• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মোড়ায় ভর দিয়ে ভিক্ষা করেন জামেরুন

পান না সরকারি কোনো সুবিধা

  শুভংকর পোদ্দার, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ)

১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২৩
মোড়ায় ভর দিয়ে ভিক্ষা করেন জামেরুন
বৃদ্ধা জামেরুন (ছবি : অধিকার)

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দানিস্তপুর গ্রামের বৃদ্ধা জামেরুন। বয়স আশি ছুঁইছুঁই। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে করছেন মানবেতর জীবনযাপন। বয়সের ভারে এমনিতেই ন্যুয় পড়েছে শরীর। তিনবছর আগে আছাড় পড়ে কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর থেকে দাড়াতেও পারেন না তিনি।

ছোট্ট প্লাস্টিকের মোড়ায় (টুল) ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে করেন চলাচল। টাকার অভাবে করাতে পারেননি চিকিৎসাও। এমন মানবেতর জীবনযাপন করে চললেও সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না বলে জানান জামেরুন।

সরজমিনে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে তার বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। ঘর-বাড়ি হারিয়ে ওই সময় আশ্রয় নেন পাশের গ্রাম নয়ারহাটে। সেখান থেকে বাড়ি করেন সদর উপজেলার বরুন্ডি গ্রামে। প্রায় আট বছর আগে বরুন্ডি গ্রাম ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়ির ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া দানিস্তপুর গ্রামের ৬ শতাংশ জায়গায় ঘর উঠিয়ে বসবাস করছেন।

প্রায় ১৬ বছর আগে মারা যান জামেরুনের স্বামী ছকেল দরানী। চার সন্তানের জননী হলেও দুই সন্তান মারা যায় অনেক আগেই। বর্তমানে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে শুকুর আলী পেশায় দিনমজুর। তারও রয়েছে দুই সন্তান। দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ মাসহ ৫ জনের সংসার চালানো তার পক্ষে কষ্টকর।

ছেলের দৈন্যদশা দেখেই বৃদ্ধ বয়সেও গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করেন জামেরুন। জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ভুল হওয়ায় বয়স্ক ভাতা থেকেও বঞ্চিত তিনি। এছাড়াও সরকারি অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধাও মিলছে না তার ভাগ্যে।

যদিও একাধিক এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন জামেরুন। ছেলে-মেয়েরা ছোট থাকা অবস্থা থেকেই তিনি এ কাজ করছেন। এখন এক ছেলে দিনমজুরের কাজ করলেও তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে পারে না। তাই এই বৃদ্ধ বয়সেও মোড়ায় ভর করে ভিক্ষা করতে হয় জামেরুনকে।

জামেরুনের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, পাশের বাড়ির উঠানে বসে আছেন জামেরুন। বয়সের কারণে কানেও অনেকটাই কম শোনেন। কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি মোড়ায় ভর করে নিজের বাড়ির উঠানে এসে বসেন।

ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এই ভিক্ষা কইরা খাওয়াইয়া আমার বুড়ারে কবরে পাঠাইছি। জমিজমা যা ছিল তা অনেক আগেই সে বিক্রি কইরা দিছে। বাকি যতটুকু ছিল তাও পদ্মায় নিয়া গেছে। ৪ বছর আগে মাটিতে পইড়া যাইয়া কোমরে ব্যথা পাওয়ায় অহন আর হাঁটবার পারি না। তাই এই মোড়ায় ভর দিয়া যতদূর পারি গ্রামে গ্রামে ঘুইরা যা পাই, তাই খাই।

জামেরুনের ছেলে শুকুর আলীর স্ত্রী জমেলা বেগম বলেন, শুকুর আলীর একার রোজগারে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তারপরেও তাকে আমরা ভিক্ষা করতে যেতে বারণ করি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেন না।

বলড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না। আমি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে বলে দিব, তার কাগজপত্র যেন দ্রুত সংগ্রহ করে। কাগজপত্র হাতে পেলেই যত দ্রুত সম্ভব সরকারি একটা ভাতার তালিকায় তার নাম দেয়ার জন্য চেষ্টা করব।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুতই তাকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড