• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইজারা বাতিলের ষড়যন্ত্র 

ক্ষমতা পেয়েই ৪০ মন মাছ চুরি : যুব উদ্যোক্তাকে হয়রানী

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

১৬ নভেম্বর ২০২২, ১৬:২১
ক্ষমতা পেয়েই ৪০ মন মাছ চুরি : যুব উদ্যোক্তাকে হয়রানী
মাছ ধরা হচ্ছে (ফাইল ছবি)

ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতায় এসে অবৈধ সুবিধা না পেয়ে লিজকৃত বিলের ৪০ মন মাছ জোরপূর্বক উত্তোলন, প্রাণনাশের হুমকি এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে লিজ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসার সভাপতির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী তরুণ যুব উদ্যোক্তা হয়রানী থেকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত নিয়েছেন আদালতের আশ্রয়।

ঘটনাটি জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার শাহ বাজার এএইচ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার স্বত্ব দখলীয় ৩টি মৎস্য প্রকল্পে ঘটেছে।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ির শাহ বাজার এএইচ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার নিজস্ব দখলীয় সম্পদ মরানদী নামীয় শামাবিল-১, শামাবিল-২ ও শামাবিল-৩ মৎস্য প্রকল্পের ৯দশমিক ৫০ একর জায়গা ১৫ বছরের জন্য লীজ গ্রহণ করেন ফুলবাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ঠাকুরপাঠ এলাকার আতাউর রহমানের পুত্র তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদি হাসান।

২০১৭ সালের প্রবল বন্যায় লিজকৃত বিল তিনটির দুইপাড় পানিতে ভেসে যায়। মাঝখানে বালু ভরাট হয়ে গেলে মাছ চাষের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পরে। ফলে মাদরাসা কমিটি বিল তিনটি ইজারা দিতে পারছিল না।

পরবর্তীকালে বিল সংস্কার ও মাঝখানে ভরাটকৃত বালু উত্তোলন সাপেক্ষে দীর্ঘ মেয়াদে তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসানকে ১৫ বছরের জন্য বিল ৩টি ইজারা প্রদান করা হয়। প্রথম ৫ বছরে সংস্কার কাজের জন্য লিজ গ্রহণকারী এক লক্ষ টাকা প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্পের মালিকানাভুক্ত হন। যা চুক্তিপত্রের ২নং শর্তে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সাল থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৫১ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে নোটারী পাবলিকে উভয়পক্ষ এফিডেভিটের মাধ্যমে চুক্তিনামা সম্পাদন করেন বিগত ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। চুক্তির পরপরই শর্ত মোতাবেক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ধরলা নদী সংলগ্ন বিলের দুই পাড়ে বাঁধ নির্মাণ, জলাশয় পুন:খনন, পাড় সংস্কার, পোনা অবমুক্তকরণ, বিভিন্ন প্রকার ফলদ ও বনজ বৃক্ষাদি রোপণ, নাইটগার্ড ও শ্রমিক নিয়োগসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদি হাসান।

এর মধ্যে ২০১৯ সালের ৬ মে মো. আবুল কাশেম সরকার মাদ্রাসাটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর ২০২১ সালে মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে চলতি বছর নতুন গভর্নিং কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন ফুলবাড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ।

সভাপতির ক্ষমতা পেয়েই হারুন অর রশিদ লিজ গ্রহণকারী মেহেদি হাসানের কাছে ৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের মাধ্যমে এককভাবে ইজারা চুক্তিপত্র বাতিল করে দেন। এরপর চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর নতুনভাবে ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

এ সময় ইজারা গ্রহণকারীদের কোন প্রকার নোটিশ প্রদান বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেয়া হয় নাই। এ দিকে বিশাল অর্থ লগ্নি করে নতুন কমিটির কাছে সহযোগিতা না পেয়ে সুবিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান। তিনি অবৈধভাবে নতুন করে লিজ নোটিশ প্রদানের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম বিজ্ঞ জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫১/২০২২।

বিজ্ঞ আদালত সন্তোষজনক জবাবের জন্য সভাপতি ও অধ্যক্ষকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ প্রদান করেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে লিজকৃত বিলে দু’দফায় গত ৪ নভেম্বর ও ৫ নভেম্বর দু’দিনে ২০মন করে ৪০মন মাছ জলাশয় থেকে জোরপূর্বক উত্তোলন করেন।

যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। পরে জোরপূর্বক মাছ চুরির অভিযোগ এনে মেহেদি হাসানের মামা ও প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানকারী মো. মোছাদ্দেক হোসেন বাদী হয়ে চলতি মাসের ৭ তারিখে ফুলবাড়ি বিজ্ঞ আমলি আদালতে দণ্ডবিধি ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৪২৭৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলা নং-৪৮/২০২২ইং। মামলায় আসামিরা হলেন- ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম সরকার, নজির হোসেন, জালাল উদ্দিন, নৈশ প্রহরী হাবিবুর রহমান, মিলন মিয়া, শ্রী কমলচন্দ্র বিশ^াসসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন।

এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কাশেম সরকার জানান, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। মাদরাসাকে তারা কোনো টাকা-পয়সা দেয় নাই। তৎকালীন অধ্যক্ষ জানিয়েছেন তিনি কোনো টাকা পান নাই। পুকুর সংস্কার আমরাই করেছি।

রংপুর বিভাগ মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তর থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৪৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার বিল সংস্কারের কাজ করা হয়। একই কথা জানালেন শাহ বাজার এএইচ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফুলবাড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ।

তিনি জানান, নথি খুঁজে দেখি মাদরাসাকে এক লক্ষ টাকা প্রদান করা হয় নাই। তারা রশিদ দেখাতে না পারায় চুক্তি ভঙ্গের জন্য উকিলের মাধ্যমে দুটি নোটিশ দিয়েছি। তারা ভুল স্বীকার করে নাই। এজন্য চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে ইজারার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদি হাসান বলেন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ২৮ লক্ষ টাকা লগ্নি করে পতিত বিলগুলো আমি গত দুই বছর ধরে (২০১৮-১৯) সংস্কার করে মৎস্য চাষের জন্য উপযুক্ত করি। আমার কাজের পর সরকারি উদ্যোগে মৎস্য বিভাগ থেকে বিলগুলোতে কতটুকু কাজ হয়েছে তা স্থানীয়রা ভাল বলতে পারবেন। উভয়পক্ষ এফিডেভিট করে নগদ এক লক্ষ টাকা দিয়ে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করি। টাকা দিয়েছি বলেই গত ৫ বছর ধরে বিল সংস্কার ও মৎস্য চাষ করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, এখন নতুন কমিটি অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে নানান কথা বলছে। তারা আমার দিকটা দেখছে না। বাদী পক্ষ আমার আইনগত অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। তারা মাইকিং করে পুকুরের সব মাছ তুলে নিয়ে গেছে। এখন চুক্তি বাতিল করলে সর্বস্বান্ত হয়ে যাবো। সুবিচার পেতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড