• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘জিনের সোনার পুতুল’ দেখিয়ে প্রতারণা, মিলছে না প্রতিকার

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও

১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৬:১৪
‘জিনের সোনার পুতুল’ দেখিয়ে প্রতারণা, মিলছে না প্রতিকার
জিনের সোনার পুতুল (ফাইল ছবি)

দীর্ঘদিন যাবত জীনের সোনার পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল এলাকার নাজমা ওরফে ছুটুনি বুড়িসহ একটি চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে থানায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না অভিযোগকারীদের।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নাজমা রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল এলাকার আব্দুল বারেকের স্ত্রী। তিনি সম্প্রতি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজাহাট এলাকার মোজাফফর রহমানের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে গিয়ে তার অভাব-অনটনের বিষয় মোজাফফরকে বলেন। এক পর্যায়ে তাকে ধর্মের ছেলে বানিয়ে আত্মীয়তা তৈরি করেন।

গত ১০ নভেম্বর রাতে মোজাফফরের স্ত্রীসহ নাজমার বাড়িতে গেলে নাজমা বলেন, তার ঘরে জিনের পুতুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার রয়েছে। এগুলো মাটি থেকে তুলতে জিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চার মসজিদে মোট ৪ লক্ষ টাকা দান করতে হবে। আর এসব টাকা মোজাফফর রহমানের কাছে ধার বাবদ চান ছুটুনি বুড়ি।

তিনি যদি ধার দিতেন তাহলে দেওয়ার এক ঘণ্টা পরই পুতুলসহ স্বর্ণালংকার তুলে বিক্রি করে তাঁকে টাকাটা ফেরত দেবেন। এত টাকা দিতে রাজি হয়নি তিনি। পরে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করে ছুটুনি বুড়ি। এতে পরে মোজাফফর রহমান চিন্তা করে যেহেতু ধার চেয়েছে তাই কিছু দিয়ে সহযোগিতা করি। যেহেতু সে কিছুক্ষণ পরে টাকা দিয়ে দিবে। তাই তিনি স্ত্রীসহ ধার দেনা করে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ছুটুনি বুড়ির বাসায়। এরপর মোজাফফর তাকে ওই টাকা ধার দেন।

টাকা নেওয়ার পর মোজাফফর ও তার স্ত্রীকে বাড়িতে বসতে বলেন। এক পর্যায়ে বাড়িতে কয়েকজন এসে বলেন, আপনারা এত রাতে এখানে কী করেন। এখান থেকে চলে যান, না হলে সমস্যা আছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মোজাফফর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। পরে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের পরামর্শে পরদিন নাজমাসহ আটজনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মোজাফফর।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ছুটুনিবুড়ি দীর্ঘদিন যাবত প্রায় মানুষদের সাথে জিনের পুতুলের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে। তাকে সহায়তায় তার বাড়ীর আশপাশজুড়ে রয়েছে একটি বিশাল অপরাধ জগতের চক্র।

ছুটুনি বুড়ির প্রতারণার জালে ধরা পড়ে রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ এলাকার রশিদুল ইসলাম জানান, তাঁকেও জিনের পুতুলের কথা বলে এক লাখ টাকা প্রতারণা করেছেন নাজমা। একইভাবে উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের ভম্বল বানিয়া বলেন, জিনের পুতুলের স্বর্ণ তার কাছে বিক্রি করবেন এমন প্রলোভন দেখিয়ে নাজমার বাড়ি কোচলে ডেকে নিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে নেন। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেন নাজমার লোকজন।

এ দিকে অভিযোগ দেওয়ার ছয়দিন অতিবাহিতর পর গত বৃহস্পতিবার রাণীশংকৈল থানার ওসি জাহিদ ইকবাল ও সহকারী পুলিশ সুপার (রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় না, তাছাড়াও এ ঘটনার কোন সাক্ষী প্রমাণ নেই। এ কারণে তারা মামলাটি নিতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী মোজাফফর রহমান বলেন, ছুটুনি বুড়ির কাছে যারা প্রতারিত হয়েছে তারা স্বর্ণ পুতুল ও রুপার টাকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি তাকে সরল মনে টাকা ধার দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এভাবে প্রতারিত হব ভাবতে অবাক লাগে। ঘটনার পরের দিন ১১ নভেম্বর সকালে যখন ঘটনাস্থলে যাই। সেখানকার এলাকার লোকজন বলল এটা দীর্ঘদিন যাবত এমন প্রতারিত করার কাজ করে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা করে লাভ নেই। কারণ এরা শক্তিশালী চক্র।

থানায় অভিযোগ দেওয়া সহ সকল কাজে প্রথম থেকেই ভুক্তভোগীর সাথে ছিলেন তার আত্মীয় হদয়। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি। প্রতারক চক্রটি প্রতারিত করার ঘটনা ঘটায় রাণীশংকৈল থানার সীমানার ১০০ গজ পার হয়ে পীরগঞ্জ থানায়। আর বসবাস করে রাণীশংকৈল থানায়। এবং প্রতারিত করেন রাণীশংকৈল থানার লোকজনকে। কারণ ভুক্তভোগীরা যাতে কোন ব্যবস্থা নিতে বিলম্বনায় পরে। এই প্রতারক চক্রের ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে যাই না। এর শেষ দেখার জন্য ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। কিন্তু রাণীশংকৈল থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় বলেছিল ব্যবস্থা নিব। কিন্তু ছয়দিন ঘুরার পরে এখন তারা বলে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করতে।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল মুঠোফোনে বলেন, ভুক্তভোগীকে থানায় আসতে বলছি। সে আসলে আমরা পীরগঞ্জ থানায় বলে দিব সেখানেই মামলা হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি, রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, পীরগঞ্জ থানায় বলে দিয়েছি সেখানে গেলেই মামলাটি হবে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অবশ্যই অপরাধীকে আইনের আওতায় নিতে পুলিশ বদ্ধ পরিকর। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মোজাফফর রহমানের অভিযোগের বিষয়টি আমি গত দুদিন ধরে শুনেছি, তারা আগে কতদিন থানায় ঘুরেছে তা তার তেমন জানা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড