খুব ভোরে মুলা তোলে তা ধুঁইয়ে পরিস্কার করতে নিয়ে যায় ছড়ায়, পুকুরে কিংবা নানা ডোবায়। পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও সমতলেও হাইব্রিড মুলার আগাম চাষ হয়েছে এ উপজেলায়। পুর্ব পাহাড়ী অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত না থাকায় চাষীরা পাহাড় থেকে মুলা তুলে কাঁধে করে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। প্রতিদিন সকালে স্থানীয় বাজারগুলোতে মুলার সয়লাব হয়। সাদা সাদা মুলা'র সারিতে ভরে যায় হাঁট-বাজারগুলো। স্থানীয় পাইকারের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারেরা ভীড় জমায় তরতাজা সবজির বাজারে।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ে আগাম মুলা চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে। মুলাচাষে দ্বিগুন লাভ হয়েছে অনেকের। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরেও মুলার ব্যাপক ফলনে কৃষকের মুখে ফুটে উঠছে হাসি। গত একমাস আগে আগাম মুলার ভারপ্রতি দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন মুলার সয়লাব বেশী হওয়ায় বাজারে দাম একটু কমেছে।

পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ কৃষকই হাইব্রীড জাতের মুলাচাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় উপজেলার পূর্বে বিশাল বিস্তৃত পাহাড়ী জায়গায় ঢালু জমিতে বৈশাখ মাসের শুরুতেই মুলা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে চাষিরা। এ উপজেলার অধিকাংশ চাষী অন্যান্য সবজির পাশাপাশি মুলাচাষের সাথে সম্পৃত্ত আছে। চলতি মৌসুমে বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী চুম্মার পাড়া পাহাড়ি এলাকা ও শীলকুপের পুর্ব পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পরিমান মুলা উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়াও পুইছড়ি, চাম্বল, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া এলাকার পুর্ব পাহাড়ি এলাকায় হাইব্রীড জাতের আগাম মুলা'র চাষ হয়েছে। এসব স্থানে উৎপাদিত মুলা স্থানীয় শীলকুপের টাইম বাজার, চাম্বল বাজার, পুঁইছড়ি প্রেমবাজার, কালীপুরের সদর আমিন হাট, বৈলছড়ি কেবি বাজার, পুকুরিয়ার চৌমুহনী বাজারসহ প্রতিদিন সকালে পাইকারি বাজার বসে।

এ উপজেলার মুলাচাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, 'উপজেলার পূর্বে পাহাড়ে প্রচুর জায়গা রয়েছে।মুলাচাষের উপযোগী করে আমরা জ্যৈষ্ঠমাসে হাইব্রীড জাতের মুলার বীজ রোপন করি। বিশেষ করে কেডিএস জাতের মুলা রোপনের দিন থেকেই ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়। সাধারণ শ্রমিকের মজুরী ৭শত থেকে ৮শত টাকা, এতে প্রতিকানি লাগিয়ত সহ জমিতে মুলাচাষে শ্রমিকের খরচ মিলে ৪০-৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুলাচাষ করে আমরা দ্বীগুন লাভ পাই। গত বছরের তুলনায় এ বছর মুলার ফলন বেশী হয়েছে। গত একমাস আগে আমরা মুলার ভাল একটি মূল্য পেয়েছি। তাছাড়া আমাদের মুলার দেশীয় পাইকারের সমাগম রয়েছে।

আগাম মুলাচাষের জন্য বিশেষ করে বাঁশখালীর পুর্ব দিকের পাহাড়ি এলাকা খুবই উপযোগী। শীলকুপ টাইমবাজারে প্রতিদিন সকালে বসে মুলার পাইকারী বাজার। সপ্তাহের রবি-মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারে প্রতিবাজারে ২শত থেকে আড়াইশত মুলার ভার আসে। মিনিট্রাকে করে এসব মুলা চলে যায় শহরের খুচরা বাজারে।

এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারী হিসাবে মুলা ক্রয় করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারগণ পাইকারীদামে মুলা ক্রয় করে। গত একমাস আগে যে মুলার পাইকারী মুল্য ভারপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ছিল তা এখন ৭শত থেকে ৮শত টাকায় গড়িয়েছে। তবে বাজারে মুলা এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় প্রতিকেজি পাওয়া যায়।

উপজেলার পূর্ব শীলকূপের একজন মুলাচাষী আবু সিদ্দিক জানান, 'আমি নিজে জমির লাগিয়ত নিয়ে ১ কানিতে মুলা চাষ করি, পরে ২ কানি প্রস্তুত করা জমি নিয়েছি। কানিপ্রতি শ্রমিকের মজুরি ও লাগিয়তসহ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একমাস আগে মুলার ভারপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পেলেও এখন দাম একটু কমেছে। তবে কানিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার লাভ পাবো বলে আশা করছি।'

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সালেক জানান, 'বাঁশখালীতে বর্তমানে পাহাড়ী জমিতে মুলার ব্যাপক চাষ হয়েছে। হাইব্রীড জাতের মুলার আগাম চাষের ফলে বাঁশখালীতে মুলার বাম্পার ফলনে চাষীরা তাদের ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি। তাছাড়া আমরা বাঁশখালীতে কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করি। তারা আধুনিক পদ্বতিতে মুলা চাষ করেছে। অন্যান্য সময়ে সবজি উৎপাদনে প্রাকৃতিক আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলেও এসময় পাহাড়ে সবজি উৎপাদনে তেমন ঝুকি থাকেনা।'

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড