• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিভক্ত রাজনীতিই বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারণ

  রাফিকুর রহমান লালু, রাজশাহী

১৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৮
বিভক্ত রাজনীতিই বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারণ

মাঠে নেই সমালোচনায় আছে, মাঝে মধ্যেই বড় সড় হুমকি। অপর দিকে বিএনপির অন্য আরেকটি গ্রুপ সরকারি দলের সাথে মিশে পিঠ বাঁচাতে অস্থির হয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গণের সূত্র মতে, বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল পিছিয়ে পড়ার মুল কারণ দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আর এই সকল কোন্দল কোনোভাবেই মিটাতে পারছেন না দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা।

রাজশাহী অঞ্চলের দুর্গাপুর পৌরসভায় গতকাল ১৬ নভেম্বর উপ নির্বাচন হয়েছে। সেখানে বিএনপির ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কিন্তু ভোটারদের উপস্থিতি হওয়ার বিষয় নিয়ে বিএনপি বরাবর সরকারি দলকে দোষারোপ করে আসছেন। আসলে বিএনপির দলের ভেতরের ভাঙনকে কোনো নেতারাই সামনে আনতে চান না।

সূত্র বলছে, রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলাতে বিএনপি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক অধিকারকে বলেন- বিএনপির উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি নেতার বসবাস রাজশাহী অঞ্চলে হওয়ার কারণে তারা দলের ভারি পদ পদবি বাগিয়ে নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।

বিএনপির ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা হিমসিম খাচ্ছেন তাদের দলের মূলধারার নেতা বাছাইয়ে। সম্প্রতি রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখে এই সমাবেশ ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। পূর্বে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নিয়ন্ত্রণে পুরো রাজশাহী মহানগর থাকলেও এখন নগরেই হয়েছে একাধিক গ্রুপ।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট সাবেক মেয়র প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান মিনুর সাথে দল গোছাতে কাজ করছেন। অপর দিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক মেয়র বন ও পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় নির্বাহী কমিটর সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুল বুল রাজশাহী নগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রসিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা আসলাম সরকারসহ নয়জন মিলে গঠিত হয়েছিল আহ্বায়ক কমিটি।

সূত্র বলছে- এই আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভির অনুসারী বলে পরিচিত তারা। অপর দিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ দীর্ঘ সময় ধরেই রয়েছেন অন্তর দ্বন্দ্বে। তাদের অনুসারীদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। দুই নেতার অনুসারীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভক্ত হলেও মূলত পুঠিয়া, চারঘাট ও দুর্গাপুর উপজেলায় এদের সমর্থক বেশি।

বিএনপির রাজনীতিতে এই দুই নেতার যথেষ্ট অবদান থাকার কারণে দলের উচ্চপর্যায়ে একাধিক বার বৈঠক করেও তাদের কোন্দল মিটাতে সক্ষম হননি তারা। বিভিন্ন জনসভায় নিজ দলের নেতা কর্মীদের বদনাম করতেও দেখা গেছে এই দুই গ্রুপের নেতা কর্মীদের। জেলা বিএনপির নেতা কর্মীরা ৩রা ডিসেম্বরের রাজশাহী সমাবেশকে ঘিরে পড়েছেন বিপাকে। কোনো নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকলে মূল ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা যাবে সেটি নিয়ে তারা বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড