• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উপকূলে পড়েছে লবণচাষের ধুম, দ্বিগুণমূল্য পেয়ে চাষিদের মুখে হাসি

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

১৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪১
উপকূলে পড়েছে লবণচাষের ধুম, দ্বিগুণমূল্য পেয়ে চাষিদের মুখে হাসি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চল লবণ শিল্পের খাতকে করেছে সমৃদ্ধ। বরাবরের মতো এ বছরের শীত মৌসুমের শুরুতেই লবণ উৎপাদনে উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ লোকের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ লবণচাষের উপর নির্ভরশীল।

এখানকার লবণচাষিরা দিনের পুরোটাই সময় ব্যয় করছেন লবণ উৎপাদনে। ভোরে সূর্য উঠার সাথে সাথে লবণচাষিরা মাঠ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল থেকেই সন্ধ্যাবধি বিরতীনভাবে মাঠে কাজ করে চাষিরা। এতে পুরোদস্তুর সময় দিচ্ছে দিনমজুরসহ চাষিদের সন্তানেরাও।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চিংড়ির ঘের গুঠিয়ে লবণের ব্যাপক উৎপাদনের লক্ষ্যে লবণ চাষিরা মাঠেই ব্যস্ত সময় পার করছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে দেশের কক্সবাজার এবং খুলনার পর চট্টগ্রামের একমাত্র বাঁশখালীতেই লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। বাঁশখালীতে পুইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বলের ডিপুটিঘোনা, শীলকুপের পশ্চিম মনকিচর, সরল, মিনজির তলা, কাথরিয়া, খানখানাবাদ (আংশিক) এলাকায় লবণের ব্যাপক উৎপাদন হয়ে থাকে।

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও এখানকার প্রায় কয়েক হাজার লবণচাষি লবণ উৎপাদনের কাজে মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি সময়ে এই লবণের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিদের মজুদকৃত লবণ বিক্রির ধুম পড়ে গেছে তাদের মাঝে।

ছনুয়া ইউনিয়নের ছেমটখালীর লবণ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান, শেখেরখীল এলাকার লবণচাষি ছৈয়্যদ নুর, মোজাফফর, কালাম, নুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন লবণমাঠ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতিকানি লবণের মাঠ লাগিয়ত হয়েছে স্থানভেদে ২০ থেকে ২৫ হাজার ও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। উচ্চ দাম পাওয়ায় লবণ চাষে আগ্রহী হয়েছে উপজেলার এ অঞ্চলের লোকজন। যার ফলে অনাবাদী জমি পড়ে নেই একটুও।

তারা বলেন- আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ যদি বিরাজমান থাকে; তবে আমরা বিগত সময়ের চেয়ে আশানুরূপ লবণ উৎপাদন করতে পারবো। যদি শেষ পর্যন্ত এই দাম অব্যাহত থাকে তাহলে বাঁশখালীর উপকূলীয় কয়েক সহস্রাধিক লবণ চাষি তাদের পরিশ্রমের সুফল পাবে এই আশা তারা রাখছে। ন্যায্য মূল পাওয়ায় লবণও মজুদ নেই বলে জানান চাষিরা।

উত্তর পশ্চিম গন্ডামারা লবণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লি. এর সহ সভাপতি ওসমান গণি দৈনিক অধিকারকে জানান, এ বছর লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কোন লবণ মজুদ নাই, সব বিক্রি করে দিয়েছে।

এ বছর চাষিরা ভাল দাম পেয়ে খুশি। বস্তাপ্রতি (দুইমণ) লবণের দাম ১১শত ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমণ লবণ (অপরিশোধিত) মাঠ থেকে সাড়ে ৪শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এ লবণের মণপ্রতি দাম ছিল ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। আমাদের পুরো গন্ডামারা ইউনিয়নে ৫শত থেকে ৬শত লোক লবণচাষে জড়িত। এখন তারা লবণমাঠে ব্যস্তসময় দিচ্ছে।

এনজিও সংস্থা পদক্ষেপের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক জোনাল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বাঁশখালীতে পরিবেশ বান্ধব সামুদ্রিক লবণ উৎপাদন বিষয়ক কর্মশালায় লবণচাষিদের সচেতন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পলিথিন পদ্ধতিতে সাদা দানাদার ও পরিপক্ব লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের লবণের চাহিদা পূরণ করার জন্য উদ্যোক্তা ও চাষিদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এতে তারা নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীতে মোট ৭০ হাজার একর জায়গায় লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে বিসিকের আঞ্চলিক অফিস। সেখানে নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে লবণ উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকেন চাষিরা। ইতোমধ্যে বাঁশখালীর উপকূলে উন্নত পদ্ধতিতে সাদা দানাদার ও পরিপক্ব লবণ উৎপাদনে চাষিদেরকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে বিসিক।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বাঁশখালী উপজেলার কেন্দ্র প্রধান আনসারুল হক দৈনিক অধিকারকে বলেন, সরকার চলতি মৌসুমে দেশে লবণ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করতে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদেশ থেকে যাতে লবণ আমদানি করতে না হয় সে লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে ৬০ হাজার একর জমিতে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন পরিশোধিত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড